নির্ধারিত দামে মিলছে না এলপিজি সিলিন্ডার; বেড়ে কত হল
নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) কর্তৃক ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৭২৮ টাকা নির্ধারিত হলেও মাঠপর্যায়ে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। চট্টগ্রামের খুচরা বাজারে ১২ কেজির প্রতিটি সিলিন্ডারের জন্য ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে ১ হাজার ৮৫০ থেকে ২ হাজার ১০০ টাকা পর্যন্ত। অর্থাৎ নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে ক্রেতাদের কাছ থেকে ১২২ থেকে ৩৭২ টাকা পর্যন্ত বেশি আদায় করা হচ্ছে।
ক্রেতাদের ভোগান্তি ও মাঠপর্যায়ের চিত্র:
নগরের ২ নম্বর গেট এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ ফারুক জানান, আকস্মিকভাবে গ্যাস শেষ হওয়ায় তিনি ২ হাজার টাকা দিয়ে সিলিন্ডার কিনতে বাধ্য হয়েছেন। একই অভিযোগ করেছেন হিলভিউ, ষোলশহর ও উত্তর কাট্টলি এলাকার সাধারণ বাসিন্দারা। মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোর জন্য এই বাড়তি ব্যয় এখন বড় ধরনের বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ব্যবসায়ীদের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ:
খুচরা বিক্রেতাদের দাবি, তারা পরিবেশকদের কাছ থেকেই বেশি দামে সিলিন্ডার কিনছেন, ফলে সরকারি দামে বিক্রি করা তাদের পক্ষে অসম্ভব। অন্যদিকে, পরিবেশকরা দায় চাপাচ্ছেন আমদানিকারক কোম্পানিগুলোর ওপর। চট্টগ্রাম মহানগর এলপি গ্যাস ডিস্ট্রিবিউটরস-ডিলারস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সাইফুল আলম জানিয়েছেন, কোম্পানি থেকে সরকার নির্ধারিত দামে (১,৬৩৩ টাকা) সিলিন্ডার পাওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তাদের কিনতে হচ্ছে ১,৭০০ থেকে ১,৯৪০ টাকায়। এমনকি ডিলার কমিশনও আগের চেয়ে কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বিক্রি বন্ধের হুঁশিয়ারি:
ব্যবসায়িক লোকসান এড়াতে ১৮ এপ্রিল থেকে চট্টগ্রামে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ডিলারস অ্যাসোসিয়েশন। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক বরাবর একটি স্মারকলিপিও জমা দিয়েছেন তারা। তাদের দাবি, কোম্পানি পর্যায় থেকে দাম নিয়ন্ত্রণ না করলে খুচরা পর্যায়ে সমাধান সম্ভব নয়।
কোম্পানি ও প্রশাসনের অবস্থান:
এদিকে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন ‘এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এলওএবি)’ এক বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করেছে, কোম্পানিগুলো সরকার নির্ধারিত মূল্যেই সিলিন্ডার সরবরাহ করছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ও ইতোমধ্যে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসকদের এ বিষয়ে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের অভিমত:
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কেন্দ্রীয় ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন মনে করেন, আমদানিকারক, পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতাদের একে অপরকে দোষারোপ করার এই সংস্কৃতির মাঝে সাধারণ মানুষ পিষ্ট হচ্ছে। প্রশাসনিক নজরদারি ও কঠোর মনিটরিং ছাড়া এই অস্থিরতা কমানো সম্ভব নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বর্তমানে দেশে বার্ষিক ১৭ লাখ টন এলপিজির চাহিদা রয়েছে, যার বড় অংশই আমদানিনির্ভর। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারের দোহাই আর অভ্যন্তরীণ অব্যবস্থাপনার চাপে সাধারণ ভোক্তার পকেট থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে বাড়তি কোটি কোটি টাকা।
সিদ্দিকা/
আপনার জন্য নির্বাচিত নিউজ
- পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে টানা ৩ দিন সরকারি ছুটি ঘোষণা
- ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা; Live যেভাবে দেখবেন
- ৯০ মিনিটের খেলা শেষ, ব্রাজিল বনাম আর্জেন্টিনা: জানুন ফলাফল
- দেশের বাজারে আজ ১৮, ২১, ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম
- সরকারি চাকরিপ্রার্থীদের জন্য নতুন সুখবর
- আজকের সোনার বাজারদর: ১১ এপ্রিল ২০২৬
- জাতীয় নাগরিক পার্টিতে যোগ দিচ্ছেন রুমিন ফারহানা
- যে তিন কারণে ব্যার্থ হল ইরান মার্কিন শান্তি আলোচনা
- আজ একভরি সোনা ও রুপার দাম
- আজকের সোনার বাজারদর: ১২ এপ্রিল ২০২৬
- আজকের সকল টাকার রেট: ১১ এপ্রিল ২০২৬
- আজকের সকল টাকার রেট: ১২ এপ্রিল ২০২৬
- ছয় দিনের সরকারি ছুটি অনুমোদন; যারা পাবেন
- এনসিপিতে যোগ দেওয়ার গুঞ্জন নিয়ে যা বললেন রুমিন ফারহানা
- ১৪ এপ্রিল থেকেই শুরু—টানা ৫ দিনের ছুটি পাবেন যেভাবে
