| ঢাকা, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩

Redmi K100 নাকি iQOO Neo 12, কোন ফোনে ব্যাটারি বেশি, গেমিংয়ে এগিয়ে কে

লাইফ স্টাইল ডেস্ক . বিনোদন৬৯.কম
২০২৬ অক্টোবর ২৫ ১১:০৭:২০
Redmi K100 নাকি iQOO Neo 12, কোন ফোনে ব্যাটারি বেশি, গেমিংয়ে এগিয়ে কে

নিজস্ব প্রতিবেদক: গেমিং স্মার্টফোন কেনার পরিকল্পনা করছেন? তাহলে Xiaomi-এর Redmi K100 এবং Vivo-সংশ্লিষ্ট ব্র্যান্ড iQOO-এর Neo 12 হতে পারে আলোচনার দুটি গুরুত্বপূর্ণ নাম। ফোন দুটির মধ্যে একটিতে থাকছে ১০,০০০ mAh ব্যাটারি, অন্যটিতে নতুন প্রজন্মের প্রসেসর ও বিল্ট-ইন কুলিং ফ্যান। ফলে ব্যাটারি ব্যাকআপ, গেমিং পারফরম্যান্স ও তাপ নিয়ন্ত্রণের দিক থেকে ফোন দুটি নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, Redmi K100 চীনে ২৭ অক্টোবর এবং iQOO Neo 12 ২৮ অক্টোবর ২০২৬ উন্মোচনের কথা রয়েছে। তবে ফোন দুটির সব স্পেসিফিকেশন, দাম এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রাপ্যতা এখনো নিশ্চিত নয়। বিশেষ করে বাংলাদেশের ক্রেতাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ফোন দুটি দেশে কবে আসবে এবং দাম কত হতে পারে, সে সম্পর্কে এখনো নির্ভরযোগ্য চূড়ান্ত তথ্য পাওয়া যায়নি।

Redmi K100 বনাম iQOO Neo 12: প্রধান পার্থক্য এক নজরে

ফিচারRedmi K100iQOO Neo 12
প্রসেসর Snapdragon 8 Elite Snapdragon 8 Elite Gen 5
ব্যাটারি ১০,০০০ mAh ৯,০০০ mAh
ডিসপ্লে ১.৫K, ১৬৫Hz ২K, ১৮৫Hz
গেমিং চিপ D2 Q3
কুলিং ব্যবস্থা বিল্ট-ইন ফ্যান নেই বিল্ট-ইন ফ্যান
চার্জিং ১০০W হতে পারে ১০০W
প্রধান ক্যামেরা ৫০MP ৫০MP হতে পারে
সম্ভাব্য দাম প্রায় ৩,৫০০ চীনা ইউয়ান এখনো ঘোষণা হয়নি

এখানে উল্লেখ করা কিছু তথ্য নির্মাতার প্রকাশিত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে, আর কিছু ফাঁস হওয়া প্রতিবেদন থেকে নেওয়া। যেসব স্পেসিফিকেশন নিশ্চিত নয়, সেগুলো চূড়ান্ত হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়।

ব্যাটারিতে এগিয়ে Redmi K100

ব্যাটারি সক্ষমতার দিক থেকে Redmi K100 স্পষ্টভাবে এগিয়ে। ফোনটিতে ১০,০০০ mAh ব্যাটারি থাকার কথা, যেখানে iQOO Neo 12-তে থাকছে ৯,০০০ mAh ব্যাটারি।

অর্থাৎ, Redmi K100-এ অতিরিক্ত ১,০০০ mAh ব্যাটারি পাওয়া যেতে পারে। যারা দীর্ঘ সময় গেম খেলেন, ভিডিও দেখেন কিংবা বাইরে থাকাকালে বারবার ফোন চার্জ দেওয়ার সুযোগ পান না, তাদের জন্য এই বাড়তি সক্ষমতা সুবিধাজনক হতে পারে।

Redmi K100-এ ১০০W ফাস্ট চার্জিং থাকার কথাও বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। অন্যদিকে, iQOO Neo 12-এর ১০০W চার্জিংয়ের তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

তবে বেশি ব্যাটারি থাকলেই যে ফোনটি নিশ্চিতভাবে বেশি সময় চলবে, তা নয়। প্রসেসরের বিদ্যুৎ খরচ, ডিসপ্লের উজ্জ্বলতা, নেটওয়ার্ক এবং গেমিংয়ের ধরনও ব্যাটারি ব্যাকআপে প্রভাব ফেলে। তাই প্রকৃত ব্যাটারি পারফরম্যান্স জানতে ব্যবহারিক পরীক্ষার ফলের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

