প্রাকৃতিক সম্পদ হীন ইসরায়েল যেভাবে হয়ে উঠলো শীর্ষ ধনী
নিজস্ব প্রতিবেদক: ভৌগোলিকভাবে ছোট এবং খনিজ সম্পদহীন হওয়া সত্ত্বেও ইসরায়েল আজ বিশ্বের অন্যতম ধনী ও শক্তিশালী অর্থনীতির দেশ। মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা আর প্রাকৃতিক সম্পদের সীমাবদ্ধতাকে জয় করে দেশটি কীভাবে নিজেদের ‘স্টার্টআপ নেশন’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করল, তা বিশ্বজুড়ে এক বড় কৌতূহলের বিষয়।
মানব পুঁজিই মূল শক্তি
অন্যান্য দেশ যখন খনিজ তেলের ওপর নির্ভর করেছে, ইসরায়েল তখন বিনিয়োগ করেছে মানুষের মেধা বা ‘মানব পুঁজি’র ওপর। ‘প্রয়োজনই উদ্ভাবনের জননী’—এই দর্শনকে সামনে রেখে দেশটি গবেষণায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে। বর্তমানে ইসরায়েল তার জিডিপির প্রায় ৬.৩৫ শতাংশ গবেষণা ও উন্নয়ন (R&D) খাতে ব্যয় করে, যা উন্নত দেশগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ। মজার ব্যাপার হলো, এই ব্যয়ের ৯১ শতাংশই আসে বেসরকারি খাত থেকে।
অর্থনীতির মেরুদণ্ড: হাই-টেক খাত
ইসরায়েলের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি হলো তাদের উচ্চ-প্রযুক্তি বা হাই-টেক খাত। ২০২৪ সালের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির জিডিপিতে এই খাতের অবদান ১৭.৩ শতাংশ। আরও বিস্ময়কর তথ্য হলো, ২০২৫ সালের প্রথমার্ধের রফতানি আয়ের ৫৭.২ শতাংশই এসেছে এই প্রযুক্তি খাত থেকে। বিশেষ করে সাইবার নিরাপত্তা খাতে বিনিয়োগ এখন তুঙ্গে, যা মোট বিনিয়োগের প্রায় ৩৮ শতাংশ।
সামরিক অভিজ্ঞতা ও উদ্ভাবন
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা খাত কেবল যুদ্ধের জন্য নয়, বরং অর্থনীতির ইঞ্জিন হিসেবেও কাজ করে। সামরিক বাহিনীর গোয়েন্দা ইউনিটগুলোকে (যেমন ‘ইউনিট ৮২০০’) বিশ্বমানের প্রযুক্তিবিদ তৈরির কারখানা হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এখান থেকে বেরিয়ে আসা দক্ষ কর্মীরাই পরবর্তীতে সাইবার সিকিউরিটি ও এআই (AI) খাতে বিপ্লব ঘটাচ্ছে। এই মেধার কারণেই গুগল বা এনভিডিয়ার মতো টেক জায়ান্টরা ইসরায়েলে তাদের গবেষণা কেন্দ্র খুলতে আগ্রহী হয়। ২০২৩ সালে দেশটির প্রতিরক্ষা রফতানি রেকর্ড ১৩.১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।
দ্বিমুখী অর্থনীতির ঝুঁকি
অভাবনীয় সাফল্যের পাশাপাশি কিছু কাঠামোগত ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে। হাই-টেক খাতের উৎপাদনশীলতা সাধারণ খাতের তুলনায় ২.২ গুণ বেশি। ফলে মেধা কেবল একমুখী হয়ে পড়ছে, যা অন্য খাতের ডিজিটাল রূপান্তরকে বাধাগ্রস্ত করছে। একে বিশ্লেষকরা ‘ডুয়াল ইকোনমি’ বা দ্বিমুখী অর্থনীতি বলছেন।
বর্তমান চ্যালেঞ্জ ও অনিশ্চয়তা
২০২২ সালের পর থেকে ক্রমবর্ধমান প্রতিরক্ষা ব্যয় এবং ঋণের চাপ নতুন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ২০২৫ সালে হাই-টেক খাতে কর্মসংস্থানের প্রবৃদ্ধি ১.২ শতাংশে নেমে এসেছে, যা আগে ছিল ৬ শতাংশের ওপরে। দীর্ঘমেয়াদী সামরিক দায়িত্ব পালনের কারণে দক্ষ কর্মীরা কর্মক্ষেত্র থেকে দূরে থাকছেন, যা উৎপাদনে প্রভাব ফেলছে।
এছাড়া বিদেশি বিনিয়োগের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতাও এখন ভয়ের কারণ। দেশটির ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশ ভেঞ্চার ক্যাপিটাল বিনিয়োগ আসে দেশের বাইরে থেকে। রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ক্রেডিট রেটিং কমে যাওয়ায় অনেক দক্ষ কর্মী দেশত্যাগ করছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে ইসরায়েলের ‘স্কেল-আপ নেশন’ হওয়ার পথে বড় বাধা হতে পারে।
সার্বিকভাবে, ইসরায়েলের ভবিষ্যৎ এখন কেবল উদ্ভাবনের ওপর নয়, বরং সামরিক স্থিতিশীলতা এবং বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারের ওপর নির্ভর করছে।
সোহাগ/
আপনার জন্য নির্বাচিত নিউজ
- ঈদুল আজহার সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা, ছুটি ৬ দিন
- আজকের সোনার বাজারদর: ১৫ এপ্রিল ২০২৬
- আজকের সোনার বাজারদর: ১৬ এপ্রিল ২০২৬
- লাফিয়ে কমলো স্বর্ণের দাম
- রেকর্ড উচ্চতায় স্বর্ণের দাম; এক ভরি কত হল
- আজকের সকল টাকার রেট: ১৬ এপ্রিল ২০২৬
- পে-স্কেলের ভাগ্য নির্ধারণ হবে ১১ জুন
- আজকের সকল টাকার রেট: ১৫ এপ্রিল ২০২৬
- আগামী ৫ দিন ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা; কমতে পারে তাপপ্রবাহ
- চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনাল চূড়ান্ত: শেষ চারে কে কার মুখোমুখি
- সরকারি চাকরিপ্রার্থীদের জন্য বড় সুখবর
- ৪ কোম্পানির জ্বালানি তেল আমদানি বন্ধ
- বিশ্বকাপের দুই মাস বাকি: স্কালোনি চূড়ান্ত করলেন আর্জেন্টিনার ২২ সদস্যের স্কোয়াড
- ভেজাল কলা চিনুন ১ মিনিটে
- জ্বালানি সাশ্রয়ে কঠোর অবস্থানে সরকার
