আর্টেমিস ২ পৃথিবী ছেড়ে যায়নি; যা জানা গেল
নিজস্ব প্রতিবেদক: পৃথিবী থেকে চারজন নভোচারী চাঁদের উদ্দেশ্যে যাত্রা করলেন, মহাকাশে ৯ দিন কাটিয়ে আবার ফিরে এলেন নীল গ্রহে। কিন্তু এখানে একটি বড় প্রশ্ন জাগে—পৃথিবী তো স্থির নয়, এটি সূর্যের চারদিকে ঘণ্টায় ১ লাখ কিলোমিটারেরও বেশি বেগে ছুটছে। তাহলে ৯ দিন পর পৃথিবী যখন তার আগের অবস্থান থেকে প্রায় ২ কোটি ১৭ লাখ কিলোমিটার দূরে সরে গেছে, তখন আর্টেমিস ২ ফিরে এসে পৃথিবীকে ধরল কীভাবে? যানটি কি তবে বাড়তি এই বিশাল দূরত্ব পার করেছে?
পৃথিবীর মহাকর্ষের অদৃশ্য খোলস
আশ্চর্যের বিষয় হলো, আর্টেমিস ২ কখনো পৃথিবীর মহাকর্ষীয় প্রভাব বা গতি থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়নি। মহাকাশ বিজ্ঞানের ভাষায় বললে, এটি পৃথিবীর গতির সঙ্গেই তাল মিলিয়ে চলছিল। ঠিক যেমন পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল বা চাঁদ নিজেও পৃথিবীর সঙ্গে সঙ্গে সূর্যের চারদিকে ঘুরছে। আমরা যখন বিমানে চড়ি, তখন বিমান যেমন নিজের গতির পাশাপাশি পৃথিবীর আবর্তনের গতির সঙ্গেও ঘোরে, আর্টেমিসের ক্ষেত্রেও বিষয়টি তেমনই।
গতির সেই চিরন্তন সূত্র
পৃথিবী যখন সূর্যের চারদিকে প্রতি সেকেন্ডে ৩০ কিলোমিটার বেগে ছুটছে, আর্টেমিস ২ যখন পৃথিবী থেকে যাত্রা শুরু করে, তখন তার মধ্যেও পৃথিবীর এই সহজাত গতিটি ছিল। নিউটনের গতির সূত্র অনুযায়ী, কোনো গতি বজায় রাখার জন্য বাড়তি বলের প্রয়োজন হয় না, বরং গতি পরিবর্তনের জন্য বল লাগে। ফলে পৃথিবী থেকে পাওয়া সেই বিশাল বেগ আর্টেমিসের মধ্যে অব্যাহত ছিল। এটি চাঁদ অভিমুখে যাওয়ার জন্য জ্বালানির সাহায্যে বাড়তি কিছু গতি তৈরি করেছিল মাত্র, কিন্তু পৃথিবীর সমান্তরালে চলার গতিটি হারিয়ে ফেলেনি।
চাঁদকে তাড়া করতে হয় না
চাঁদ নিজেই পৃথিবীর সঙ্গে সঙ্গে সূর্যের চারদিকে ঘোরে। তাই নভোচারীদের চাঁদকে তাড়া করে বেড়াতে হয় না। বিজ্ঞানীরা আগে থেকেই গণনা করে রাখেন যে একটি নির্দিষ্ট সময় পর চাঁদ এবং পৃথিবী ঠিক কোন অবস্থানে থাকবে। সেই অনুযায়ী একটি গন্তব্য বিন্দু ঠিক করা হয়। আর্টেমিস ২ যখন সেই বিন্দুতে পৌঁছায়, চাঁদও ঠিক তখনই সেখানে হাজির হয়।
ফিরে আসার লুপ
চাঁদকে প্রদক্ষিণ করে আর্টেমিস ২ যখন আবার পৃথিবীর দিকে মুখ ফেরায়, তখন তাকে নতুন করে পৃথিবীকে খুঁজতে হয়নি। কারণ এটি পৃথিবীর গতির ছন্দেই চলছিল। পুরো ভ্রমণপথটি ছিল একটি বিশাল লুপের মতো। পৃথিবী ছেড়ে যাওয়া, চাঁদ ঘুরে আসা এবং পুনরায় ফিরে আসা—এই পুরো সময়ে যানটি আসলে পৃথিবীর মহাকর্ষীয় খোলসের ভেতরেই ছিল।
সহজ কথায়, আর্টেমিস ২ মহাকাশে থাকলেও এটি কখনোই পৃথিবীর প্রভাব বলয় থেকে আলাদা হয়নি। এই নিখুঁত গাণিতিক হিসাব আর মহাকর্ষের টানেই সফলভাবে পৃথিবীতে ফিরে আসতে সক্ষম হয় নভোচারী বহনকারী এই যানটি।
লেখক: প্রভাষক, পরিসংখ্যান বিভাগ, ময়মনসিংহ গার্লস ক্যাডেট কলেজ
আশা/
আপনার জন্য নির্বাচিত নিউজ
- বাংলাদেশ থেকে ইউটিউবে ফ্রিতে দেখা যাবে ২০২৬ বিশ্বকাপ; জেনে নিন সহজ উপায়
- বিশ্বকাপ শুরুর আগেই ব্রাজিল-মরক্কো ম্যাচের ফল জানিয়ে দিল 'জ্যোতিষী' রিতিনিয়া
- পে স্কেল নিয়ে বড় শঙ্কা; কারণ কি!
- কবে থেকে টানা বৃষ্টি হবে জানাল আবহাওয়া অফিস
- ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম কমলো
- একদিনের ব্যবধানে কমল তেলের দাম, কারণ কী
- আজকের স্বর্ণের বাজারদর: ০৩ জুন ২০২৬
- মোটরসাইকেল-অটোরিকশায় কর নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত
- ইউনিট প্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম; কার্যকর কবে
- হাদি হত্যা নিয়ে মমতার বিস্ফোরক বক্তব্য!
- ফিরছে এল নিনো! আরও উষ্ণ হতে পারে বিশ্ব, জাতিসংঘের সতর্কবার্তা
- দুপুরের মধ্যে ৫ জেলায় ঝড়-বৃষ্টির শঙ্কা
- আত্মগোপনে থাকা ছাত্রলীগ সভাপতি ঢাকায় গ্রেপ্তার
- দেশের বাজারে আজ এক ভরি স্বর্ণের দাম
- ভিসার নিয়মে বড় পরিবর্তন আনল ভারত
