ইসলামের দৃষ্টিতে পহেলা বৈশাখ পালন কি
নিজস্ব প্রতিবেদক: ১৪ এপ্রিল তথা পহেলা বৈশাখ আমাদের সমাজে বাংলা নববর্ষ হিসেবে উদযাপিত হয়। পঞ্জিকা গণনার এই দিনটি একসময় খাজনা আদায় ও ব্যবসায়িক হালখাতার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও, বর্তমানে এর সাথে এমন কিছু আচার-অনুষ্ঠান যুক্ত হয়েছে যা ইসলামের মৌলিক বিশ্বাস বা তাওহীদের সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক। একজন সচেতন মুসলিম হিসেবে এই উৎসবের পেছনের ইতিহাস এবং শরিয়াহর বিধান জানা অত্যন্ত জরুরি।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট:
বাংলা সনের প্রবর্তন মূলত একটি প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক প্রয়োজন থেকে হয়েছিল। ১৫৮৪ খ্রিস্টাব্দে মুঘল সম্রাট আকবর হিজরি চন্দ্রবর্ষ ও সৌরবর্ষের সমন্বয়ে 'ফসলি সন' প্রবর্তন করেন, যা পরে বঙ্গাব্দ হিসেবে পরিচিতি পায়। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল কৃষকদের কাছ থেকে খাজনা আদায়ের সময়কে সহজতর করা। তৎকালীন সময়ে নববর্ষের মূল আকর্ষণ ছিল ‘হালখাতা’, যেখানে ব্যবসায়ীরা পুরোনো বছরের হিসাব চুকিয়ে নতুন খাতা খুলতেন এবং প্রজাদের মিষ্টিমুখ করাতেন। এটি ছিল সম্পূর্ণ একটি অর্থনৈতিক ও সামাজিক রেওয়াজ।
উৎসবের আধুনিকায়ন ও বিবর্তন:
নববর্ষ উদযাপনের বর্তমান ধারাটি খুব বেশি প্রাচীন নয়। ১৯৬৭ সালে রমনার বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ এবং ১৯৮৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের মঙ্গল শোভাযাত্রার মাধ্যমে এই উৎসব ভিন্ন মাত্রা পায়। আধুনিক এই সংযোজনগুলোই মূলত ধর্মীয় বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
কেন এই উদযাপন শরিয়াহ পরিপন্থী?
১. আকিদাগত বিচ্যুতি ও মঙ্গল শোভাযাত্রা:
পহেলা বৈশাখের প্রধান অনুষঙ্গ হিসেবে এখন ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’কে তুলে ধরা হয়, যেখানে বিভিন্ন পশুপাখির প্রতিকৃতি বহন করা হয়। বিশ্বাস করা হয় যে, এই শোভাযাত্রা অমঙ্গল দূর করবে। কিন্তু ইসলামি আকিদা অনুযায়ী, একমাত্র আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো বস্তু বা মূর্তি কল্যাণ বা অকল্যাণ বয়ে আনার ক্ষমতা রাখে না। প্রতিকৃতির মাধ্যমে মঙ্গল কামনা করা সরাসরি শিরকের অন্তর্ভুক্ত।
২. কুসংস্কার ও অগ্নিস্নানের ধারণা:
বর্ষবরণের অনেক গানে বা স্লোগানে বলা হয় “অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা”, যা মূলত সূর্য বা আগুনের মাধ্যমে পবিত্রতা অর্জনের একটি ভিন্নধর্মী বিশ্বাস। ইসলামে সূর্য বা প্রকৃতির উপাসনা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। সুরা নামলের ২৪ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা তাদের সমালোচনা করেছেন যারা আল্লাহর পরিবর্তে সূর্যকে সেজদা করে।
