বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর তোড়জোড়: ইউনিটপ্রতি ১ টাকা ৮০ পয়সা বৃদ্ধির প্রস্তাব
নিজস্ব প্রতিবেদক: বৈশ্বিক যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি তেলের পর এবার বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে সরকার। বিদ্যুৎ খাতের বিশাল ভর্তুকির চাপ কমাতে আবাসিক গ্রাহক পর্যায়ে ইউনিটপ্রতি ৭০ পয়সা থেকে ১ টাকা ৮০ পয়সা পর্যন্ত দাম বাড়ানোর একটি খসড়া প্রস্তাব তৈরি করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ। তবে নিম্ন আয়ের মানুষের কথা বিবেচনায় নিয়ে প্রান্তিক বা ‘লাইফলাইন’ গ্রাহকদের (০-৭৫ ইউনিট) জন্য আপাতত দাম না বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে।
ভর্তুকির চাপ ও বর্তমান পরিস্থিতি
বিদ্যুৎ সচিব ফারজানা মমতাজ স্বাক্ষরিত প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে এলএনজি, ফার্নেস অয়েল ও ডিজেলের উৎপাদন এবং আমদানি ব্যয় অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। বর্তমানে বিদ্যুতের গড় পাইকারি মূল্য উৎপাদন ব্যয়ের চেয়ে অনেক কম। ফলে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সম্ভাব্য ঘাটতি দাঁড়াতে পারে প্রায় ৫৬ হাজার ৪৭৫ কোটি টাকা। এই বিশাল ঘাটতি সামাল দিতেই মূল্য সমন্বয়ের পথে হাঁটছে সরকার।
পাইকারি ও খুচরা মূল্যের ৩টি বিকল্প প্রস্তাব
পাইকারি বিদ্যুতের দাম বাড়াতে ৩টি আলাদা প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে:
১. প্রতি ইউনিটে ৫০ পয়সা বৃদ্ধি (ভর্তুকি কমবে ৫,২৪৪ কোটি টাকা)।
২. প্রতি ইউনিটে ১ টাকা বৃদ্ধি (ভর্তুকি কমবে ১০,৪৮৯ কোটি টাকা)।
৩. প্রতি ইউনিটে ১ টাকা ২০ পয়সা বৃদ্ধি (ভর্তুকি কমবে ১২,৫৮৬ কোটি টাকা)।
আবাসিক গ্রাহকদের ক্ষেত্রে ব্যবহারভেদে ধাপে ধাপে ৭০ পয়সা থেকে ১ টাকা ৮০ পয়সা পর্যন্ত দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক চাপ ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট
বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে, আইএমএফের পক্ষ থেকে বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি কমিয়ে একটি দীর্ঘমেয়াদী রোডম্যাপ প্রণয়নের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া শ্রীলঙ্কা ও সিঙ্গাপুরের মতো দেশগুলোও আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ইতিমধ্যে বিদ্যুতের দাম ২০ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ
ভোক্তা অধিকার সংগঠন ক্যাব (CAB)-এর জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. শামসুল আলম মনে করেন, দাম না বাড়িয়ে অপচয় এবং অযৌক্তিক ব্যয় কমিয়েও ঘাটতি মেটানো সম্ভব। বিশেষ করে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর সক্ষমতা পুরোপুরি ব্যবহার করলে ফার্নেস অয়েলভিত্তিক উচ্চমূল্যের বিদ্যুতের ওপর নির্ভরতা কমবে এবং প্রায় ৩০০ কোটি টাকা সাশ্রয় হতে পারে।
আইন ও প্রক্রিয়াগত বিতর্কআইন অনুযায়ী বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম নির্ধারণের দায়িত্ব বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি)। গণশুনানির মাধ্যমে স্বচ্ছতা বজায় রেখে দাম বাড়ানোর নিয়ম থাকলেও, সরাসরি মন্ত্রিসভা কমিটির মাধ্যমে মূল্য নির্ধারণের উদ্যোগ আইনগত কাঠামোর সঙ্গে কিছুটা সাংঘর্ষিক হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বর্তমানে এই প্রস্তাবটি মন্ত্রিসভার সম্মতির অপেক্ষায় রয়েছে। মন্ত্রিসভা অনুমোদন দিলে এটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য বিইআরসিতে পাঠানো হবে।
সোহাগ/
আপনার জন্য নির্বাচিত নিউজ
- নতুন পে-স্কেলের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে কবে
- সম্ভাব্য নবম জাতীয় পে-স্কেলের বেতন গ্রেড প্রকাশ
- আজকের সোনার বাজারদর: ১৩ মে ২০২৬
- নতুন পে স্কেলে কোন গ্রেডে কত বেতন হতে পারে; সম্ভাব্য বেতন গ্রেড প্রকাশ
- নবম পে-স্কেলে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতন কত হতে পারে
- আজকের সকল দেশের টাকার রেট: ১৩ মে ২০২৬
- স্ত্রী-সন্তানসহ ৫ হত্যার অভিযুক্ত ফোরকানের মরদেহ উদ্ধার
- আজকের সোনার বাজারদর: ১৪ মে ২০২৬
- ঈদ ও গরমের ছুটিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে টানা দীর্ঘ বন্ধ, কবে খুলবে স্কুল-মাদরাসা
- আজকের সকল দেশের টাকার রেট: ১৪ মে ২০২৬
- দেশের তিন বিভাগে ভারী বৃষ্টির আভাস
- ১৭ মে বাংলাদেশে ঈদুল আজহার চাঁদ দেখার সম্ভাবনা কতটুকু
- ৫ থেকে ৮ দিন কালবৈশাখী ঝড়ের আশঙ্কা
- সাগরে লঘুচাপের আভাস, ঘূর্ণিঝড় ও কালবৈশাখীর শঙ্কা বাড়ছে
- নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নে বড় অগ্রগতি
