যে আলোচনা হল ইরান-মার্কিন প্রতিনিধিদের
নিজস্ব প্রতিবেদক: টানা ৩৮ দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিকে স্থায়ী রূপ দেওয়ার প্রথম বড় কূটনৈতিক প্রচেষ্টাটি ব্যর্থ হয়েছে। পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত ২১ ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস আলোচনা কোনো প্রকার সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই বৈঠকে কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে না পেরে মার্কিন প্রতিনিধি দল ওয়াশিংটনের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এই ব্যর্থতার কথা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, তেহরান ওয়াশিংটনের দেওয়া শর্তসমূহ গ্রহণে অস্বীকৃতি জানানোয় আলোচনায় অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়।
জেডি ভ্যান্সের বক্তব্য ও মার্কিন অবস্থান:
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জানান, পাকিস্তানের চমৎকার আতিথেয়তায় দুই দেশের প্রতিনিধি দল অত্যন্ত নিবিড় ও সরাসরি কথা বললেও মৌলিক বিষয়ে একমত হওয়া সম্ভব হয়নি। আলোচনার ব্যর্থতার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী না করে তিনি বলেন, “পাকিস্তান দুই দেশের ব্যবধান কমিয়ে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে সর্বাত্মক চেষ্টা করেছে।”
তবে সমঝোতা না হওয়াকে ইরানের জন্য বড় দুঃসংবাদ হিসেবে দেখছেন ভ্যান্স। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, “আমাদের রেড লাইন বা চূড়ান্ত সীমা নিয়ে আমরা অনড় ছিলাম। কিন্তু ইরানি পক্ষ আমাদের শর্তগুলো মেনে না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটি যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে ইরানের জন্যই বেশি ক্ষতিকর হবে।”
আলোচনার মূল ইস্যু: পারমাণবিক সক্ষমতা:
বৈঠকের মূল কেন্দ্রে ছিল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি। ভ্যান্স জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রধান লক্ষ্য হলো ইরান যাতে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র বা প্রযুক্তি অর্জন করতে না পারে। ওয়াশিংটন তেহরানের কাছ থেকে দীর্ঘস্থায়ী ও মৌলিক প্রতিশ্রুতির দাবি জানিয়েছিল, যা দিতে ইরান অস্বীকৃতি জানায়। উল্লেখ্য, এই ২১ ঘণ্টার আলোচনায় মার্কিন প্রতিনিধি দল অন্তত ১২ বার সরাসরি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন।
যুদ্ধের প্রেক্ষাপট ও বর্তমান পরিস্থিতি:
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ ও ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ শুরু হওয়ার পর যুদ্ধে ৩ হাজারের বেশি ইরানি নাগরিক এবং শীর্ষ কমান্ডাররা নিহত হন। ইরানও পাল্টা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েল ও মার্কিন মিত্রদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করে এবং হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে মার্কিন তেল বাণিজ্যে ধস নামায়। এই চরম উত্তজনা নিরসনে গত ৭ এপ্রিল থেকে ১৫ দিনের অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়।
আলোচনা ও লেবানন হামলা:
ইসলামাবাদে যখন শান্তি আলোচনা চলছিল, ঠিক তখনই লেবাননে ইসরায়েলি বিমান বাহিনীর হামলায় ৩০০-র বেশি বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের দাবি, ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে বোঝাপড়া করেই এই হামলা চালানো হয়েছে। এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে এবং তেহরানকে আরও কঠোর অবস্থানে নিয়ে গেছে।
শঙ্কায় মধ্যপ্রাচ্য:
সমঝোতা ব্যর্থ হওয়ায় এবং লেবাননে হামলা অব্যাহত থাকায় যেকোনো সময় অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তেহরান ইতোমধ্যে সামরিকভাবে প্রস্তুত থাকার ঘোষণা দিয়েছে। ফলে মার্কিন প্রতিনিধিদের খালি হাতে ফিরে যাওয়া মধ্যপ্রাচ্যকে আবারও এক অনিশ্চিত ও ভয়াবহ যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিল বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
সোহাগ/
আপনার জন্য নির্বাচিত নিউজ
- পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে টানা ৩ দিন সরকারি ছুটি ঘোষণা
- ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা; Live যেভাবে দেখবেন
- ৯০ মিনিটের খেলা শেষ, ব্রাজিল বনাম আর্জেন্টিনা: জানুন ফলাফল
- দেশের বাজারে আজ ১৮, ২১, ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম
- আজকের সকল টাকার রেট: ১০ এপ্রিল ২০২৬
- আজকের সোনার বাজারদর: ১০ এপ্রিল ২০২৬
- সরকারি চাকরিপ্রার্থীদের জন্য নতুন সুখবর
- জাতীয় নাগরিক পার্টিতে যোগ দিচ্ছেন রুমিন ফারহানা
- আজকের সোনার বাজারদর: ১১ এপ্রিল ২০২৬
- বাড়লো সয়াবিন তেলের দাম
- ১ টি সিগারেটের সর্বনিম্ন মূল্য হবে ১০ টাকা
- আজকের সকল টাকার রেট: ১১ এপ্রিল ২০২৬
- আজ একভরি সোনা ও রুপার দাম
- ছয় দিনের সরকারি ছুটি অনুমোদন; যারা পাবেন
- বিশ্বকাপের আগে দুই ম্যাচ খেলবে আর্জেন্টিনা; সূচি চূড়ান্ত
