| ঢাকা, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩

আইন ও কূটনীতির জটিলতায় শেখ হাসিনার দেশে ফেরা, বাস্তবতা কতটা

জাতীয় ডেস্ক . বিনোদন৬৯.কম
২০২৬ জুন ০৩ ২২:৩৬:৪৯
আইন ও কূটনীতির জটিলতায় শেখ হাসিনার দেশে ফেরা, বাস্তবতা কতটা

নিজস্ব প্রতিবেদক: গণঅভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন নিয়ে নানা গুঞ্জন ছড়ালেও সরকার বলছে, চলমান মামলার পরিপ্রেক্ষিতে তাকে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনার দেশে ফেরা বা তাকে ফেরানোর বাস্তবতা আসলে কতটা?

বিশ্লেষকদের মতে, বিষয়টি শুধু একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরার প্রশ্ন নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে আন্তর্জাতিক আইন, কূটনৈতিক সম্পর্ক, বিচারিক প্রক্রিয়া এবং দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা। ফলে শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন এখন বহুমাত্রিক আলোচনার কেন্দ্রে।

কূটনৈতিক ও আইনি প্রক্রিয়া কতটা কার্যকর?

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর শেখ হাসিনা ভারতে চলে যান। এরপর তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করতে বাংলাদেশ সরকার ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানায়। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভারতের কাছে ‘নোট ভারবাল’ পাঠিয়ে ২০১৩ সালের ভারত-বাংলাদেশ বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় শেখ হাসিনাকে ফেরত চায়।

চুক্তি অনুযায়ী গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত বা দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে প্রত্যর্পণের সুযোগ থাকলেও, কোনো মামলা ‘রাজনৈতিক প্রকৃতির’ হিসেবে বিবেচিত হলে সংশ্লিষ্ট দেশ প্রত্যর্পণ নাও করতে পারে। ফলে ভারত চাইলে বিষয়টিকে রাজনৈতিক বিবেচনায় দেখে সিদ্ধান্ত বিলম্বিত বা প্রত্যাখ্যানও করতে পারে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সরকার শেখ হাসিনাকে আইনি প্রক্রিয়ায় দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার নিশ্চিত করতে চায়। তার ভাষায়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বিদ্যমান এক্সট্রাডিশন চুক্তি অনুযায়ী আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে ফেরত চাওয়া হয়েছে।

আইন কী বলছে?

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বন্দি প্রত্যর্পণের আইনি ভিত্তি রয়েছে ১৯৭৪ সালের ‘বন্দি প্রত্যর্পণ আইন’ এবং ২০১৩ সালের দ্বিপক্ষীয় প্রত্যর্পণ চুক্তিতে। এই কাঠামোর আওতায় গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ফেরানোর সুযোগ রয়েছে।

তবে আইনে কিছু ব্যতিক্রমও আছে। কোনো অভিযোগ রাজনৈতিক হিসেবে বিবেচিত হলে প্রত্যর্পণ বাধ্যতামূলক নয়। আবার অভিযোগের গুরুত্ব, বিচারিক প্রক্রিয়ার গ্রহণযোগ্যতা, নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের নিশ্চয়তাও বিবেচনায় নেওয়া হয়।

আইন বিশেষজ্ঞ ড. শাহ্দীন মালিকের মতে, শেখ হাসিনাকে ফেরানো অনেকটাই নির্ভর করবে ভারতের রাজনৈতিক অবস্থানের ওপর। তিনি বলেন, অতীতে রাষ্ট্রপ্রধান বা সরকারপ্রধানদের বিদেশে আশ্রয় নেওয়ার পর ফেরত পাঠানোর নজির খুবই সীমিত। ভারত যদি মনে করে দেশে ফিরে তিনি ন্যায়বিচার পাবেন না, তাহলে প্রত্যর্পণের সম্ভাবনা কমে যেতে পারে।

গুঞ্জনের উৎস কোথায়?

সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়েছে। আওয়ামী লীগের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজেও তার কথিত বক্তব্য প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে দাবি করা হয় তিনি ‘জনগণের শক্তিতে’ দেশে ফিরবেন।

তবে এসব দাবির পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বা নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শেখ হাসিনাকে ঘিরে আগ্রহ ও রাজনৈতিক বিভাজনের কারণে সামান্য তথ্যও দ্রুত গুঞ্জনে রূপ নেয়।

সরকারের অবস্থান কী?