গেমিং পারফরম্যান্সে এগিয়ে থাকতে পারে iQOO Neo 12

প্রসেসরের দিক থেকে iQOO Neo 12-কে এগিয়ে রাখা হচ্ছে। এতে Snapdragon 8 Elite Gen 5 চিপসেট ব্যবহারের কথা রয়েছে। অন্যদিকে, Redmi K100-এ থাকতে পারে Snapdragon 8 Elite প্রসেসর।

দুটি চিপসেটের মধ্যে প্রজন্মগত পার্থক্য থাকায় iQOO Neo 12 প্রসেসিং ক্ষমতায় এগিয়ে থাকতে পারে। বিশেষ করে ভারী গেম, দ্রুত অ্যাপ চালু করা এবং দীর্ঘমেয়াদে নতুন গেমের চাহিদা সামলানোর ক্ষেত্রে নতুন প্রসেসর সুবিধা দিতে পারে।

তবে বাস্তবে কতটা পার্থক্য হবে, তা শুধু প্রসেসরের নাম দেখে নিশ্চিত হওয়া যায় না। ফোনের সফটওয়্যার, তাপ নিয়ন্ত্রণ এবং গেমের অপটিমাইজেশনও গুরুত্বপূর্ণ।

iQOO Neo 12-তে থাকছে বিল্ট-ইন কুলিং ফ্যান

গেমিংয়ের সময় ফোন গরম হয়ে গেলে প্রসেসর নিজের গতি কমিয়ে দিতে পারে। এতে দীর্ঘ সময় খেলার সময় পারফরম্যান্সে প্রভাব পড়তে পারে। এই সমস্যা কমাতে iQOO Neo 12-তে বিল্ট-ইন কুলিং ফ্যান দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ফ্যানটিতে ৫৯টি ব্লেড এবং তিনটি গতির সেটিং থাকতে পারে। এর সঙ্গে উন্নত ভেপার চেম্বার ব্যবহার করা হবে বলেও দাবি করা হয়েছে।

অন্যদিকে, Redmi K100-তে আলাদা কুলিং ফ্যান থাকার কথা নয়। ফোনটি গেমিংয়ের সময় বিদ্যুৎ খরচ ও প্রসেসিংয়ের চাপ সামলাতে D2 নামের একটি সহায়ক চিপ ব্যবহার করতে পারে।

যারা দীর্ঘ সময় PUBG Mobile, Call of Duty: Mobile কিংবা অন্যান্য ভারী গেম খেলেন, তাদের জন্য কুলিং ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে নির্দিষ্ট গেমে ফোন দুটির প্রকৃত পারফরম্যান্স জানতে তাপমাত্রা ও ফ্রেম রেটের তুলনামূলক পরীক্ষা প্রয়োজন।

ডিসপ্লেতে কোন ফোন এগিয়ে?

ডিসপ্লের স্পেসিফিকেশন বিবেচনায় iQOO Neo 12 এগিয়ে থাকতে পারে। এতে ২K রেজল্যুশন এবং সর্বোচ্চ ১৮৫Hz রিফ্রেশ রেটের ডিসপ্লে থাকার কথা বলা হয়েছে। Redmi K100-তে থাকতে পারে ১.৫K রেজল্যুশন ও ১৬৫Hz রিফ্রেশ রেট।

উচ্চ রেজল্যুশনের কারণে iQOO Neo 12-তে ছবি, লেখা ও গেমের দৃশ্য আরও বিস্তারিত দেখা যেতে পারে। বেশি রিফ্রেশ রেট দ্রুতগতির গেমে অ্যানিমেশনকে আরও মসৃণ দেখাতে সাহায্য করতে পারে।

তবে সব গেম ১৮৫Hz রিফ্রেশ রেট সমর্থন করে না। তাই সাধারণ ব্যবহারকারীদের কাছে পার্থক্য সব সময় সমানভাবে দৃশ্যমান নাও হতে পারে।

ক্যামেরায় কী থাকছে?

ক্যামেরার ক্ষেত্রে Redmi K100-এর প্রধান ক্যামেরা হিসেবে ৫০ মেগাপিক্সেলের Light Hunter 800 সেন্সরের তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। অন্যদিকে, iQOO Neo 12-তে ৫০ মেগাপিক্সেলের প্রধান ক্যামেরা এবং ৮ মেগাপিক্সেলের আলট্রাওয়াইড ক্যামেরা থাকতে পারে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

তবে iQOO Neo 12-এর ক্যামেরার সব তথ্য এখনো নিশ্চিত নয়। দুই ফোনের ছবির মান, রাতের ফটোগ্রাফি এবং ভিডিও ধারণের সক্ষমতা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে আনুষ্ঠানিক স্পেসিফিকেশন ও ব্যবহারিক পর্যালোচনা প্রয়োজন।

যারা গেমিংয়ের পাশাপাশি ক্যামেরাকে বেশি গুরুত্ব দেন, তাদের জন্য শুধু মেগাপিক্সেল দেখে ফোন নির্বাচন না করাই ভালো।

Redmi K100 ও iQOO Neo 12-এর দাম কত হতে পারে?

