২৬ দিনে ৯ বার কাঁপল দেশ: যে কোন সময় বড় ভূমিকম্পের সতর্কবার্তা
নিজস্ব প্রতিবেদক: চলতি ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসজুড়ে বাংলাদেশের ভূ-গর্ভস্থ প্লেটগুলোতে এক অস্বাভাবিক অস্থিরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। মাসের মাত্র ২৬ দিনের ব্যবধানে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অন্তত নয়বার মৃদু ও মাঝারি ধরনের ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। বারবার এই কম্পন জনমনে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করার পাশাপাশি বড় ধরনের প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা বাড়িয়ে দিচ্ছে।
সর্বশেষ পরিস্থিতির বিবরণ
আজ বৃহস্পতিবার ২৬ ফেব্রুয়ারি দুপুরেও দেশের বিভিন্ন এলাকায় কম্পন অনুভূত হয়েছে। ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় ভূমিকম্প কেন্দ্র (ইএমএসসি) জানিয়েছে, রিখটার স্কেলে এই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৩.৭। এর উৎপত্তিস্থল ছিল ভারতের সিকিম রাজ্যে, যা বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী অঞ্চলের অত্যন্ত কাছে। এর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে বুধবার রাতেও ৫.১ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছিল দেশ, যার কেন্দ্র ছিল মিয়ানমারে।
ফেব্রুয়ারির ধারাবাহিক কম্পনচিত্র
ফেব্রুয়ারির শুরু থেকেই দেশের মানচিত্রে ভূমিকম্পের এক ধারাবাহিক চিত্র ফুটে উঠেছে:
১. ১ ফেব্রুয়ারি: সিলেট অঞ্চলে ৩ মাত্রার কম্পন।
২. ৩ ফেব্রুয়ারি: মিয়ানমার কেন্দ্রিক দুটি কম্পনের পাশাপাশি সাতক্ষীরার কলারোয়ায় ৪.১ মাত্রার ভূমিকম্প।
৩. ৯ ও ১০ ফেব্রুয়ারি: সিলেট অঞ্চলে যথাক্রমে ৩.৩ ও ৪ মাত্রার দুটি কম্পন।
৪. ১৯ ফেব্রুয়ারি: সুনামগঞ্জের ছাতকে ৪.১ মাত্রার ভূমিকম্প।
৫. ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত: ছোট-বড় মিলিয়ে মোট নয়টি ভূকম্পন রেকর্ড করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগের কারণ
ভূতত্ত্ববিদদের মতে, আগে বড় ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল সাধারণত ভারত বা মিয়ানমারে হতো। কিন্তু বর্তমানে দেখা যাচ্ছে, কম্পনের কেন্দ্রবিন্দুগুলো দেশের ভেতরেই অবস্থান করছে। নরসিংদী, সাভার বা রাজধানীর বাড্ডার মতো এলাকাগুলো এপিসেন্টারে পরিণত হওয়া ইঙ্গিত দেয় যে, বাংলাদেশের ভূ-অভ্যন্তরে থাকা টেকটোনিক প্লেটগুলো অত্যন্ত সক্রিয় হয়ে উঠেছে।
বিপর্যয়ের আশঙ্কা ও প্রস্তুতি
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ছোট ছোট এই কম্পনগুলো অনেক সময় জমে থাকা শক্তি মুক্ত করে বড় ঝুঁকি কমায়। তবে দীর্ঘ সময় ধরে বড় কোনো শক্তি মুক্ত না হলে তা মহাবিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। বিশেষ করে ঢাকা ও এর আশপাশের নরম মাটির ওপর গড়ে ওঠা অপরিকল্পিত ভবনগুলো মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পেও বড় ধরনের ধ্বংসলীলার শিকার হতে পারে।
প্রকৃতি যখন বারবার সংকেত দিচ্ছে, তখন উদ্ধার অভিযানের প্রস্তুতির চেয়ে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থায় জোর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। বিল্ডিং কোড মেনে ভবন নির্মাণ নিশ্চিত করা এবং ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো দ্রুত সংস্কার বা অপসারণের মাধ্যমেই কেবল সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনা সম্ভব বলে তারা মনে করছেন।
সেলিম/
আপনার জন্য নির্বাচিত নিউজ
- ২৬ আগস্টের সরকারি ছুটি, যারা পাবেন না
- বাংলাদেশ-ব্রাজিল ম্যাচের সম্ভাব্য তারিখ জানা গেল
- আজকের স্বর্ণের বাজারদর: ভরিতে বাড়ল ৫,৪৮২ টাকা
- আজকের স্বর্ণের বাজারদর; ২৪ আগস্ট ২০২৬
- আজকের সকল দেশের টাকার রেট: ২৪ আগস্ট ২০২৬
- ৯০ মিনিটের খেলা শেষ; বার্সেলোনা বনাম এলচে
- ২৬ আগস্ট থেকে টানা ৪ দিনের ছুটি, কারা পাবেন না
- সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে নবম পে-স্কেলের গেজেট
- গুগল প্রতি মিনিটে কত টাকা আয় করে জানেন
- পে স্কেলে পরিবর্তনের আভাস, অর্থায়ন নিয়ে চলছে হিসাব-নিকাশ
- এসএসসি ২০২৭: পরীক্ষার তারিখ ও পূর্ণাঙ্গ রুটিন প্রকাশ
- ব্যক্তিগত হেলিকপ্টারের দাম কত, ঘণ্টায় কত জ্বালানি লাগে
- ২০২৭ সালে রমজান ও ঈদুল ফিতর কবে, জানাল জ্যোতির্বিজ্ঞান কেন্দ্র
- বিদ্যুৎ আমদানিতে বাংলাদেশে নতুন চার্জ বসাচ্ছে ভারত
- Samsung Galaxy S27 Ultra: লিক থেকে যেসব তথ্য জানা গেল
