আশা ইসলাম
রিপোর্টার
গর্ভবতী মায়েদের জন্য সরকারি অনুদান: কীভাবে আবেদন করবেন
মাতৃত্বকালীন ভাতা আবেদন নির্দেশিকা: প্রতি মাসে পাবেন ৮৫০ টাকা
নিজস্ব প্রতিবেদক: মা হওয়া একজন নারীর জীবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়। এই সময়ে গর্ভবতী মা ও নবজাতকের সঠিক পুষ্টি নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকার আর্থিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। যা বর্তমানে মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচি নামে পরিচিত। এই প্রকল্পের মাধ্যমে একজন মা গর্ভাবস্থা থেকে শুরু করে শিশুর তিন বছর বয়স পর্যন্ত সরকারি আর্থিক সহায়তা পেতে পারেন।
আবেদনের যোগ্যতা ও শর্তাবলি
সব গর্ভবতী মা এই ভাতার জন্য আবেদন করতে পারবেন না। আবেদনের জন্য নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে:
১. বয়স ও নাগরিকত্ব: আবেদনকারীকে অবশ্যই জন্মসূত্রে বাংলাদেশের স্থায়ী নাগরিক হতে হবে এবং বয়স সর্বনিম্ন ২০ বছর হতে হবে।
২. আর্থিক অবস্থা: দরিদ্র বা নিম্নবিত্ত পরিবারের সদস্য হতে হবে। গ্রামীণ পর্যায়ে ভূমিহীন বা অতি দরিদ্র এবং শহর অঞ্চলে স্বল্প আয়ের কর্মজীবী নারীরা (যেমন পোশাক শ্রমিক বা গৃহকর্মী) অগ্রাধিকার পাবেন।
৩. গর্ভধারণের সংখ্যা: এই ভাতা কেবল প্রথম ও দ্বিতীয় গর্ভধারণের জন্য প্রযোজ্য। তৃতীয় সন্তানের ক্ষেত্রে এই সুবিধা পাওয়া যাবে না।
৪. আবেদনের সময়: গর্ভাবস্থার ৩ মাস থেকে ৬ মাসের মধ্যে আবেদন করা বাধ্যতামূলক।
৫. অন্যান্য ভাতা: আবেদনকারী যদি সরকারের অন্য কোনো সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির (যেমন বিধবা ভাতা বা ভিডব্লিউবি কার্ড) সুবিধাভোগী হন, তবে তিনি এই ভাতা পাবেন না।
ভাতার পরিমাণ ও সময়কাল
২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের বাজেট অনুযায়ী ভাতার পরিমাণ বৃদ্ধি করা হয়েছে:
* মাসিক ভাতার পরিমাণ: বর্তমানে প্রতি মাসে ৮৫০ টাকা (আগে ছিল ৮০০ টাকা)।
* প্রদানের সময়সীমা: একজন মা মোট ৩৬ মাস বা ৩ বছর এই সুবিধা পাবেন।
* মোট টাকার পরিমাণ: ৩ বছরে একজন মা সর্বমোট ৩০,৬০০ টাকা পাবেন।
* পেমেন্ট পদ্ধতি: সরাসরি উপকারভোগীর মোবাইল ব্যাংকিং (বিকাশ বা নগদ) অথবা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ডিজিটাল পদ্ধতিতে টাকা পাঠানো হয়।
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
আবেদনের জন্য নিচের নথিগুলো আগে থেকেই সংগ্রহ করে রাখুন:
১. আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধন।
২. স্বামীর জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি।
৩. গর্ভাবস্থার প্রমাণস্বরূপ স্বাস্থ্য কার্ড বা সরকারি চিকিৎসকের প্রত্যয়নপত্র।
৪. নিজস্ব নামে খোলা সচল ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা মোবাইল ব্যাংকিং নম্বর।
৫. আবেদনকারীর পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি ও নাগরিকত্ব সনদ।
আবেদন করার সহজ পদ্ধতি
অনলাইনের চেয়ে সরাসরি কার্যালয়ে গিয়ে আবেদন করা বর্তমানে বেশি কার্যকর। পদ্ধতিটি নিচে দেওয়া হলো:
১. কার্যালয়ে যোগাযোগ: আপনার এলাকার ইউনিয়ন পরিষদ সচিব, সংশ্লিষ্ট মহিলা মেম্বার অথবা পৌরসভা/সিটি কর্পোরেশনের ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কার্যালয়ে যান।
২. ফরম সংগ্রহ ও পূরণ: সেখান থেকে মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচির নির্ধারিত ফরম সংগ্রহ করুন। ফরমে আপনার এনআইডি, মোবাইল নম্বর এবং গর্ভাবস্থার তথ্য নির্ভুলভাবে লিখুন।
৩. ফরম জমা: প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংযুক্ত করে ফরমটি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা দিন।
৪. তথ্য যাচাই: আবেদন জমা দেওয়ার পর একটি কমিটি আপনার তথ্যগুলো যাচাই করবে। সরকারি স্বাস্থ্যকর্মীরা প্রয়োজনে আপনার বাড়িতে গিয়ে গর্ভাবস্থা নিশ্চিত করবেন।
৫. চূড়ান্ত অনুমোদন: যাচাই শেষে চূড়ান্ত তালিকায় নাম উঠলে আপনাকে মোবাইল মেসেজ বা জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে। এরপর থেকেই নিয়মিত টাকা আসা শুরু হবে।
এই আবেদন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ সরকারি এবং বিনামূল্যে। ফরম জমা বা তালিকায় নাম দেওয়ার জন্য কাউকে কোনো অতিরিক্ত টাকা দেবেন না। কোনো অনিয়ম বা বাধার সম্মুখীন হলে সরাসরি উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ে অভিযোগ জানান।
আশা/
আপনার জন্য নির্বাচিত নিউজ
- বাড়ল সরকারি ছুটি: নতুন দুটি দিবস পালনের সিদ্ধান্ত নিল সরকার
- সুখবর সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য; বাৎসরিক ছুটি আরো বাড়ালো
- বাংলাদেশে ঈদুল আজহার সম্ভাব্য তারিখ জানাল আমিরাত
- আজকের সোনার বাজারদর: ১৯ এপ্রিল ২০২৬
- আজ ১৮, ২১, ২২ ক্যারেট ১ ভরি স্বর্ণের দাম
- ঈদের আগেই কি নতুন পে-স্কেল; যা জানা গেল
- আজকের সোনার বাজারদর: ২০ এপ্রিল ২০২৬
- ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মিলতে পারে নবম পে-স্কেল
- ২০ এপ্রিল থেকে জিলকদ শুরু; ঈদুল আযহা কবে
- সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির ৩৬ মনোনয়ন: তালিকায় যারা
- ৯০ মিনিটের খেলা শেষ, আর্জেন্টিনা বনাম কলম্বিয়া ফাইনাল; জানুন ফলাফল
- নতুন পে-স্কেলের দাবিতে ১লা মে শাহবাগে কর্মচারী সমাবেশের ডাক
- আজকের সকল টাকার রেট: ১৯ এপ্রিল ২০২৬
- ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধন: কোন বিষয়ে কত পদ শূন্য, তালিকা দেখুন
- দেশে জ্বালানি তেলের নতুন দাম ঘোষণা: কাল থেকে কার্যকর
