প্রথম ২০০ ম্যাচে মেসি নাকি ইয়ামাল, পরিসংখ্যানে কে এগিয়ে
নিজস্ব প্রতিবেদক: লিওনেল মেসি নাকি লামিন ইয়ামাল, ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে কে ছিলেন বেশি কার্যকর? ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে এমন তুলনা নতুন নয়। বার্সেলোনার বিখ্যাত একাডেমি লা মাসিয়া থেকে উঠে আসা ইয়ামালের ড্রিবলিং, গতি ও প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভাঙার দক্ষতায় অনেকেই খুঁজে পান তরুণ মেসির ছায়া। তবে ক্যারিয়ারের প্রথম ২০০ ম্যাচের পরিসংখ্যান বলছে, গোল ও গোল-অবদানের হিসাবে দুই তারকার মধ্যে রয়েছে চমকপ্রদ লড়াই।
স্প্যানিশ ক্লাব বার্সেলোনার হয়ে খেলা ইয়ামাল ১৮ বছর বয়সেই ক্যারিয়ারের ২০০ ম্যাচের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন। অন্যদিকে, আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি মেসি তাঁর সিনিয়র ক্যারিয়ারের ২০০তম ম্যাচ খেলেছিলেন ২০০৯ সালের জুনে। দুই তারকার প্রথম ২০০ ম্যাচের পরিসংখ্যান তুলনা করে দেখা যায়, কিছু ক্ষেত্রে এগিয়ে ইয়ামাল, আবার গোল করার কার্যকারিতায় এগিয়ে মেসি।
গোল ও অ্যাসিস্টে কে এগিয়ে?
প্রথম ২০০ ম্যাচে ইয়ামাল করেছেন ৭০টি গোল এবং সতীর্থদের দিয়ে গোল করিয়েছেন ৬৯ বার। অর্থাৎ গোল ও অ্যাসিস্ট মিলিয়ে তাঁর মোট অবদান ১৩৯টি।
অন্যদিকে, ক্যারিয়ারের প্রথম ২০০ ম্যাচে মেসির গোলসংখ্যা ছিল ৯২। পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে গোল করিয়েছিলেন ৪৬ বার। সব মিলিয়ে তাঁর গোল-অবদান ১৩৮টি, যদিও কিছু পরিসংখ্যানভিত্তিক প্রতিবেদনে এই সংখ্যা ১৩৬ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই তুলনায় অ্যাসিস্ট ও মোট গোল-অবদানের হিসাবে ইয়ামাল সামান্য এগিয়ে থাকলেও সরাসরি গোল করার ক্ষেত্রে মেসি অনেকটাই এগিয়ে।
এক নজরে মেসি ও ইয়ামালের পরিসংখ্যান
| পরিসংখ্যান | লামিন ইয়ামাল | লিওনেল মেসি |
|---|---|---|
| ম্যাচ | ২০০ | ২০০ |
| গোল | ৭০ | ৯২ |
| অ্যাসিস্ট | ৬৯ | ৪৬ |
| গোল-অবদান | ১৩৯ | ১৩৬* |
| পেনাল্টিতে গোল | ৮ | ১০ |
| ফ্রি-কিক থেকে গোল | ০ | ৩ |
| হ্যাটট্রিক | ১ | ১ |
| প্রতি গোলে সময় | ২১২.৬ মিনিট | ১৫৩.৭৪ মিনিট |
| প্রতি গোল-অবদানে সময় | ১০৭ মিনিট | ১০২.৪৯ মিনিট |
| জেতা শিরোপা | ৮ | ৭ |
*মেসির গোল-অবদানের সংখ্যা বিভিন্ন পরিসংখ্যানে ভিন্নভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এখানে মূল তুলনামূলক প্রতিবেদনে দেওয়া সংখ্যা ব্যবহার করা হয়েছে। সূত্র: Planet Football-এর ২১ অক্টোবর ২০২৬-এর তুলনামূলক প্রতিবেদন।
