| ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩

নতুন Bajaj Pulsar 150-এ বড় পরিবর্তন, থাকছে TFT ডিসপ্লে ও নতুন ইঞ্জিন

জাতীয় ডেস্ক . বিনোদন৬৯.কম
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৫ ১৫:০১:৩৫
নতুন Bajaj Pulsar 150-এ বড় পরিবর্তন, থাকছে TFT ডিসপ্লে ও নতুন ইঞ্জিন

নিজস্ব প্রতিবেদক: বহুল পরিচিত Pulsar 150 মডেলে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে Bajaj। ২০২৬ সালের নতুন Bajaj Pulsar 150-এ যুক্ত হয়েছে নতুন ইঞ্জিন, নতুন চেসিস, মোনোশক সাসপেনশন, ডিজিটাল কনসোলসহ বেশ কিছু আধুনিক ফিচার। দীর্ঘদিনের এই মডেলটিতে এটিই অন্যতম বড় আপডেট বলে দাবি করা হচ্ছে।

ভারতে নতুন Pulsar 150-এর দাম শুরু হয়েছে ১ লাখ ১৫ হাজার ২৩৩ রুপি থেকে (এক্স-শোরুম, দিল্লি)। নতুন মডেলটিতে পুরোনো নকশার সঙ্গে আধুনিক ডিজাইন ও প্রযুক্তির সমন্বয় করা হয়েছে।

ডিজাইনে বড় পরিবর্তন

২০২৬ Pulsar 150-এর সামগ্রিক আকৃতি আগের মডেলের সঙ্গে কিছুটা পরিচিত হলেও ডিজাইনে এসেছে বেশ কিছু পরিবর্তন। নতুন LED হেডলাইট ও Wolf-eye DRL, শার্পার ট্যাংক এক্সটেনশন এবং নতুন টেইললাইট বাইকটিকে আরও স্পোর্টি চেহারা দিয়েছে।

মিরর ডিজাইনেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন মিরর অনেকটা Pulsar N160-এর মতো। পাশাপাশি নতুন ফুয়েল ট্যাংক এক্সটেনশন ও স্পোর্টিয়ার সাইড প্যানেল বাইকের সাইড প্রোফাইলকে আরও পেশিবহুল করেছে।

পেছনে এবার টুইন শকের পরিবর্তে মোনোশক সাসপেনশন ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে বাইকের রিয়ার সেকশন আরও পরিষ্কার ও আধুনিক দেখাচ্ছে।

নতুন Pulsar 150 মোট পাঁচটি রঙে পাওয়া যাচ্ছে—Saffire Blue, Ebony Black Ink Blue, Black Magenta Red, Fury Red এবং Pearl Metallic White।

TFT ডিসপ্লে ও আধুনিক প্রযুক্তি

নতুন Pulsar 150-এ আগের অ্যানালগ ট্যাকোমিটার ও ডিজিটাল স্পিডোমিটারের পরিবর্তে ভ্যারিয়েন্ট অনুযায়ী LCD অথবা TFT ডিসপ্লে দেওয়া হয়েছে।

তিনটি ভ্যারিয়েন্টে পাওয়া যাচ্ছে বাইকটি। একটি ভ্যারিয়েন্টে সিঙ্গেল সিট, রিয়ার ড্রাম ব্রেক ও কালার LCD কনসোল রয়েছে। অন্য ভ্যারিয়েন্টে সিঙ্গেল সিটের সঙ্গে রিয়ার ডিস্ক ব্রেক ও TFT কনসোল দেওয়া হয়েছে। শীর্ষ ভ্যারিয়েন্টে রয়েছে স্প্লিট সিট, রিয়ার ডিস্ক ব্রেক ও TFT কনসোল।

সব ভ্যারিয়েন্টেই কানেক্টিভিটি ফিচার রয়েছে। টপ-এন্ড ভ্যারিয়েন্টে Google Maps মিররিং সুবিধাও পাওয়া যায়।

