কেন ১৭ গুণ বেশি বেতন; পে-স্কেল নিয়ে সরব ডা. আবদুন নূর তুষার
নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের সরকারি বেতন কাঠামো বা পে-স্কেলে বিদ্যমান চরম বৈষম্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক জোরালো প্রশ্ন তুলেছেন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব ডা. আবদুন নূর তুষার। তিনি পিয়ন ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বেতনের মধ্যকার বিশাল ব্যবধানকে অযৌক্তিক হিসেবে উল্লেখ করে ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
বৈষম্যের চিত্র
ডা. তুষার তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, যদি একজন পিয়নের বেতন ৭ হাজার টাকা হয়, তবে একজন সিইও বা সমমর্যাদার কর্মকর্তা কেন ১ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা বেতন পাবেন? তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন একজন ব্যক্তি অন্য কর্মীদের তুলনায় ১০ থেকে ১৭ গুণ বেশি বেতন পাবেন, যেখানে নিম্ন আয়ের কর্মীরাই তাকে কাজ পরিচালনায় সরাসরি সাহায্য করে থাকেন।
মূল পয়েন্টগুলো একনজরে:
* বেতন ব্যবধান: উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও নিম্ন পদের কর্মচারীদের বেতনের অনুপাত ১০:১ বা ১৭:১ হওয়াকে সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে অসম্মানজনক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
* ন্যায্য মজুরির অভাব: দীর্ঘ সময় ধরে বেতন কমিশন নিয়ে আলোচনা হলেও এখনো পর্যন্ত সাধারণ কর্মচারীদের জন্য ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
* মুদ্রাস্ফীতির প্রভাব: গত ১০ থেকে ১৫ বছরে জীবনযাত্রার ব্যয় ও মুদ্রাস্ফীতি যে হারে বেড়েছে, সেই তুলনায় নিম্ন আয়ের মানুষের আয় বাড়েনি।
"ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা নিয়ে আলাপ হচ্ছে না... গত ১০-১৫ বছরে মুদ্রাস্ফীতি কত পারসেন্ট হয়েছে সেটা কি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে?" — ডা. আবদুন নূর তুষার
সাধারণ মানুষের মতে, মুদ্রাস্ফীতির এই বাজারে নিম্নবিত্ত সরকারি কর্মচারীরা যখন সামান্য বেতনে হিমশিম খাচ্ছেন, তখন উচ্চপদে আসীনদের সুযোগ-সুবিধা ও বেতনের পাহাড় তৈরি হওয়া সামাজিক বৈষম্যকে আরও প্রকট করে তুলছে। অবিলম্বে একটি যুগোপযোগী ও মানবিক বেতন কাঠামো প্রণয়ন এখন সময়ের দাবি।
সোহাগ/