৩. বিজাতীয় সংস্কৃতির অনুসরণ:
পহেলা বৈশাখের অনেক আধুনিক প্রথা মূলত ভিনদেশী ও বিজাতীয় ধর্মীয় রীতিনীতি দ্বারা প্রভাবিত। রাসুলুল্লাহ (সা.) স্পষ্টভাবে বিজাতীয় সংস্কৃতির অনুকরণ করতে নিষেধ করেছেন। বাঙালি সংস্কৃতির দোহাই দিয়ে ঈমানি চেতনাকে বিসর্জন দেওয়া একজন মুমিনের জন্য শোভনীয় নয়।
৪. নৈতিক অবক্ষয় ও পর্দা লঙ্ঘন:
এই দিনকে কেন্দ্র করে মেলা ও মিছিলে নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা লক্ষ্য করা যায়। ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী যা নিষিদ্ধ। এ ধরনের পরিবেশ সামাজিক ও চারিত্রিক অবক্ষয়ের পথ প্রশস্ত করে।
৫. অপচয় ও অনর্থক কাজ:
বর্তমানে নববর্ষ উদযাপনের নামে যে বিশাল অঙ্কের অর্থ ব্যয় করা হয়, তা অনেক ক্ষেত্রেই অপচয়ের পর্যায়ে পড়ে। পবিত্র কুরআনে অপচয়কারীকে শয়তানের ভাই হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।
পহেলা বৈশাখ বা বাংলা সন গণনায় কোনো দোষ নেই, তবে এর সাথে যুক্ত হওয়া শিরকি আকিদা, বিজাতীয় সংস্কৃতি এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ডগুলোই ইসলামের দৃষ্টিতে নিষিদ্ধ। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের উচিত আবেগের বশবর্তী হয়ে নিজস্ব ঈমান ও আমল নষ্ট না করা। প্রকৃত মুসলিম হিসেবে আমাদের উচিত সকল প্রকার কুসংস্কার ও অপসংস্কৃতি বর্জন করে একমাত্র আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা। আল্লাহ আমাদের সবাইকে সঠিক পথ প্রদর্শণ করুন। আমিন।
সিদ্দিকা/
আপনার জন্য নির্বাচিত নিউজ
- ৯০ মিনিটের খেলা শেষ, ফ্রান্স বনাম মরক্কো ম্যাচ: জানুন ফলাফল
- স্পেন বনাম বেলজিয়াম; পরিসংখ্যান ও সাম্প্রতিক ফর্মে কে এগিয়ে
- শুরু হল, স্পেন বনাম বেলজিয়াম কোয়ার্টার ফাইনাল; লাইভ দেখুন এখানে
- ১৫ মিনিটের খেলা শেষ, ফ্রান্স বনাম মরক্কো ম্যাচ: লাইভ দেখুন এখানে
- চলছে ফ্রান্স বনাম মরক্কো ম্যাচ: লাইভ দেখুন এখানে
- ৪৫ মিনিটের খেলা শেষ, ফ্রান্স বনাম মরক্কো ম্যাচ: লাইভ দেখুন এখানে
- ৩০ মিনিটের খেলা শেষ, ফ্রান্স বনাম মরক্কো ম্যাচ: লাইভ দেখুন এখানে
- ১৫ ওভারের খেলা শেষ; জিম্বাবুয়ে বনাম বাংলাদেশ ম্যাচ; লাইভ দেখুন এখানে
- ৯০ মিনিটের খেলা শেষ, স্পেন বনাম বেলজিয়াম: জানুন ফলাফল
- একটু পর শুরু, ফ্রান্স বনাম মরক্কো ম্যাচ: সরাসরি দেখুন এখানে
- ৬০ মিনিটের খেলা শেষ, ফ্রান্স বনাম মরক্কো ম্যাচ: লাইভ দেখুন এখানে
- শুরু হলো ফ্রান্স বনাম মরক্কো কোয়ার্টার ফাইনাল, সরাসরি দেখুন এখানে
- ৪৫ মিনিটের খেলা শেষ, স্পেন বনাম বেলজিয়াম ম্যাচ; লাইভ দেখুন এখানে
- চলছে জিম্বাবুয়ে বনাম বাংলাদেশ ২য় ওডিআই ম্যাচ; লাইভ দেখুন এখানে
- দ্বিতীয়ার্ধের খেলা শুরু, ফ্রান্স বনাম মরক্কো ম্যাচ: লাইভ দেখুন এখানে