নতুন সুইচগিয়ারের মাধ্যমে কল ও মিউজিক কন্ট্রোল করা যায়। পাশাপাশি কম গতিতে চালানোর সময় ক্লাচ ব্যবহারের চাপ কমাতে Low-speed Assist ফিচারও রয়েছে।

তিনটি রাইডিং মোড

২০২৬ Pulsar 150-এ Road, Rain ও Sport—এই তিনটি রাইডিং মোড দেওয়া হয়েছে। মোড পরিবর্তনের মাধ্যমে বাইকের পারফরম্যান্সের ধরন বদলানো যায়।

ডিসপ্লে ব্যবহার করে রাইডিং মোড পরিবর্তন করতে হলে ইঞ্জিন বন্ধ রাখতে হয়। তবে সুইচগিয়ারের মাধ্যমে চলন্ত অবস্থাতেও মোড পরিবর্তন করা যায়।

ব্রেকিংয়ের জন্য রয়েছে সিঙ্গেল-চ্যানেল ABS। এ ছাড়া USB Type-C চার্জিং পোর্ট, গিয়ার পজিশন ইন্ডিকেটর, Distance-to-Empty রিডআউট এবং সার্ভিস-ডিউ ইন্ডিকেটরের মতো ফিচারও রয়েছে।

নতুন 149.5cc ইঞ্জিন

নতুন Pulsar 150-এ 149.5cc এয়ার-অয়েল কুলড ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়েছে। আগের তুলনায় ইঞ্জিনকে আরও পরিশীলিত করা হয়েছে এবং লো থেকে মিড-রেঞ্জে পারফরম্যান্স উন্নত করার দাবি করা হয়েছে।

ইঞ্জিনটি 14.1Nm টর্ক উৎপন্ন করে। কোম্পানির দাবি অনুযায়ী, বাইকটি ০ থেকে ৬০ কিলোমিটার গতিতে পৌঁছাতে ৫.৭ সেকেন্ড সময় নেয়।

শহরের রাস্তায় বাইকটি চালানো আরও সহজ করতে কম গতির Assist ফিচার এবং হালকা ক্লাচসহ উন্নত ৫-স্পিড গিয়ারবক্স ব্যবহার করা হয়েছে।

হাইওয়েতে ৮৫-৯০ কিলোমিটার গতিতে বাইকটি স্বাচ্ছন্দ্যে ক্রুজ করতে পারে বলে পরীক্ষামূলক রাইডে উল্লেখ করা হয়েছে। নতুন মডেলটির দাবিকৃত মাইলেজও আগের তুলনায় ৫ কিলোমিটার বেড়ে ৫০ কিলোমিটার প্রতি লিটার হয়েছে।

পরীক্ষামূলক রাইডে তুলনামূলক স্পোর্টি ব্যবহারের পরও প্রায় ৪০ কিলোমিটার প্রতি লিটার মাইলেজ পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

নতুন চেসিস ও মোনোশক

২০২৬ Pulsar 150-এ নতুন ডায়মন্ড টিউবুলার ফ্রেম ব্যবহার করা হয়েছে। নতুন ফ্রেম আগের তুলনায় হালকা ও শক্ত হওয়ায় বাইকের ওজন কমিয়ে ১৪১ কেজিতে আনা হয়েছে।

সাসপেনশনে সামনে টেলিস্কোপিক ফর্ক এবং পেছনে মোনোশক দেওয়া হয়েছে। সামগ্রিকভাবে সাসপেনশন আরামদায়ক হলেও বড় বা তীক্ষ্ণ ধাক্কা কিছুটা অনুভূত হতে পারে।

নতুন চেসিস ও কম ওজনের কারণে ট্রাফিকের মধ্যে বাইকটি সহজে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। কর্নারিংয়ের সময়ও বাইকটি আগের তুলনায় সহজে বাঁক নেয় এবং স্থিতিশীল থাকে। MRF টায়ার ভালো গ্রিপ দিতে সক্ষম বলে পরীক্ষায় উঠে এসেছে।

