ইরানকে যুদ্ধবিরতিতে রাজি করিয়েছে যে দেশ
নিজস্ব প্রতিবেদক: আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের চলমান যুদ্ধবিরতির পেছনে সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে তেহরানের প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার চীন। খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্বীকার করেছেন যে, বেইজিংয়ের সরাসরি হস্তক্ষেপে তেহরান আলোচনার টেবিলে বসতে সম্মত হয়েছে। শেষ মুহূর্তে চীনের এই দূতিয়ালি মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতময় পরিস্থিতিতে নতুন এক মোড় এনে দিয়েছে।
সংবাদ সংস্থা এএফপির এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প নিশ্চিত করেন যে, ইরানকে যুদ্ধবিরতিতে রাজি করানোর পেছনে বেইজিংয়ের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। মূলত মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে ট্রাম্পের চীন সফরের কথা রয়েছে, যেখানে তিনি চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাথে বৈঠক করবেন। যুদ্ধের কারণে এই সফর বারবার পিছিয়ে যাচ্ছিল, যা বেইজিংয়ের জন্য একটি উদ্বেগের কারণ ছিল। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নিজের দেশে ট্রাম্পের সফরের পথ সুগম করতেই চীন এই যুদ্ধ থামাতে সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছে।
কূটনৈতিক তৎপরতা ও মধ্যস্থতা:
বার্তা সংস্থা এপির তথ্য অনুযায়ী, বেইজিং অত্যন্ত নিভৃতে কিন্তু প্রভাবশালী উপায়ে পাকিস্তান, তুরস্ক এবং মিশরের মতো মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর সাথে সমন্বয় করেছে। আলোচনার প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে চীনা কর্মকর্তারা ইরানি নীতিনির্ধারকদের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করেছেন এবং তাদের শান্তির পথে অগ্রসর হতে উৎসাহিত করেছেন।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বেইজিংয়ের এই ভূমিকা নিয়ে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি না দিলেও, ওয়াশিংটনে অবস্থিত চীনা দূতাবাস জানিয়েছে যে তারা শুরু থেকেই শান্তির জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং জানিয়েছেন, এই সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতি এবং বিশেষ করে জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর যে বিরূপ প্রভাব ফেলছে, তা নিয়ে চীন গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। তিনি সকল পক্ষকে আন্তরিকতা দেখিয়ে এই অনাকাঙ্ক্ষিত যুদ্ধ সমাপ্ত করার আহ্বান জানান।
জাতিসংঘে কৌশলগত অবস্থান:
এদিকে গত মঙ্গলবার জাতিসংঘে এক ভিন্ন প্রেক্ষাপট দেখা যায়। হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর সুরক্ষার নামে সম্মিলিত প্রচেষ্টার একটি প্রস্তাবে চীন ও রাশিয়া ভেটো প্রদান করে। চীনের প্রতিনিধি ফু কং যুক্তি দেখান যে, মার্কিন সামরিক তৎপরতা যেখানে একটি সভ্যতার অস্তিত্বের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে, সেখানে ইরানের বিরুদ্ধে এ ধরনের প্রস্তাব গ্রহণ করা ভুল বার্তা দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশ্বিক রাজনীতিতে নিজেকে আরও প্রভাবশালী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যেই চীন এই দ্বিমুখী কৌশল অবলম্বন করছে। একদিকে তারা শান্তির দূত হিসেবে কাজ করছে, অন্যদিকে কৌশলগত মিত্র ইরানের স্বার্থ রক্ষায় আন্তর্জাতিক মঞ্চে সরব থাকছে।
আশা/
আপনার জন্য নির্বাচিত নিউজ
- ৯ এপ্রিল সাধারণ ছুটি ঘোষণা
- ৬ দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা
- নতুন পে-স্কেল নিয়ে জট খুলছে: প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে সুখবর
- পে স্কেল নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে বড় সুখবর
- আজকের সোনার বাজারদর: ৮ এপ্রিল ২০২৬
- ৯ এপ্রিল সাধারণ ছুটি ঘোষণা; যারা পাবেন যারা পাবেন না
- ২০২৬ সালের ঈদুল আজহার সম্ভাব্য তারিখ জানালেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা
- আজ রাতেই একটি সভ্যতা শেষ হয়ে যেতে পারে
- আবারও বাড়ল ফুয়েলের দাম
- পে-স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে সরকারের নতুন কৌশল
- সভাপতি হয়েই বিসিবিতে তামিম ইকবাল
- প্রথমবারের মতো ইউরোপে খেলবে হামজারা, প্রতিপক্ষ কারা
- বাবার থেকে নির্ধারিত হয় সন্তানের যে ৬ টি বৈশিষ্ট্য
- যে ১৩ দেশের ভিসা সহজে পাবে বাংলাদেশের নাগরিক
- সিলিন্ডারের ৩৮৭ টাকা বাড়ল এলপিজির দাম