প্রকাশিত একটি লিক অনুযায়ী, Redmi K100-এর প্রারম্ভিক দাম প্রায় ৩,৫০০ চীনা ইউয়ান হতে পারে। তবে এটি এখনো নিশ্চিত মূল্য নয়। iQOO Neo 12-এর দামও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি।

বাংলাদেশি ক্রেতাদের জন্য এই পার্থক্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ চীনের দাম সরাসরি বাংলাদেশের বাজারদরের সমান হয় না। আমদানি খরচ, কর, বিক্রেতার মুনাফা, ওয়ারেন্টি এবং ফোনটি অফিসিয়াল নাকি আনঅফিশিয়াল, এসব বিষয় চূড়ান্ত দামে প্রভাব ফেলতে পারে।

এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে ফোন দুটির আনুষ্ঠানিক দাম বা বিক্রির তারিখ নিশ্চিত নয়। তাই সম্ভাব্য দামকে বাংলাদেশের বাজারদর হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।

বাংলাদেশের ক্রেতাদের জন্য কোন ফোনটি ভালো হতে পারে?

কোন ফোনটি ভালো হবে, তা নির্ভর করবে ব্যবহারের ধরন ও বাজেটের ওপর।

Redmi K100 বেছে নেওয়ার কারণ হতে পারে:

  • ১০,০০০ mAh ব্যাটারির প্রতি অগ্রাধিকার।

  • দীর্ঘ সময় চার্জ ছাড়া ফোন ব্যবহারের প্রয়োজন।

  • আলাদা কুলিং ফ্যান ছাড়া ফোন ব্যবহারের পছন্দ।

  • গেমিংয়ের পাশাপাশি দৈনন্দিন ব্যবহারে ভালো ব্যাটারি ব্যাকআপের প্রত্যাশা।

iQOO Neo 12 বেছে নেওয়ার কারণ হতে পারে:

  • নতুন প্রজন্মের প্রসেসরকে অগ্রাধিকার।

  • দীর্ঘ সময় ভারী গেম খেলার অভ্যাস।

  • বিল্ট-ইন কুলিং ফ্যানের সুবিধা।

  • ২K ডিসপ্লে ও উচ্চ রিফ্রেশ রেটের প্রতি আগ্রহ।

সব মিলিয়ে, ব্যাটারির ক্ষেত্রে Redmi K100 আকর্ষণীয়, আর প্রসেসর, ডিসপ্লে ও কুলিং ব্যবস্থার কারণে iQOO Neo 12 গেমিংয়ের জন্য শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে দুই ফোনের আনুষ্ঠানিক দাম, পূর্ণাঙ্গ স্পেসিফিকেশন ও বাস্তব পারফরম্যান্সের পর্যালোচনা দেখা উচিত। বাংলাদেশের বাজারে ফোন দুটি পাওয়া গেলে স্থানীয় দাম ও ওয়ারেন্টির তথ্যও যাচাই করে নেওয়া ভালো।

সোহাগ/

আপনার জন্য নির্বাচিত নিউজ

ক্রিকেট

১৬ ডিসেম্বর হতে পারে আইপিএলের নিলাম, কোথায় হবে আয়োজন

১৬ ডিসেম্বর হতে পারে আইপিএলের নিলাম, কোথায় হবে আয়োজন

নিজস্ব প্রতিবেদক: ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) ২০২৭ মৌসুমের মিনি নিলাম আগামী ১৬ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হতে ...

লিটন-মিরাজের শতরানের জুটিতে লাঞ্চের আগে বাংলাদেশের লিড ৪৪৩

লিটন-মিরাজের শতরানের জুটিতে লাঞ্চের আগে বাংলাদেশের লিড ৪৪৩

নিজস্ব প্রতিবেদক: আবুধাবিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে ব্যাট হাতে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন বাংলাদেশের লিটন দাস। ...

ফুটবল

রোনান সুলিভানকে নিয়ে সাফের প্রাথমিক দল বাংলাদেশের

রোনান সুলিভানকে নিয়ে সাফের প্রাথমিক দল বাংলাদেশের

নিজস্ব প্রতিবেদক: সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ সামনে রেখে ২৮ সদস্যের প্রাথমিক দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ফুটবল ...

হ্যারি কেইনের ৭৩ গোল, প্রথম ব্যালন ডি’অর জয়ের পথে কতটা এগিয়ে

হ্যারি কেইনের ৭৩ গোল, প্রথম ব্যালন ডি’অর জয়ের পথে কতটা এগিয়ে

নিজস্ব প্রতিবেদক: ব্যালন ডি’অর জয়ের দৌড়ে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন ইংল্যান্ডের অধিনায়ক ও বায়ার্ন মিউনিখের ফরোয়ার্ড ...