ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে হঠাৎ বদলে গেল হিসাব, এগিয়ে হ্যারি কেইন
নিজস্ব প্রতিবেদক: ব্যালন ডি’অর জয়ের দৌড়ে শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে উত্তেজনা। পুরস্কারটির সম্ভাব্য বিজয়ী নিয়ে হিসাব-নিকাশে বড় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। বুকমেকারদের সাম্প্রতিক বাজির দর অনুযায়ী, তালিকার শীর্ষে উঠে এসেছেন বায়ার্ন মিউনিখের ইংলিশ স্ট্রাইকার হ্যারি কেইন। অন্যদিকে, সম্ভাবনার হিসাবে পিছিয়ে পড়েছেন বার্সেলোনার তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামাল। তবে শেষ পর্যন্ত কার হাতে উঠবে ফুটবলের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কার, তা নিয়ে আলোচনা এখন তুঙ্গে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী সোমবার রাতে লন্ডনের প্যালাডিয়াম থিয়েটারে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এবারের ব্যালন ডি’অর দেওয়া হবে। পুরস্কার ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহের কেন্দ্রে রয়েছেন কয়েকজন তারকা। তবে বুকমেকারদের হিসাব বলছে, অন্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় আপাতত এগিয়ে কেইন।
৭৩ গোল করে আলোচনার কেন্দ্রে হ্যারি কেইন
বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে দুর্দান্ত একটি মৌসুম কাটিয়েছেন হ্যারি কেইন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ৬৫টি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে ৭৩ গোল করেছেন ইংল্যান্ডের এই অধিনায়ক। তার এমন গোল-সাফল্য ব্যালন ডি’অর জয়ের আলোচনায় তাঁকে শক্ত অবস্থানে নিয়ে এসেছে।
শনিবার বুকমেকারদের গড় হিসাবে কেইনের জয়ের পক্ষে বাজির দর ছিল ১.৩৫। এই হিসাব তাঁকে সম্ভাব্য বিজয়ীদের তালিকায় স্পষ্টভাবে এগিয়ে রেখেছে। তবে বুকমেকারদের বাজির দর কোনো আনুষ্ঠানিক ফল নয়, বরং সম্ভাবনা নিয়ে তাদের বাজারভিত্তিক মূল্যায়ন।
কেন পিছিয়ে পড়ছেন লামিনে ইয়ামাল?
বার্সেলোনার তরুণ ফরোয়ার্ড লামিনে ইয়ামালও এবারের ব্যালন ডি’অরের অন্যতম আলোচিত নাম। গত মৌসুমে লা লিগায় ১৬ গোল করার পাশাপাশি ১১টি অ্যাসিস্ট করেছেন তিনি। তাঁর পারফরম্যান্সে বার্সেলোনা লিগের শিরোপা ধরে রাখার পাশাপাশি স্প্যানিশ সুপার কাপও জিতেছে।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে বুকমেকারদের হিসাবে ইয়ামালের জয়ের সম্ভাবনা কমেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগে তাঁর বাজির দর ছিল ৩.২৫, যা বেড়ে ৬.০০ হয়েছে। সাধারণভাবে বাজির দর বেড়ে যাওয়ার অর্থ হলো, সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়কে নিয়ে বাজারের প্রত্যাশা আগের তুলনায় কমেছে।
বিশ্বকাপের সাফল্য কি এগিয়ে রাখবে ইয়ামালকে?
ইয়ামালের পক্ষে আলোচনার অন্যতম বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক মঞ্চে তাঁর পারফরম্যান্স। মূল প্রতিবেদনে ২০২৬ বিশ্বকাপে স্পেনের শিরোপা জয়ে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অতীতেও বিশ্বকাপের সাফল্য ব্যালন ডি’অর মূল্যায়নে প্রভাব ফেলেছে।
তবে ব্যক্তিগত পরিসংখ্যান, ক্লাবের হয়ে সাফল্য এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অবদানসহ একাধিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে ভোটাররা তাঁদের পছন্দ নির্ধারণ করেন। তাই শুধু বুকমেকারদের বাজির দর দিয়ে চূড়ান্ত ফল নিশ্চিতভাবে অনুমান করা যায় না।
ব্যালন ডি’অরের ভোটপ্রক্রিয়ায় নির্ধারিত দেশগুলোর নির্বাচিত ক্রীড়া সাংবাদিক অংশ নেন। পুরুষদের বিভাগে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ ১০০টি দেশের এবং নারীদের বিভাগে শীর্ষ ৫০টি দেশের একজন করে সাংবাদিক ভোট দেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভোটাররা সংক্ষিপ্ত তালিকায় থাকা খেলোয়াড়দের মধ্য থেকে নিজেদের পছন্দের সেরা ১০ জনকে ক্রমানুসারে নির্বাচন করেন। অবস্থান অনুযায়ী পয়েন্ট দেওয়া হয়, আর সব ভোট গণনার পর সর্বোচ্চ পয়েন্ট পাওয়া খেলোয়াড়ের হাতেই ওঠে পুরস্কার।
সব মিলিয়ে, হ্যারি কেইনকে ঘিরে বাড়তি প্রত্যাশা এবং লামিনে ইয়ামালের বাজির দর বেড়ে যাওয়ায় এবারের ব্যালন ডি’অরের লড়াই নতুন মাত্রা পেয়েছে। তবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত বিজয়ী নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।
আয়শা/
