হামের প্রাদুর্ভাবে ঋণের বোঝায় বিপর্যস্ত দরিদ্র পরিবার
নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশজুড়ে চলমান হামের প্রাদুর্ভাব শুধু স্বাস্থ্য সংকটই নয়, হাজারো নিম্নআয়ের পরিবারের জন্য বড় ধরনের আর্থিক সংকটও তৈরি করেছে। নতুন এক জরিপে দেখা গেছে, চিকিৎসা-সংক্রান্ত ব্যয় মেটাতে প্রতি ১০টি আক্রান্ত পরিবারের প্রায় ৯টিকেই ঋণ নিতে হয়েছে। একই সঙ্গে ১০টির মধ্যে ৬টি পরিবার তাদের সঞ্চয় পুরোপুরি শেষ করে ফেলেছে।
বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি (বিডিআরসিএস) এবং ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব রেড ক্রস অ্যান্ড রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিজ (আইএফআরসি) যৌথভাবে পরিচালিত এই জরিপে হামে আক্রান্ত পরিবারগুলোর সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব তুলে ধরা হয়েছে।
মে ও জুন মাসে দেশের ১২টি সরকারি মেডিকেল কলেজ ও জেলা হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া ২ হাজার ৭৪৬টি পরিবারের ওপর জরিপ চালানো হয়। এতে দেখা যায়, চিকিৎসা ব্যয় সামলাতে ২ হাজার ৪৪২টি পরিবার, অর্থাৎ প্রায় ৮৯ শতাংশকে ঋণ নিতে হয়েছে।
জরিপে আরও উঠে এসেছে, প্রায় ৬১ শতাংশ পরিবার তাদের সঞ্চয় শেষ করে ফেলেছে। এছাড়া ৪ শতাংশের বেশি পরিবারকে সম্পদ বিক্রি করতে হয়েছে এবং কিছু পরিবার আর্থিক চাপ সামাল দিতে অনুদানের ওপর নির্ভর করেছে।
হামের কারণে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ২ হাজার ৪০০টি পরিবারকে ১০ হাজার টাকা করে জরুরি নগদ সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্যে এই মূল্যায়ন পরিচালনা করা হয়।
সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা বিনামূল্যে হলেও যাতায়াত, ওষুধ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা, খাবার ও অন্যান্য খরচ মিলিয়ে একটি পরিবারের গড়ে প্রায় ১৬ হাজার টাকা ব্যয় হচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এই ব্যয় ৬৫ হাজার টাকা পর্যন্ত পৌঁছাচ্ছে। আর বেসরকারি হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যার প্রয়োজন হলে চিকিৎসা ব্যয় কয়েক লাখ টাকাও ছাড়িয়ে যাচ্ছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ৩১ জুলাই পর্যন্ত দেশে হাম বা হামের মতো উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে অন্তত ১ লাখ ৪৪ হাজার মানুষ, যাদের অধিকাংশই শিশু। একই সময়ে হামে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮১০ জনে।
জরিপে অংশ নেওয়া পরিবারগুলোর ৭৮ শতাংশই অনানুষ্ঠানিক খাতে কর্মরত এবং তাদের মাসিক আয় ৬ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকার মধ্যে। ফলে অসুস্থ সন্তানের চিকিৎসা করাতে গিয়ে অনেকেই আয় হারিয়েছেন, সঞ্চয় শেষ করেছেন কিংবা ঋণের বোঝা কাঁধে নিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি ‘বিপর্যয়কর স্বাস্থ্য ব্যয়ের’ একটি স্পষ্ট উদাহরণ। তাদের ভাষ্য, স্বাস্থ্যসেবার বাইরেও যাতায়াত, ওষুধ, খাবার ও কর্মহীনতার কারণে দরিদ্র পরিবারগুলো আরও গভীর আর্থিক সংকটে পড়ছে।
বিশেষজ্ঞরা দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোর জন্য জরুরি স্বাস্থ্য সহায়তা তহবিল এবং শক্তিশালী সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তাদের মতে, এমন সহায়তা না থাকলে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হলেও দীর্ঘদিন ঋণ ও আর্থিক সংকটের প্রভাব থেকে মুক্তি পাওয়া কঠিন হবে।
সোহাগ/
আপনার জন্য নির্বাচিত নিউজ
- আজকের সকল দেশের টাকার রেট: ১৫ আগস্ট ২০২৬
- ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকায় সেরা ৫ স্মার্টফোন
- শনিবার টানা ৮ ঘন্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়
- চলতি মাসেই বাজারে আসছে Yamaha R2, শুরু প্রি-বুকিং
- ৯ম পে-স্কেলের খসড়া: গ্রেড-১ এ ১ লাখ ৩০ হাজার, গ্রেড-২০ এ ২০ হাজার
- নবম পে-স্কেলে কার বেতন কত, জানা গেল নতুন প্রস্তাব
- সোনার দাম আবারও বাড়ল, ভরিতে নতুন দর কত
- বাংলাদেশে ইনফিনিক্স HOT 70 Pro 5G, দাম কত ফিচার কি
- দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন
- ২০০MP ক্যামেরায় সেরা ৫ ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোন
- জানুয়ারির শুরুতেই ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষা
- আজকের স্বর্ণের বাজারদর: ১৫ আগস্ট ২০২৬
- দুই ধাপে বাস্তবায়ন হচ্ছে নবম পে স্কেল, খসড়া যাচ্ছে মন্ত্রিসভায়
- Xiaomi 18 Pro-তে থাকবে না গ্লাস ব্যাক, আসছে ৫ রঙে
- নবম পে-স্কেল নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত, মন্ত্রিসভার অনুমোদনের অপেক্ষা