সরকার বলছে, বিষয়টি রাজনৈতিক নয়, বরং আইনি কাঠামোর মধ্যেই দেখা হচ্ছে। সরকারের মতে, আদালতে বিচারাধীন বা দণ্ডপ্রাপ্ত কোনো নাগরিকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, শেখ হাসিনাকে বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই দেশে ফেরানোর বিষয়ে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।

দেশে ফেরার পথে বড় বাধা কোথায়?

কূটনীতিক ও বিশ্লেষকদের মতে, সবচেয়ে বড় জটিলতা শেখ হাসিনার রাজনৈতিক পরিচয়। তিনি শুধু দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি নন, বরং দীর্ঘদিনের সরকারপ্রধান এবং বড় রাজনৈতিক দলের নেতা।

আন্তর্জাতিকভাবে রাজনৈতিক নেতাদের প্রত্যর্পণের ক্ষেত্রে সাধারণত চারটি বিষয় গুরুত্ব পায়: অভিযোগ রাজনৈতিক কি না, দেশে ফিরে ন্যায়বিচারের নিশ্চয়তা, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা এবং বিচার প্রক্রিয়ার আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা।

এসব প্রশ্নে সন্তোষজনক নিশ্চয়তা না থাকলে প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হতে পারে।

শেখ হাসিনা কি স্বেচ্ছায় ফিরবেন?

আরেকটি আলোচনা হচ্ছে, শেখ হাসিনা স্বেচ্ছায় দেশে ফিরবেন কি না। তাত্ত্বিকভাবে যে কোনো নাগরিক নিজ দেশে ফিরতে পারেন। তবে দেশে ফিরেই গ্রেপ্তার, বিচারিক হেফাজত বা দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের মুখে পড়ার আশঙ্কা থাকলে সে সিদ্ধান্ত সহজ হয় না।

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান বাস্তবতায় তার স্বেচ্ছায় ফেরার স্পষ্ট কোনো ইঙ্গিত নেই। তবে রাজনৈতিক সমঝোতা বা পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে ভবিষ্যতে চিত্র বদলাতেও পারে।

বাস্তবতা কী বলছে?

বিশ্লেষকদের মতে, শেখ হাসিনাকে ফেরাতে বাংলাদেশ সরকারের আগ্রহ রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি কাঠামোও বিদ্যমান। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অনেকটাই নির্ভর করবে ভারতের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অবস্থানের ওপর।

সব মিলিয়ে, শেখ হাসিনার দেশে ফেরা এখনই নিশ্চিত বলা যেমন সম্ভব নয়, তেমনি একে পুরোপুরি অসম্ভব বলাও বাস্তবসম্মত হবে না। বিষয়টি এখনও আইন, কূটনীতি ও রাজনীতির জটিল সমীকরণের মধ্যেই রয়েছে।

সিদ্দিকা/

আপনার জন্য নির্বাচিত নিউজ

ক্রিকেট

বাংলাদেশ বনাম জিম্বাবুয়ে; দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি শেষ, জানুন ফলাফল

বাংলাদেশ বনাম জিম্বাবুয়ে; দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি শেষ, জানুন ফলাফল

নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রথম টি-টোয়েন্টিতে হার দিয়ে সিরিজ শুরু করলেও দ্বিতীয় ম্যাচে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ। ...

১৫ ওভারের খেলা শেষ; জিম্বাবুয়ে বনাম বাংলাদেশ ম্যাচ; লাইভ দেখুন এখানে

১৫ ওভারের খেলা শেষ; জিম্বাবুয়ে বনাম বাংলাদেশ ম্যাচ; লাইভ দেখুন এখানে

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের বিপক্ষে চলমান ম্যাচে টসে জিতে আগে ব্যাটিং করছে জিম্বাবুয়ে। ১৫.৬ ওভার শেষে ...

ফুটবল

নিলামে উঠছে ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ ম্যাচ বল, দাম কত!

নিলামে উঠছে ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ ম্যাচ বল, দাম কত!

নিজস্ব প্রতিবেদক: ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় ম্যাচের একটি বল এবার উঠছে নিলামে। ১৯৮৬ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের ...

তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচের গোলও কি গণনা হবে গোল্ডেন বুটে

তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচের গোলও কি গণনা হবে গোল্ডেন বুটে

নিজস্ব প্রতিবেদক: ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের পর্দা নামতে আর বাকি মাত্র দুটি ম্যাচ। আগামী রোববার ফাইনালে ...