ইউরোপের যুদ্ধ বিমান টাইফুন আসছে বাংলাদেশে!
বাংলার আকাশে ইউরোপীয় গর্জন: ইউরোফাইটার টাইফুন ও বাংলাদেশের সম্ভাবনা
নিজস্ব প্রতিবেদক: আধুনিক আকাশযুদ্ধের একটি ধ্রুব সত্য হলো—আকাশসীমা যার, যুদ্ধের জয় তার। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে ইউরোপের চার মহাশক্তি জার্মানি, যুক্তরাজ্য, ইতালি এবং স্পেনের যৌথ প্রচেষ্টায় তৈরি হয়েছে ইউরোফাইটার টাইফুন। এটি কেবল একটি যুদ্ধবিমান নয়, বরং এটি একটি বুদ্ধিমান সেন্সর দানব এবং শক্তিশালী মাল্টি-রোল কমব্যাট প্ল্যাটফর্ম। আশির দশকের শেষে সোভিয়েত ইউনিয়নের এসইউ-২৭ এবং মিগ-২৯ এর মতো শক্তিশালী বিমানের মোকাবিলা করতে নেটো দেশগুলোর আকাশ রক্ষায় এই প্রকল্পের সূচনা হয়েছিল। নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে ১৯৯৪ সালে প্রথম আকাশে ওড়ে এই বিমানটি, যা ২০০৩ সালে ইউরোফাইটার টাইফুন নামে আত্মপ্রকাশ করে।
টাইফুনের অভাবনীয় প্রযুক্তি ও নকশা
টাইফুনের নকশাকে তিনটি বিশেষণে সংজ্ঞায়িত করা যায়—এজাইল বা ক্ষিপ্র, ইন্টেলিজেন্ট বা বুদ্ধিমান এবং লেথাল বা প্রাণঘাতী। এর ডেল্টা উইং ডিজাইন ডগফাইটে একে অনন্য ক্ষিপ্রতা দান করে। এটি একটি আধা-স্টিলথ বিমান, যার বডি কম্পোজিট ফাইবার এবং রাডার শোষণকারী পেইন্ট দিয়ে তৈরি, যা একে শত্রুর রাডারে ধরা পড়া কঠিন করে তোলে। এর ইজে-২০০ ইঞ্জিনটি ইউরোপীয় প্রযুক্তির গর্ব, যা আফটার বার্নার ছাড়াই সুপারক্রুজ বা শব্দের চেয়ে দ্রুত গতিতে উড়তে সক্ষম। এটি কেবল জ্বালানি সাশ্রয় করে না, বরং ইঞ্জিনের তাপ কমিয়ে শত্রুর ইনফ্রারেড সেন্সরকে ফাঁকি দিতে সাহায্য করে।
সেন্সর ও অস্ত্রের বিধ্বংসী ক্ষমতা
টাইফুনকে বলা হয় সেন্সর দানব। এর ক্যাপ্টর ই-এএসএ রাডার বিশ্বের অন্যতম উন্নত রাডার সিস্টেম, যা ৩৬০ ডিগ্রি স্ক্যান ক্ষমতা রাখে। এর বিশেষত্ব হলো সেন্সর ফিউশন, যা যুদ্ধক্ষেত্রের লাইভ থ্রিডি ছবি পাইলটের সামনে ফুটিয়ে তোলে। পাইলটের হেলমেট মাউন্টেড সাইট প্রযুক্তির ফলে তিনি যেদিকে তাকান, মিসাইল সেদিকেই লক হয়ে যায়। অস্ত্রের ক্ষেত্রে টাইফুন ১৩টি হার্ড পয়েন্টে মেটিউর বিভিআর মিসাইল বহন করতে পারে, যার রেঞ্জ ২০০ কিলোমিটারের বেশি। এছাড়া স্ট্রোম শ্যাডো ক্রুজ মিসাইল এবং প্রিসিশন গাইডেড বোমা ব্যবহারের মাধ্যমে এটি স্থল ও সমুদ্রে নিখুঁত হামলা চালাতে সক্ষম।
বাস্তব যুদ্ধে টাইফুনের সাফল্য
লিবিয়া অপারেশন থেকে শুরু করে ইরাক ও সিরিয়ায় আইএসআইএস বিরোধী অভিযানে টাইফুন তার নির্ভরযোগ্যতা প্রমাণ করেছে। এটি কেবল আকাশসীমা রক্ষা নয়, বরং স্থল লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গুঁড়িয়ে দিতে সমানভাবে কার্যকর। প্রতিটি নতুন সংস্করণে টাইফুন আরও শক্তিশালী হয়েছে এবং বর্তমানে এর সর্বশেষ ট্রাঞ্চ-৪ সংস্করণটি বিশ্বের অন্যতম সেরা সাড়ে চার প্রজন্মের যুদ্ধবিমান।
বাংলাদেশ ও ফোর্সেস গোল ২০৩০
ফোর্সেস গোল ২০৩০-এর আওতায় বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে আধুনিক ও শক্তিশালী যুদ্ধবিমান খুঁজছে। ২০২৫ সালে ইতালীয় কোম্পানি লিওনার্দোর সঙ্গে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর আগ্রহপত্র সই হওয়ার মাধ্যমে টাইফুন আসার সম্ভাবনা এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। টাইফুন যুক্ত হলে বাংলাদেশ মেটিউর মিসাইল ও অত্যাধুনিক সেন্সর প্রযুক্তির সুবিধা পাবে, যা দেশের আকাশ ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, টাইফুন যুক্ত হওয়া মানেই বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর গ্লোবাল এয়ার সুপিরিয়রিটি ক্লাবে প্রবেশ করা।
সোহাগ/
আপনার জন্য নির্বাচিত নিউজ
- আজকের সোনার বাজারদর: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
- পে-স্কেলে সর্বনিম্ন বেতন ৩৫ হাজার; যা জানা গেল
- ৫ লক্ষণ দেখলেই বুঝবেন ক্যানসারে ভুগছেন
- দেশের বাজারে আজ ১৮, ২১, ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম
- ফ্যামিলি কার্ড আবেদন: লাগবে যেসব কাগজপত্র
- সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সুখবর আসছে টানা ১০ দিনের ছুটি
- শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটির তালিকায় বড় পরিবর্তন
- আজ এক ভরি ১৮, ২১, ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম
- সংরক্ষিত নারী আসনে জামায়াতের প্রার্থী তালিকায় থাকছেন যারা
- যে দুই জেলা দিয়ে ফ্যামিলি কার্ডের যাত্রা শুরু
- টানা ১০ দিনের সরকারি ছুটির সুযোগ
- আজকের ইফতারের সময়; ৪ রমজান
- এবার ঈদুল ফিতরে কত দিনের ছুটি; জেনে নিন হিসাব-নিকাশ
- দেশের চার বিভাগে বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা
- সংরক্ষিত নারী আসনে থাকবেন কারা, জানালেন মির্জা ফখরুল
