পিলখানার ৩৬ ঘণ্টা: জিম্মি কিশোরী বুশরার স্মৃতিতে সেই ভয়াল রক্তস্নাত দিন
নিজস্ব প্রতিবেদক: ২০০৯ সালের সেই অভিশপ্ত দিনে পিলখানার ভেতরে সপরিবারে আটকা পড়েছিলেন ফাবলিহা বুশরা। তার বাবা লেফটেন্যান্ট কর্নেল লুৎফর রহমান খান ছিলেন তৎকালীন বিডিআর হাসপাতালের মনোরোগ বিশেষজ্ঞ। জওয়ানদের হাতে সেদিন তিনিও প্রাণ হারান। ১৪ বছর বয়সে বাবাকে হারানো সেই কিশোরী বুশরা এখন ২৩ বছরের তরুণী, পড়ছেন একটি মেডিকেল কলেজে। দীর্ঘ বছর পর নিজের জীবনের সেই দুঃসহ স্মৃতির ঝাঁপি খুলেছেন তিনি।
গোলাগুলির শব্দে শুরু হওয়া সেই সকাল
সেদিন ছিল বুশরার ছুটির দিন। সকালের নাস্তা করার সময় হঠাৎ গোলাগুলির শব্দে চারপাশ কেঁপে ওঠে। ডিজি বাংলোর পাশের বাসাতেই থাকতেন তারা। বুশরা জানান, বাবা ফোন করে তার মায়ের সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছিলেন, সেটাই ছিল শেষ যোগাযোগ। এরপর শুরু হয় তাণ্ডব। জানালা ভেদ করে বুলেট ভেতরে আসা এবং বাসার নিচে থাকা গাড়িতে আগুন দেওয়ার দৃশ্য দেখে স্তম্ভিত হয়ে যান তারা। মুখে কাপড় বাঁধা ও মাস্ক পরা হাজার হাজার জওয়ানের সেই উন্মত্ত রূপ আগে কখনোই দেখেননি তিনি।
কোয়ার্টার গার্ডে জিম্মি দশা
জওয়ানরা বুশরাদের বাসা থেকে বের করে নিয়ে যাওয়ার সময় তার মায়ের বুকে বন্দুক ঠেকিয়ে হুমকি দেয়। ছোট ভাই ও মায়ের সঙ্গে বুশরাকে নিয়ে যাওয়া হয় কোয়ার্টার গার্ডে। সেখানে একটি ছোট রুমে প্রায় ৭০-৮০ জনকে গাদাগাদি করে রাখা হয়েছিল। বুশরা স্মৃতিচারণ করে বলেন, অফিসারদের পরিবারগুলোকে অমানবিক নির্যাতন করা হচ্ছিল। তার নিজের পিঠে লাথি মারা হয় এবং বন্দুকের বাঁট দিয়ে আঘাত করা হয় মাথার পেছনে।
বন্দুকের নলে উপহাস
অবরুদ্ধ অবস্থায় প্রতিটি মুহূর্ত ছিল মৃত্যুভয়ের। বুশরা জানান, গরাদের ফাঁক দিয়ে বন্দুকের নল তার দিকে তাক করে জওয়ানরা হাসাহাসি করছিল এবং বলছিল 'চোখ বন্ধ কর, কিছু বোঝা যাবে না'। তাদের কাছে বিষয়টি ছিল একটি নিষ্ঠুর কৌতুক। বুশরা ও তার মা শুধু দোয়া পড়ছিলেন এবং এক ফোঁটা পানি খেয়ে পুরো ৩৬ ঘণ্টা কাটিয়েছিলেন।
সেই বীভৎস দৃশ্য ও পরবর্তী ট্রমা
বুশরা নিজের চোখে দেখেছিলেন একজন ধোপাকে অফিসার বাঁচানোর চেষ্টার অপরাধে ২০-২৫ জন মিলে পিটিয়ে মারছে। সেই আর্তনাদ আজও তার কানে বাজে। পিলখানা থেকে মুক্তির পর শুরু হয় আরেক লড়াই। বাবার লাশ পাওয়ার পর বুশরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। টানা সাত বছর তাকে থেরাপি ও মানসিক চিকিৎসা নিতে হয়েছে। বাবা ছিলেন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ, আর বুশরাকে লড়তে হয়েছে পোস্ট ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডারের সঙ্গে।
বিদ্রোহ নয়, এটি ছিল নৃশংস হত্যাযজ্ঞ
বুশরা মনে করেন, ২০০৯ সালের সেই ঘটনা মোটেও কোনো বিদ্রোহ ছিল না। তিনি বলেন, বিদ্রোহ হয় অন্যায়ের বিরুদ্ধে। কিন্তু পিলখানার ভেতরে তারা যা দেখেছেন তা ছিল নিছক উল্লাস আর গণহত্যা। ছোট শিশুদের গালিগালাজ আর নারীদের গায়ে হাত তোলাকে কোনোভাবেই বিদ্রোহ বলা যায় না। তিনি এই ঘটনাকে ম্যাসাকার বা নারকীয় হত্যাযজ্ঞ হিসেবেই দেখেন।
৯ বছর পর এখন বুশরা একজন হবু চিকিৎসক। বাবার কবরে একা গিয়ে সময় কাটানো আর মানুষের সেবা করার স্বপ্ন নিয়েই তিনি এগিয়ে যাচ্ছেন, যদিও মনের ভেতরকার সেই ক্ষত কোনোদিনও শুকানোর নয়।
সোহাগ/
আপনার জন্য নির্বাচিত নিউজ
- India Vs England; লাইভ দেখুন এখানে
- সরকারি চাকরিতে বড় পরিবর্তন: ৩ বছরের ‘ব্যাকডেট’ সুবিধা
- আজকের সোনার বাজারদর: ৬ মার্চ ২০২৬
- বাংলাদেশে ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা
- ৮ মার্চ থেকে নতুন নিয়মে তেল বিক্রি
- তারেক রহমানের প্রতিশ্রুতি ও পে স্কেল বাস্তবায়ন: সর্বশেষ অগ্রগতি
- জুলাই ২০২৬ থেকে নবম পে স্কেল কার্যকর
- জাতীয়করণ যেভাবে করা হবে এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান
- আজকের সোনার বাজারদর: ৭ মার্চ ২০২৬
- আজ এক ভরি স্বর্ণের দাম
- ২০২৬ সালের জুলাই থেকে নবম পে স্কেল কার্যকরের পরিকল্পনা
- জুলাই ২০২৬ থেকে নবম পে স্কেল; ১২ই মার্চ আসছে বড় সিদ্ধান্ত
- তেলের দাম এক সপ্তাহে বাড়লো ২০ শতাংশ
- আজকের সকল টাকার রেট: ৬ মার্চ ২০২৬
- বাংলাদেশে ঈদ ২০ মার্চ না ২১ মার্চ! জ্যোতির্বিজ্ঞানের চুড়ান্ত সময় ঘোষণা
