| ঢাকা, বুধবার, ২৭ মে ২০২৬, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

কোন দেশে রয়েছে ইরানের কত সম্পদ

বিশ্ব ডেস্ক . বিনোদন৬৯.কম
২০২৬ এপ্রিল ১২ ১৭:২৬:৪৭
কোন দেশে রয়েছে ইরানের কত সম্পদ

নিজস্ব প্রতিবেদক: মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান উত্তেজনা প্রশমনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার আলোচনায় সবচেয়ে বড় ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে বিদেশে জব্দ থাকা ইরানের বিপুল পরিমাণ অর্থ। ইসলামাবাদের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক তৎপরতাকে ঘিরে এই সম্পদ মুক্ত করার বিষয়টি এখন বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে। যদিও হোয়াইট হাউস সম্পদ ছাড়ের খবরটি নাকচ করে দিয়েছে, তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই অর্থই হতে পারে ওয়াশিংটন-তেহরান সমঝোতার প্রধান চাবিকাঠি।

ইরানের আটকে থাকা সম্পদের পরিমাণ:

ইরানের বিদেশে ঠিক কত অর্থ আটকে আছে, তার সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান পাওয়া কঠিন। তবে ধারণা করা হয়, এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বিভিন্ন দেশে ইরানের প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি সম্পদ আটকা পড়ে আছে। ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তির পর ইরান কিছু অর্থ ব্যবহারের সুযোগ পেলেও ২০১৮ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প চুক্তি থেকে সরে দাঁড়ালে পুনরায় কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। এর আগে ২০১৪ সালে ৪.২ বিলিয়ন এবং ২০২৩ সালে দক্ষিণ কোরিয়ায় আটকে থাকা ৬ বিলিয়ন ডলার ছাড় পেয়েছিল ইরান, যদিও সেই অর্থ ব্যবহারের ক্ষেত্রে ছিল নানা সীমাবদ্ধতা।

কোন কোন দেশে রয়েছে এই সম্পদ?

তেল বাণিজ্য এবং আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং জটিলতার কারণে ইরানের অর্থ মূলত ৯টি দেশে ছড়িয়ে আছে:

১. দক্ষিণ কোরিয়া

২. জাপান

৩. চীন

৪. ভারত

৫. তুরস্ক

৬. কাতার

৭. সংযুক্ত আরব আমিরাত

৮. সিঙ্গাপুর

৯. জার্মানি

তেলের বড় ক্রেতা হওয়ায় দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানেই ইরানের অর্থের বড় অংশ জমা ছিল। এছাড়া হংকংভিত্তিক কিছু শেল কোম্পানি ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন আর্থিক নেটওয়ার্কেও ইরানের তহবিল সংরক্ষিত রয়েছে।

এই অর্থ কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

নিষেধাজ্ঞার ফলে ইরানের জাতীয় মুদ্রা রিয়ালের মান আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। ডলার ও ইউরোতে লেনদেন করতে না পারায় আমদানি-রপ্তানি প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। দেশটিতে বর্তমানে তীব্র ডলার সংকট ও উচ্চ মূল্যস্ফীতি বিরাজমান। অর্থনীতিবিদদের মতে, এই সম্পদের একটি অংশও যদি মুক্ত হয়, তবে ইরানের ভঙ্গুর অর্থনীতি বড় ধরনের স্বস্তি পাবে।

জব্দকৃত সম্পদের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস:

ইরানি সম্পদ জব্দের ইতিহাস কয়েক দশক পুরনো। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর মার্কিন কূটনীতিকদের জিম্মি করার জেরে প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার প্রথম ১২ বিলিয়ন ডলার জব্দ করেন। ১৯৮১ সালের আলজিয়ার্স চুক্তির মাধ্যমে কিছু অর্থ ছাড় পেলেও তার বড় অংশই ব্যয় হয় ঋণ পরিশোধে। পরবর্তী সময়ে পরমাণু কর্মসূচি ও অন্যান্য অভিযোগে নিষেধাজ্ঞার পরিধি বাড়তে থাকলে বিদেশে জমানো অর্থের পাহাড়ও বাড়তে থাকে।

বর্তমান পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ:

ইসলামাবাদের আলোচনায় তেহরান এই সম্পদ মুক্ত করাকে তাদের প্রধান শর্ত হিসেবে দেখছে। তাদের কাছে এটি অর্থনৈতিকভাবে টিকে থাকার প্রশ্ন। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র এই অর্থকে কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। হোয়াইট হাউস এখনই সম্পদ ছাড়ের বিষয়টি স্বীকার না করলেও কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ফেরাতে অন্তত আংশিক সম্পদ ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

সোহাগ/

আপনার জন্য নির্বাচিত নিউজ

ক্রিকেট

আইপিএলের প্লে-অফ নিশ্চিত, কবে কোন দলের ম্যাচ

আইপিএলের প্লে-অফ নিশ্চিত, কবে কোন দলের ম্যাচ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) ২০২৫-এর প্লে-অফের চার দল চূড়ান্ত হয়ে গেছে। রোববার (২৪ ...

ওয়ানডে র‍্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের বড় লাফ

ওয়ানডে র‍্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের বড় লাফ

নিজস্ব প্রতিবেদক: আইসিসির সর্বশেষ ওয়ানডে র‍্যাংকিংয়ে সুখবর পেয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। অবস্থানের পরিবর্তন না হলেও ...

ফুটবল

জাপানের কাছে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিবে ব্রাজিল!

জাপানের কাছে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিবে ব্রাজিল!

নিজস্ব প্রতিবেদক: ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ মাঠে গড়ানোর আগেই আলোচনার ঝড় উঠেছে এক চমকপ্রদ পূর্বাভাস ঘিরে। ...

হামজাদের নতুন কোচ থমাস ডুলি

হামজাদের নতুন কোচ থমাস ডুলি

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের নতুন প্রধান কোচ হিসেবে চূড়ান্ত হয়েছেন সাবেক মার্কিন ফুটবলার ...