রামিসার মামলায় চার্জশিটে যা উঠে এলো
নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকার পল্লবীতে সাত বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় আদালতে চার্জশিট বা অভিযোগপত্র দাখিল করেছে পুলিশ। তদন্ত কর্মকর্তার জমা দেওয়া এই চার্জশিটে উঠে এসেছে গা শিউরে ওঠার মতো সব চাঞ্চল্যকর ও ভয়াবহ তথ্য।
ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চার্জশিটটি জমা দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পল্লবী থানার উপপরিদর্শক মো. ওহিদুজ্জামান। পরবর্তীতে মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়।
মূল অভিযুক্ত ও সহযোগী
* প্রধান আসামি: সোহেল রানা। তার বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও সরাসরি হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ আনা হয়েছে।
* সহযোগী আসামি: স্বপ্না আক্তার, সোহেলের দ্বিতীয় স্ত্রী। তার বিরুদ্ধে অপরাধে সহযোগিতা ও আলামত গোপনের চেষ্টা করার অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
অপরাধের নেপথ্যে: ফ্ল্যাটের পরিবেশ ও ঘটনার দিন
তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, পেশায় অটোরিকশা মেকানিক সোহেল রানা তার দ্বিতীয় স্ত্রী স্বপ্নাকে নিয়ে প্রায় আড়াই মাস আগে পল্লবীর ১১ নম্বর সেকশনের বি-ব্লকের একটি তিন কক্ষের ফ্ল্যাট ভাড়া নেন। ওই ফ্ল্যাটের অন্য দুটি কক্ষে থাকতেন মাসুদ পারভেজ ও জেসমিন আক্তার দম্পতি। সবার জন্য রান্নাঘর যৌথ হলেও সোহেলদের ঘরের সাথে একটি সংযুক্ত বাথরুম ছিল।
গত ১৯ মে প্রতিদিনের মতো সকাল ৬টার মধ্যেই পাশের রুমের দম্পতি কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হয়ে যান। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শিশু রামিসা ঘর থেকে বের হলে সোহেল তাকে ফুসলিয়ে নিজের ঘরে ডেকে নেয় এবং বাথরুমে নিয়ে ধর্ষণ করে।
নির্মমতা ও মরদেহ বিকৃতির বিবরণ
চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়, ধর্ষণের সময় রামিসা চিৎকার শুরু করলে সোহেল তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। এরপর অপরাধের প্রমাণ ও মরদেহ গুম করার জন্য সে যে বর্বরতা চালায়, তা অত্যন্ত ভয়াবহ:
* মরদেহ বিকৃতি: ঘর থেকে ছুরি এনে রামিসার মাথা কেটে ধড় থেকে সম্পূর্ণ আলাদা করা হয় এবং একটি বড় বালতির ভেতর লুকিয়ে রাখা হয়।
* অঙ্গহানি: দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং ধারালো ছুরি দিয়ে যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করা হয়।
* মরদেহ লুকানো: রক্তমাখা দেহটি বাথরুম থেকে শোবার ঘরের খাটের নিচে লুকিয়ে রাখা হয়।
যেভাবে ধরা পড়ল অপরাধীরা
রামিসাকে খুঁজে না পেয়ে তার পরিবারের সদস্যরা হন্যে হয়ে খুঁজছিলেন। একপর্যায়ে সোহেলদের ঘরের সামনে শিশুটির একটি জুতা পড়ে থাকতে দেখে রামিসার মা চিৎকার ও ডাকাডাকি শুরু করেন। চিৎকার শুনে আশপাশের ফ্ল্যাটের লোকজন জড়ো হয়ে দরজা ভাঙার চেষ্টা চালান।
বাইরে যখন দরজা ভাঙার চেষ্টা চলছে, ঠিক তখনই সোহেল বাথরুম থেকে রামিসার ক্ষতবিক্ষত মরদেহ ঘরের ভেতর নিয়ে আসে। সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তার পুরো বিষয়টি দেখেও স্বামীকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। তিনি ভেতর থেকে ঘরের ছিটকিনি আটকে দেন এবং সোহেলকে পালিয়ে যেতে সাহায্য করেন। পরে এলাকাবাসী দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে খাটের নিচে রামিসার মরদেহ ও বালতিতে কাটা মাথা উদ্ধার করে। তখন স্বপ্না মিথ্যা নাটক সাজিয়ে দাবি করেন, সোহেল ঘরের গ্রিল কেটে পালিয়ে গেছে।
সোহাগ/
আপনার জন্য নির্বাচিত নিউজ
- আজকের সকল দেশের টাকার রেট: ২৪ মে ২০২৬
- আজকের সোনার বাজারদর: ২৪ মে ২০২৬
- সোমবার থেকে টানা ঈদের ছুটি শুরু, যারা পাবেন না ছুটি
- দুপুরের আগেই ৪ অঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টির সতর্কতা
- বিশ্বকাপে কোচদের দাপটে শীর্ষে আর্জেন্টিনা, দ্বিতীয় স্থানে ফ্রান্স
- ঈদের দিন কোথায় কেমন থাকবে দেশের আবহাওয়া
- শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে নতুন আলোচনা
- দেশের বাজারে আজ একভরি সোনার
- নতুন পে-স্কেল: কার কত বাড়ছে বেতন, কোন গ্রেডে কত সুবিধা
- আজকের সোনার বাজারদর: ২৫ মে ২০২৬
- ২০২৬ বিশ্বকাপে আসছে বড় পরিবর্তন
- হোয়াইট হাউসের কাছে গোলাগুলি, যা জানা গেল
- পাকিস্তানে ভয়াবহ ট্রেন বিস্ফোরণ, নিহত অন্তত ২৪, আহত বহু
- চোটের ধাক্কায় বিশ্বকাপ পরিকল্পনায় বদল আনছে আর্জেন্টিনা
- কোরবানির চামড়া নিয়ে বড় সুখবর
