বাবার থেকে নির্ধারিত হয় সন্তানের যে ৬ টি বৈশিষ্ট্য
নিজস্ব প্রতিবেদক: সন্তানের শারীরিক গঠন, স্বভাব কিংবা চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের মূলে থাকে বাবা-মায়ের ডিএনএ। সাধারণত শিশুর অর্ধেক জিন আসে মায়ের কাছ থেকে এবং বাকি অর্ধেক বাবার কাছ থেকে। তবে আধুনিক গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্যের ক্ষেত্রে বাবার জিনের প্রভাব মায়ের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী হয়। সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে এমন ছয়টি বৈশিষ্ট্যের কথা উঠে এসেছে যা সন্তান মূলত বাবার কাছ থেকেই পেয়ে থাকে।
১. উচ্চতা নির্ধারণ:
শিশুর উচ্চতা কেমন হবে তা নির্ধারণে মা ও বাবা দুজনের জিনের ভূমিকা থাকলেও বাবার জিন এখানে মূল প্রভাবক হিসেবে কাজ করে। শরীরের দ্রুত বৃদ্ধি ও হাড়ের গঠনের সাথে সম্পর্কিত জিনগুলো বাবার দিক থেকেই বেশি কার্যকর হয়। তাই কোনো শিশুর বাবা লম্বা হলে সেই সন্তানের লম্বা হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়।
২. লিঙ্গ নির্ধারণ (ছেলে না মেয়ে):
সন্তান ছেলে হবে নাকি মেয়ে, তা সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করে বাবার ওপর। মায়ের ডিম্বাণু সব সময় একই ধরনের ক্রোমোজোম (X) বহন করে। অন্যদিকে বাবার শুক্রাণু দুই ধরনের (X অথবা Y) ক্রোমোজোম বহন করতে পারে। যদি বাবার কাছ থেকে X ক্রোমোজোম আসে তবে সন্তান মেয়ে হয়, আর Y ক্রোমোজোম আসলে সন্তান ছেলে হয়। অর্থাৎ লিঙ্গ নির্ধারণের ক্ষেত্রে মায়ের কোনো ভূমিকা নেই।
৩. ব্যক্তিত্বের বিশেষ দিক:
সন্তানের সাহসিকতা, নতুন কিছু করার আগ্রহ কিংবা অভিযাত্রী মনোভাব অনেক সময় বাবার জিনের মাধ্যমে প্রবাহিত হয়। যদিও শিশুর ব্যক্তিত্ব গঠনে পরিবেশ ও শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম, তবে জন্মগতভাবে পাওয়া মেজাজ বা আচরণের কিছু মৌলিক দিক বাবার জিনের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হতে পারে।
৪. মানসিক স্বাস্থ্যের ঝুঁকি:
বাবার বয়স এবং জিনের কিছু নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য সন্তানের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, কোনো পুরুষ যদি চল্লিশোর্ধ্ব বয়সে বাবা হন, তবে সন্তানের ক্ষেত্রে কিছু মানসিক জটিলতার ঝুঁকি সামান্য বেড়ে যেতে পারে। তবে এটি শুধু জিনের ওপর নয়, বরং পারিবারিক পরিবেশের ওপরও অনেকখানি নির্ভরশীল।
৫. পুরুষ বৈশিষ্ট্য বিকাশ:
ছেলে সন্তানের ক্ষেত্রে বাবার কাছ থেকে পাওয়া বিশেষ একটি ক্রোমোজোমের মাধ্যমে তার পুরুষালি বৈশিষ্ট্যের বিকাশ ঘটে। এই ক্রোমোজোমে থাকা নির্দিষ্ট জিনগুলোই ছেলে শিশুর শরীরে পুরুষ হরমোন ও শারীরিক কাঠামোর পরিবর্তনের জন্য দায়ী থাকে।
৬. শরীরে চর্বি জমার ধরন:
মানুষের শরীরে কীভাবে চর্বি জমবে বা মেদ জমার প্রবণতা কেমন হবে, তার পেছনেও বাবার জিনের প্রভাব থাকতে পারে। বিশেষ করে শক্তি উৎপাদনকারী চর্বি এবং শরীরে জমে থাকা চর্বির ভারসাম্যের বিষয়টি বাবার ডিএনএ দ্বারা প্রভাবিত হয়। তবে সুস্থ জীবনধারা ও সঠিক খাদ্যাভ্যাস এই বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জিনতত্ত্ব সন্তানের জীবনের ভিত্তি তৈরি করে দিলেও তার সঠিক বিকাশ, বুদ্ধিবৃত্তি ও সুস্বাস্থ্যের জন্য ইতিবাচক পরিবেশ, সঠিক শিক্ষা এবং পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাসের গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি।
সিদ্দিকা/