ব্রেকিংয়ের জন্য সামনে ২৬০ মিমি এবং পেছনে ২৩০ মিমি ডিস্ক ব্যবহার করা হয়েছে। সঙ্গে রয়েছে সিঙ্গেল-চ্যানেল ABS। ব্রেকের ফিডব্যাক আরও ভালো হতে পারত, তবে ব্রেকিং বাইট ও ABS-এর কার্যকারিতা সন্তোষজনক বলে পরীক্ষামূলক রাইডে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাইকটির সিট হাইট ৭৮৬ মিমি এবং গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্স ১৮৬ মিমি। ফলে বিভিন্ন উচ্চতার রাইডারের জন্য এটি তুলনামূলকভাবে সহজে ব্যবহারযোগ্য হতে পারে।

সব মিলিয়ে কেমন নতুন Pulsar 150?

২০২৬ Bajaj Pulsar 150-এ ডিজাইন, ইঞ্জিন, চেসিস ও প্রযুক্তিতে একসঙ্গে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। পুরোনো Pulsar 150-এর পরিচিত স্পোর্টি চরিত্র ধরে রেখেই বাইকটিকে আরও আধুনিক ও ব্যবহারবান্ধব করার চেষ্টা করা হয়েছে।

নতুন TFT ডিসপ্লে, কানেক্টিভিটি, তিনটি রাইডিং মোড, মোনোশক, নতুন চেসিস এবং উন্নত ইঞ্জিন—সব মিলিয়ে ২০২৬ Pulsar 150 আগের প্রজন্মের তুলনায় অনেক বেশি আধুনিক হয়ে উঠেছে। শহরের দৈনন্দিন যাতায়াতের পাশাপাশি মাঝারি দূরত্বের হাইওয়ে রাইডের জন্যও নতুন মডেলটি আরও সক্ষম বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

আশা/

আপনার জন্য নির্বাচিত নিউজ

ক্রিকেট

বাংলাদেশের ম্যাচ কবে; ত্রিদেশীয় সিরিজের পূর্ণ সূচি

বাংলাদেশের ম্যাচ কবে; ত্রিদেশীয় সিরিজের পূর্ণ সূচি

নিজস্ব প্রতিবেদক: সংযুক্ত আরব আমিরাতে আগামী ১৭ অক্টোবর শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ, আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়েকে নিয়ে ...

সাব্বিরের ব্যাটে অস্ট্রেলিয়ার টানা জয় বাংলাদেশের

সাব্বিরের ব্যাটে অস্ট্রেলিয়ার টানা জয় বাংলাদেশের

নিজস্ব প্রতিবেদক: সাব্বির রহমানের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে অস্ট্রেলিয়ার ডারউইনে হোবার্ট হারিকেন্স একাডেমিকে হারিয়েছে বাংলাদেশ হাই পারফরম্যান্স ...

ফুটবল

নতুন অধ্যায়ে আর্জেন্টিনা, স্কালোনির দলে বড় চমক

নতুন অধ্যায়ে আর্জেন্টিনা, স্কালোনির দলে বড় চমক

নিজস্ব প্রতিবেদক: ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে হারের পর নতুন অধ্যায়ের পথে হাঁটছে আর্জেন্টিনা। সেপ্টেম্বরের শেষ ...

৯০ মিনিটের খেলা শেষ; বাংলাদেশ-সিরিয়া অনূর্ধ্ব-২০, জানুন ফলাফল

৯০ মিনিটের খেলা শেষ; বাংলাদেশ-সিরিয়া অনূর্ধ্ব-২০, জানুন ফলাফল

নিজস্ব প্রতিবেদক: এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপ ২০২৭ বাছাইপর্বে সিরিয়ার কাছে ৩-০ গোলে হেরেছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ ...