আশা ইসলাম
রিপোর্টার
কুরআনের যে নির্দেশটি আল্লাহ ৪০ বার দিয়েছেন
নিজস্ব প্রতিবেদক: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবন ছিল ইনসাফ ও আমানতদারিতার শ্রেষ্ঠ নজির। মক্কার যে মানুষগুলো তাঁর ধর্ম গ্রহণ করেনি, যারা তাঁকে অবর্ণনীয় নির্যাতন ও নিপীড়ন করেছে, তারাই কিন্তু একসময় তাঁকে ‘আল-আমিন’ বা পরম বিশ্বস্ত উপাধিতে ভূষিত করেছিল। এমনকি চরম শত্রুতা সত্ত্বেও মক্কাবাসীরা তাদের মূল্যবান ধন-সম্পদ ও আমানত রাসূলের (সা.) কাছেই গচ্ছিত রাখত।
আমানতদারিতার এক অনন্য নজির:
মক্কার কাফেরদের অত্যাচারে যখন রাসূলুল্লাহ (সা.) নিজের জন্মভূমি ছেড়ে মদিনায় হিজরত করতে বাধ্য হচ্ছিলেন, সেই কঠিন মুহূর্তেও তিনি মানুষের আমানতের কথা ভুলে যাননি। তিনি জানতেন না আদৌ ফিরে আসতে পারবেন কি না, তবুও তিনি তাঁর স্নেহভাজন আলী (রা.)-কে নির্দেশ দিয়ে গেলেন যেন তিনি তিনদিন মক্কায় অবস্থান করেন এবং যার যার আমানত সসম্মানে বুঝিয়ে দিয়ে তবেই মদিনায় আসেন। চরম শত্রুর প্রতিও এই যে আমানতদারিতা, তা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল।
কুরআনের নির্দেশ ও ইনসাফের গুরুত্ব:
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা স্পষ্টভাবে নির্দেশ দিয়েছেন যে, কারও প্রতি শত্রুতা যেন আমাদের ইনসাফ থেকে বিচ্যুত না করে। সুরা মায়েদাহ-তে আল্লাহ বলেছেন, কারও প্রতি ঘৃণা বা শত্রুতা যেন তোমাদের ইনসাফ না করার দিকে প্ররোচিত না করে। তোমরা ইনসাফ করো, এটাই তাকওয়ার নিকটতর।
পবিত্র কুরআনের বিভিন্ন পাতায় পাতায় ‘আদল’, ‘কিসত’ বা বিভিন্ন প্রতিশব্দ ব্যবহার করে আল্লাহ তাআলা প্রায় ৪০ বার ইনসাফ বা ন্যায়বিচারের নির্দেশ দিয়েছেন। আমরা অনেকেই মনে করি ইনসাফ কেবল বিচারকদের কাজ, কিন্তু বাস্তবে এটি প্রতিটি মানুষের প্রাত্যহিক জীবনের অংশ।
আমাদের দৈনন্দিন জীবনে ইনসাফ:
একজন মুমিনের জীবনে প্রতিদিন অসংখ্যবার ন্যায়বিচারের প্রশ্ন সামনে আসে। নিজের সন্তানদের উপহার দেওয়ার ক্ষেত্রে, মসজিদে অন্যদের বসার জায়গা করে দেওয়ার ক্ষেত্রে, কিংবা একজন রিকশাচালকের প্রাপ্য বুঝিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রেও ইনসাফের প্রয়োজন রয়েছে। এমনকি কোনো বিবাদ বা জটলায় নিজের বন্ধু বা পরিচিত কেউ জড়িত থাকলে, অন্ধভাবে তার পক্ষ না নিয়ে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে কথা বলাটাই হলো প্রকৃত ইনসাফ। বন্ধু ভুল করলে তাকে সংশোধন করে দেওয়া এবং ভুল স্বীকার করতে উৎসাহিত করার মতো মেরুদণ্ড একজন খাঁটি ঈমানদারের থাকা প্রয়োজন।
পাশ্চাত্য বনাম মুহাম্মাদী আদর্শ:
বর্তমানে বিশ্বের অনেক উন্নত সমাজে হয়তো সারিবদ্ধভাবে বাসে ওঠা বা নিয়ম মানার মতো বাহ্যিক ইনসাফ দেখা যায়, কিন্তু সেখানেও অনেক সময় গভীর অবিচার লুকিয়ে থাকে। যেমন, সেই সমাজের ট্যাক্সের টাকায় যখন অন্য কোনো দেশের নিরীহ মানুষের ওপর বোমা ফেলা হয়, তখন অনেকেই নিশ্চুপ থাকেন। কিন্তু মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শ এমন এক পূর্ণাঙ্গ আলো, যা জীবনের প্রতিটি স্তরে—সামনে কিংবা পেছনে—সবখানেই ইনসাফ ও স্বচ্ছতার দাবি রাখে।
আজ আমাদের ঘর থেকে শুরু করে সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে যে হাহাকার, তার প্রধান কারণ হলো ন্যায়বিচারের সংকট। এই সংকট থেকে উত্তরণের একমাত্র পথ হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সীরাত বা জীবনচরিত অধ্যয়ন করা এবং তা নিজের জীবনে প্রতিফলন ঘটানো। সমাজ পরিবর্তনের জন্য এর চেয়ে কার্যকর আর কোনো পথ নেই।
আশা/
আপনার জন্য নির্বাচিত নিউজ
- আজকের সকল দেশের টাকার রেট: ২৪ মে ২০২৬
- আজকের সোনার বাজারদর: ২৪ মে ২০২৬
- বিশ্বকাপে কোচদের দাপটে শীর্ষে আর্জেন্টিনা, দ্বিতীয় স্থানে ফ্রান্স
- সোমবার থেকে টানা ঈদের ছুটি শুরু, যারা পাবেন না ছুটি
- দুপুরের আগেই ৪ অঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টির সতর্কতা
- নতুন পে-স্কেল: কার কত বাড়ছে বেতন, কোন গ্রেডে কত সুবিধা
- দেশের বাজারে আজ একভরি সোনার
- আজকের সোনার বাজারদর: ২৫ মে ২০২৬
- হোয়াইট হাউসের কাছে গোলাগুলি, যা জানা গেল
- পাকিস্তানে ভয়াবহ ট্রেন বিস্ফোরণ, নিহত অন্তত ২৪, আহত বহু
- চোটের ধাক্কায় বিশ্বকাপ পরিকল্পনায় বদল আনছে আর্জেন্টিনা
- কোরবানির চামড়া নিয়ে বড় সুখবর
- সীমান্তে ভয়াবহ মাইন বিস্ফোরণ, প্রাণ গেল ৩ বাংলাদেশির
- বাজারে সরাসরি সয়াবিন তেল বিক্রি করবে টিসিবি, লিটারে মিলবে ১৪ টাকা কমে
- যেসব যাত্রীর জন্য ট্রেন ভাড়ায় ২৫% ছাড়!