গোল করার কার্যকারিতায় এগিয়ে মেসি
শুধু গোলসংখ্যা নয়, প্রতি গোল করতে কত মিনিট সময় লেগেছে, সেই হিসাবেও মেসি এগিয়ে। প্রথম ২০০ ম্যাচে প্রতি ১৫৩.৭৪ মিনিটে একটি করে গোল করেছিলেন তিনি। ইয়ামালের ক্ষেত্রে এই ব্যবধান ২১২.৬ মিনিট।
পেনাল্টি বাদ দিলে মেসির প্রতি গোলের গড় সময় ছিল ১৭২.৪ মিনিট। ইয়ামালের ক্ষেত্রে তা ২৪০ মিনিট। অর্থাৎ সরাসরি গোল করার কার্যকারিতায় মেসির পরিসংখ্যান বেশি শক্তিশালী।
গোল ও অ্যাসিস্ট মিলিয়ে প্রতি গোল-অবদানেও মেসি সামান্য এগিয়ে। তাঁর ক্ষেত্রে প্রতি ১০২.৪৯ মিনিটে একটি গোল-অবদান এসেছে, যেখানে ইয়ামালের ক্ষেত্রে সময়টি ১০৭ মিনিট।
ফ্রি-কিক থেকে গোল করার ক্ষেত্রেও মেসির অভিজ্ঞতা এগিয়ে। প্রথম ২০০ ম্যাচে তিনি সরাসরি ফ্রি-কিক থেকে তিনটি গোল করেছিলেন। ইয়ামালের ক্ষেত্রে এই সংখ্যা শূন্য। তবে দুজনের হ্যাটট্রিকের সংখ্যা ছিল সমান, একটি করে।
শিরোপা জয়ে এগিয়ে ইয়ামাল
ব্যক্তিগত পরিসংখ্যানের পাশাপাশি দলীয় সাফল্যেও দুই তারকার তুলনা করা যায়। প্রকাশিত তুলনামূলক হিসাব অনুযায়ী, প্রথম ২০০ ম্যাচের মধ্যে ইয়ামালের শিরোপা আটটি, আর মেসির সাতটি।
ইয়ামালের শিরোপার তালিকায় রয়েছে লা লিগা, কোপা দেল রে, স্প্যানিশ সুপার কাপ ও ইউরো ২০২৪। মেসির প্রথম ২০০ ম্যাচের সাফল্যের তালিকায় রয়েছে লা লিগা, উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ, কোপা দেল রে ও স্প্যানিশ সুপার কাপ।
তবে শিরোপার সংখ্যা দিয়ে দুই খেলোয়াড়ের সামগ্রিক ক্যারিয়ার বিচার করা যায় না। তাঁদের খেলার সময়কাল, দলের শক্তি, মাঠে দায়িত্ব ও প্রতিযোগিতার ধরনও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
তাহলে প্রথম ২০০ ম্যাচে কে সেরা?
পরিসংখ্যানের বিচারে ইয়ামাল এগিয়ে অ্যাসিস্ট ও মোট গোল-অবদানে। অন্যদিকে, মেসি এগিয়ে মোট গোল, প্রতি গোলে সময়, গোল-অবদানের কার্যকারিতা এবং ফ্রি-কিক থেকে গোল করার হিসাবে।
ইয়ামাল এখনো ক্যারিয়ারের শুরুর পর্যায়ে। মেসি যেমন সময়ের সঙ্গে নিজেকে সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন, তেমনি ইয়ামালের সামনেও রয়েছে দীর্ঘ পথ। তাই প্রথম ২০০ ম্যাচের পরিসংখ্যান তাঁদের শুরুর দিকের পারফরম্যান্সের তুলনা করতে সাহায্য করলেও কে সর্বকালের সেরা, তার চূড়ান্ত উত্তর দেয় না।
সব মিলিয়ে, গোল ও অ্যাসিস্টের সম্মিলিত হিসাবে ইয়ামালের সামান্য অগ্রগতি থাকলেও গোল করার কার্যকারিতায় মেসির পরিসংখ্যান এখনো বেশি উজ্জ্বল।
আয়শা/
