দাঁতের যত্নে নিমের ডাল নাকি কাঠকয়লা, কোনটি বেশি উপকারী
নিজস্ব প্রতিবেদক: একসময় গ্রামবাংলায় দাঁতের যত্নে নিমের ডাল, কাঠকয়লার গুঁড়ো কিংবা ছাই ব্যবহার ছিল খুবই পরিচিত একটি অভ্যাস। আধুনিক টুথপেস্ট ও টুথব্রাশের প্রচলনের কারণে সেই ঐতিহ্য অনেকটাই হারিয়ে গেলেও, প্রাকৃতিক এসব উপাদানের কার্যকারিতা নিয়ে এখনও আগ্রহ রয়েছে অনেকের।
তাহলে প্রশ্ন হলো, দাঁতের জন্য কোনটি বেশি উপকারী, নিমের ডাল নাকি কাঠকয়লা? বিশেষজ্ঞদের মতামত ও প্রচলিত ব্যবহারের ভিত্তিতে বিষয়টি জেনে নেওয়া যাক।
নিমের ডাল: প্রাকৃতিকভাবে দাঁত ও মাড়ির সুরক্ষা
আয়ুর্বেদে নিমের ডালকে দীর্ঘদিন ধরেই প্রাকৃতিক টুথব্রাশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। নিমে থাকা অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টিফাঙ্গাল উপাদান মুখের ক্ষতিকর জীবাণু কমাতে এবং ক্যাভিটি তৈরিকারী ব্যাকটেরিয়ার বিস্তার রোধে সহায়তা করতে পারে।
নিয়মিত নিমের ডাল ব্যবহার করলে মাড়ি শক্ত রাখতে, মাড়ি থেকে রক্ত পড়ার প্রবণতা কমাতে এবং মুখের দুর্গন্ধ হ্রাসে উপকার পাওয়া যেতে পারে। নিমের ডালের এক প্রান্ত চিবিয়ে নরম করে ব্রাশের মতো ব্যবহার করা হয়, যা দাঁত ও মাড়ি পরিষ্কারে সহায়ক।
কাঠকয়লা: দাগ দূর করতে কার্যকর, তবে সতর্কতা জরুরি
গ্রামবাংলায় দাঁত পরিষ্কারের আরেকটি প্রচলিত উপাদান ছিল পোড়া কাঠকয়লার গুঁড়ো বা ছাই। এর শোষণক্ষমতার কারণে দাঁতের ওপর জমে থাকা চা, কফি বা তামাকের মতো দাগ কিছুটা কমাতে এটি সহায়ক হতে পারে। এছাড়া মুখের অম্লীয় পরিবেশ কমাতেও কিছুটা ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, কাঠকয়লার গুঁড়ো তুলনামূলকভাবে কর্কশ হওয়ায় অতিরিক্ত বা নিয়মিত ব্যবহার দাঁতের বাইরের সুরক্ষামূলক এনামেল ক্ষয় করতে পারে। এতে দাঁত সংবেদনশীল হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
কোনটি বেশি নিরাপদ?
দাঁতের সার্বিক সুরক্ষার দিক থেকে নিমের ডালকে কাঠকয়লার তুলনায় বেশি নিরাপদ ও উপকারী বলে মনে করেন অনেক দন্তবিশেষজ্ঞ। কারণ, এটি দাঁত পরিষ্কারের পাশাপাশি মাড়ির স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী এবং দাঁতের এনামেলের ক্ষতির ঝুঁকি তুলনামূলক কম।
অন্যদিকে, কাঠকয়লা মূলত দাঁতের দাগ দূর করতে কিছুটা কার্যকর হলেও এটি নিয়মিত ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয় না।
কী করবেন?
দাঁতের যত্নের জন্য নিয়মিত ফ্লুরাইডযুক্ত টুথপেস্ট দিয়ে দিনে অন্তত দুইবার ব্রাশ করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী দন্তচিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ উপায়। পাশাপাশি, প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করতে চাইলে মাঝে মাঝে নিমের ডাল ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে কাঠকয়লার গুঁড়ো নিয়মিত ব্যবহার না করাই ভালো, যাতে দাঁতের এনামেল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি না থাকে।
প্রাকৃতিক ঐতিহ্য ও আধুনিক দন্তচর্চার সমন্বয়ই দাঁত ও মাড়ির সুস্থতা বজায় রাখার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
সিদ্দিকা/
