ইফতারের পর ধূমপানে শরীরে যা ঘটে
ইফতারের পরেই কি সিগারেটে টান দিচ্ছেন? নিজের অজান্তেই শরীরে ডেকে আনছেন যে ভয়াবহ বিপদ
নিজস্ব প্রতিবেদক: রমজান মানেই সংযম আর শুদ্ধি। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার পর ইফতারের মাধ্যমে শরীর যখন নতুন করে প্রাণ ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করে, ঠিক তখনই অনেকে অবলীলায় হাতে তুলে নেন সিগারেট। দীর্ঘক্ষণের তৃষ্ণা ও ক্ষুধার পর ধূমপান কেবল একটি বদভ্যাস নয়, বরং চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এটি খালি শরীরের ওপর এক ধরনের ‘রাসায়নিক হামলা’।
কেন ইফতারের পর ধূমপান বেশি বিপজ্জনক?
১. রক্তে দ্রুত নিকোটিন শোষণ:
সারাদিন পাকস্থলী খালি থাকায় ইফতারের পরপরই ধূমপান করলে নিকোটিন ও ক্ষতিকর রাসায়নিক খুব দ্রুত রক্তে মিশে যায়। এতে হঠাৎ করে মাথা ঘোরা, বুক ধড়ফড় করা এবং বমি বমি ভাব হতে পারে।
২. হজম ও গ্যাস্ট্রিকের মহাবিপদ:
ইফতারের খাবারের পর হজম প্রক্রিয়া যখন শুরু হয়, তখন ধূমপান করলে পাকস্থলীতে রক্তপ্রবাহ কমে যায় এবং অ্যাসিড নিঃসরণ বাড়ে। ফলে বুক জ্বালাপোড়া, তীব্র গ্যাস্ট্রিক এবং দীর্ঘমেয়াদে আলসারের ঝুঁকি তৈরি হয়।
৩. হৃদযন্ত্রে আকস্মিক চাপ:
নিকোটিন স্নায়ুতন্ত্রকে উত্তেজিত করে রক্তচাপ হঠাৎ বাড়িয়ে দেয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইফতারের পর ধূমপান হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিতে পারে, বিশেষ করে যাদের উচ্চ রক্তচাপ বা ডায়াবেটিস রয়েছে।
৪. ফুসফুস ও অক্সিজেনের ঘাটতি:
সিগারেটের কার্বন মনোক্সাইড রক্তে অক্সিজেন বহনের ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। এতে শরীর খাবার থেকে শক্তি নেওয়ার বদলে প্রচণ্ড ক্লান্ত ও দুর্বল হয়ে পড়ে। এছাড়া শ্বাসনালিতে প্রদাহ সৃষ্টি হয়ে শ্বাসকষ্টের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
৫. লিভার ও দাঁতের ক্ষতি:
লিভার যখন খাবারের পুষ্টি প্রক্রিয়াজাত করে, তখন সিগারেটের বিষাক্ত উপাদান লিভারের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করে। এছাড়া মুখে দুর্গন্ধ, মাড়ির রোগ এবং ক্যানসারের ঝুঁকিও বেড়ে যায়।
ধূমপান ছাড়ার সেরা সুযোগ রমজান
চিকিৎসকদের মতে, ইফতারের পর অন্তত দুই ঘণ্টা ধূমপান থেকে দূরে থাকা উচিত। যেহেতু রোজার কারণে দিনের বড় একটা সময় শরীর ধূমপান ছাড়াই থাকতে অভ্যস্ত হয়ে যায়, তাই এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ধূমপান চিরতরে ছেড়ে দেওয়া সম্ভব।
আশা/
