জাতিসংঘকে চ্যালেঞ্জ করে শেখ হাসিনার চিঠি; যা জানা গেল
নিজস্ব প্রতিবেদক: জুলাই গণঅভ্যুত্থানে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষের নিহত হওয়ার তথ্য প্রকাশ করেছিল জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয় (ওএইচসিএইচআর)। তবে এই সংখ্যাকে ‘ভিত্তিহীন’ ও ‘অত্যন্ত ভুল’ দাবি করে তা নিয়ে আনুষ্ঠানিক আপত্তি জানিয়েছেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লন্ডনের ডাউটি স্ট্রিট চেম্বারের আইনজীবী স্টিভেন পাউলস কেসির মাধ্যমে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্কের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন শেখ হাসিনা। গত ২৮ মে পাঠানো ওই চিঠিতে জাতিসংঘের ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং প্রতিবেদনে প্রকাশিত নিহতের সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়।
চিঠিতে দাবি করা হয়েছে, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত জাতিসংঘের প্রতিবেদনে ১ হাজার ৪০০ নিহতের যে তথ্য দেওয়া হয়েছে, তা বিভ্রান্তিকর। শেখ হাসিনার পক্ষের আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, অন্তর্বর্তী সরকারের ২০২৫ সালের ১৫ জানুয়ারির সরকারি গেজেটে নিহতের সংখ্যা ৮৩৪ জন উল্লেখ করা হয়েছিল, যা জাতিসংঘের প্রতিবেদনের তুলনায় অনেক কম। একই সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকেও নিহতের সংখ্যা প্রায় ৬৫০ বলা হয়েছিল বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।
তবে এনডিটিভির প্রতিবেদনে উল্লেখিত চিঠির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। যদিও সংবাদমাধ্যমটি দাবি করেছে, তারা চিঠিটি সংগ্রহ ও যাচাই করেছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, আওয়ামী লীগ শুরু থেকেই জাতিসংঘের ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং রিপোর্টের তথ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে আসছে। তবে এই ধরনের চিঠিকে জাতিসংঘ কতটা গুরুত্ব দিতে পারে কিংবা তা কতটা গ্রহণযোগ্য হবে, সে বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি এনডিটিভি।
স্টিভেন পাউলস কেসি ও তার চেম্বার এর আগেও বাংলাদেশের ২০২৪-পরবর্তী সহিংসতা, গ্রেপ্তার ও রাজনৈতিক প্রতিশোধের অভিযোগ নিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) এবং জাতিসংঘে আবেদন করেছিল। বিষয়টি আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক অবস্থান তুলে ধরার প্রচেষ্টা হিসেবে আলোচনায় আসে, পাশাপাশি সমালোচনার মুখেও পড়ে।
শেখ হাসিনার আইনি দলের অভিযোগ, নিহতের সংখ্যা অতিরঞ্জিতভাবে উপস্থাপন করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছে। চিঠিতে দাবি করা হয়, শেখ হাসিনাকে ‘গণহত্যাকারী’ হিসেবে উপস্থাপনের জন্য এই সংখ্যাকে বড় করে দেখানো হয়েছে, যা সরকারবিরোধী আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
একই সঙ্গে জাতিসংঘের তদন্ত প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, আইনজীবী স্টিভেন পাউলস দাবি করেছেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমন্ত্রণে পরিচালিত তদন্ত পুরোপুরি নিরপেক্ষ হওয়া নিয়ে সংশয় রয়েছে।
চিঠিতে ড. ইউনূসের একটি পুরোনো বক্তব্যও উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে তিনি আন্দোলনকে ‘সুশৃঙ্খল ও পরিকল্পিত’ বলে বর্ণনা করেছিলেন।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের আগস্টে ব্যাপক আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা ভারত চলে যান। পরে ২০২৫ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশের একটি অভ্যন্তরীণ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানকে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ড দেয়। তবে শুরু থেকেই শেখ হাসিনার আইনজীবীরা এই বিচারকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করে আসছেন।
চিঠির শেষাংশে জাতিসংঘকে নিহতের সংখ্যা সংক্রান্ত তথ্যে সংশোধনী এনে প্রকাশ্যে ব্যাখ্যা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত ওএইচসিএইচআরের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
সোহাগ/
আপনার জন্য নির্বাচিত নিউজ
- থেমে নেই নবম পে-স্কেলের কাজ, শেষ মুহূর্তে যেসব তথ্য চূড়ান্তের পথে
- আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ দল ঘোষণা, মেসিকে ঘিরে ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত স্কোয়াড
- স্বর্ণের দামে বড় ধস, দুই মাসের মধ্যে সর্বনিম্নে বাজার
- আজকের সকল দেশের টাকার রেট: ২৯ মে ২০২৬
- ১ জুলাই থেকে নতুন পে-স্কেল কার্যকর? ২০ গ্রেডে আসছে যেসব বড় পরিবর্তন
- দুপুরের আগেই দেশের ৮ অঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টির শঙ্কা
- বেতন বৈষম্য কমাতে নতুন উদ্যোগ, বাড়তি সুবিধা পাচ্ছেন যেসব চাকরিজীবী
- আজকের সোনার বাজারদর: ৩০ মে ২০২৬
