নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নে নতুন কৌশল, ২০২৮ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা
নিজস্ব প্রতিবেদক: দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আবারও আলোচনায় এসেছে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নবম জাতীয় পে-স্কেল। আগামী ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেটে নতুন বেতন কাঠামোর ঘোষণা আসতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। তবে অর্থ সংকটের কারণে একবারে পুরো সুবিধা না দিয়ে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছে সরকার।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নতুন পে-স্কেল কার্যকরে বড় অঙ্কের অর্থ প্রয়োজন হওয়ায় সরকার কৌশলগতভাবে পর্যায়ক্রমে সুবিধা দেওয়ার পথে হাঁটছে। প্রাথমিকভাবে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকার সম্ভাব্য বরাদ্দ ধরে পরিকল্পনা এগোচ্ছে।
জানা গেছে, আগামী ৭ জুন বিকেল ৩টায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় বা বাজেট অধিবেশন শুরু হতে পারে। এ অধিবেশন ইতোমধ্যে আহ্বান করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। ওই অধিবেশনেই অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করবেন। বাজেট বক্তৃতায় নতুন পে-স্কেলের রূপরেখা ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রথম ধাপে মূল বেতন আংশিক বাড়ানো হতে পারে। এরপর পর্যায়ক্রমে বাড়ানো হবে বিভিন্ন ভাতা ও আর্থিক সুযোগ-সুবিধা। সরকারের লক্ষ্য, ২০২৮–২৯ অর্থবছরের মধ্যে নতুন বেতন কাঠামোর শতভাগ সুবিধা কার্যকর করা।
নতুন পে-কমিশনের আওতায় প্রায় ১৪ লাখ কর্মরত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং প্রায় ৯ লাখ পেনশনভোগী আর্থিক সুবিধার আওতায় আসতে পারেন। ফলে দীর্ঘদিন ধরে নতুন পে-স্কেলের অপেক্ষায় থাকা চাকরিজীবীদের মধ্যে নতুন করে আশা তৈরি হয়েছে।
সরকারি চাকরিজীবী সংগঠনগুলোর নেতারা বলছেন, ২০১৫ সালে অষ্টম জাতীয় পে-স্কেল ঘোষণার পর গত এক দশকে জীবনযাত্রার ব্যয় কয়েকগুণ বেড়েছে। বাসাভাড়া, চিকিৎসা ব্যয় ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধির কারণে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের কর্মচারীরা সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছেন। তাই দ্রুত জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫-এর চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন তারা।
প্রস্তাবিত নবম জাতীয় পে-স্কেল অনুযায়ী সর্বনিম্ন বেতন ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা নির্ধারণের আলোচনা চলছে। তবে চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশের আগে এই কাঠামোয় পরিবর্তন আসতে পারে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
উল্লেখ্য, স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে দেশে প্রথম জাতীয় পে-স্কেল চালু হয়। এরপর ২০১৫ সাল পর্যন্ত মোট আটবার নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণা করা হয়েছে। যদিও নিয়ম অনুযায়ী প্রতি পাঁচ বছর পর নতুন পে-স্কেল কার্যকর হওয়ার কথা, করোনা মহামারি, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ ও রাজস্ব সংকটের কারণে তা পিছিয়ে যায়। বর্তমানে এ বিষয়ে গঠিত বিশেষ কমিটি বিভিন্ন সুপারিশ পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত মতামত তৈরির কাজ করছে।
সোহাগ/
