Samsung Galaxy A17 5G: ৬ বছর আপডেট, ৫০MP ক্যামেরা
নিজস্ব প্রতিবেদক: বাজেটের মধ্যে ৫জি স্মার্টফোন কিনতে চান? বড় AMOLED ডিসপ্লে, ৫০ মেগাপিক্সেলের প্রধান ক্যামেরা এবং দীর্ঘদিন সফটওয়্যার আপডেট পাওয়ার সুবিধা নিয়ে নজর কাড়তে পারে Samsung Galaxy A17 5G। দৈনন্দিন ব্যবহার, ভিডিও দেখা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম চালানো ও ছবি তোলার জন্য তৈরি এই ফোনে রয়েছে ৫,০০০mAh ব্যাটারিও।
সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের Amazon-এ ফোনটির ১২৮ জিবি স্টোরেজের সংস্করণটির দাম কমে ১৫৯ পাউন্ডে নেমেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আগে এর তালিকামূল্য ছিল ২৫৯ পাউন্ড। তবে এটি যুক্তরাজ্যের অফার; বাংলাদেশের বাজারে ফোনটির বর্তমান দাম বা একই ধরনের ছাড় রয়েছে কি না, তা আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
Samsung Galaxy A17 5G-এর ডিসপ্লে কেমন?
ফোনটিতে রয়েছে ৬.৭ ইঞ্চির Super AMOLED ডিসপ্লে, যার রেজল্যুশন ২,৩৪০ × ১,০৮০ পিক্সেল। এর ৯০ হার্টজ রিফ্রেশ রেট স্ক্রলিং ও মেনু ব্যবহারে তুলনামূলক মসৃণ অভিজ্ঞতা দিতে পারে।
বড় পর্দার কারণে ভিডিও দেখা, ওয়েব ব্রাউজিং এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সুবিধা পাওয়ার কথা। তবে ডিসপ্লের অভিজ্ঞতা কনটেন্ট, উজ্জ্বলতা ও ব্যক্তিগত ব্যবহারের ওপরও নির্ভর করবে।
ফোনটির পুরুত্ব ৭.৫ মিলিমিটার। নকশায় রয়েছে Samsung-এর Key Island 2.0 ডিজাইন এবং পেছনে তুলনামূলক সরল ক্যামেরা মডিউল।
৫০MP ক্যামেরায় কী সুবিধা মিলবে?
Samsung Galaxy A17 5G-এর পেছনে তিনটি ক্যামেরা রয়েছে। এগুলো হলো—
-
৫০ মেগাপিক্সেলের প্রধান ক্যামেরা, সঙ্গে অপটিক্যাল ইমেজ স্ট্যাবিলাইজেশন (OIS)
-
৫ মেগাপিক্সেলের আলট্রা-ওয়াইড ক্যামেরা
-
২ মেগাপিক্সেলের ম্যাক্রো ক্যামেরা
প্রধান ক্যামেরায় OIS থাকায় ছবি তোলার সময় হাত কাঁপার প্রভাব কমাতে এবং ভিডিও ধারণে স্থিতিশীলতা পেতে সুবিধা হতে পারে। সামনে রয়েছে ১৩ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা, যা সেলফি ও ভিডিও কলের কাজে ব্যবহার করা যাবে।
তবে ক্যামেরার মেগাপিক্সেল বেশি হলেই ছবি ভালো হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। বিশেষ করে কম আলোতে ছবি, আলট্রা-ওয়াইড ক্যামেরা এবং ম্যাক্রো ছবির মান প্রত্যাশা অনুযায়ী কি না, তা বাস্তব পরীক্ষার ওপর নির্ভর করে।
পারফরম্যান্সে কেমন হবে ফোনটি?
ফোনটিতে রয়েছে Samsung-এর Exynos 1330 প্রসেসর এবং ৪ জিবি র্যাম। এই সমন্বয় দিয়ে মেসেজিং, ওয়েব ব্রাউজিং, ভিডিও দেখা ও সাধারণ অ্যাপ ব্যবহারের মতো কাজ করা সম্ভব।
তবে একসঙ্গে অনেক অ্যাপ চালানো, ভারী গেম খেলা কিংবা দ্রুত অ্যাপ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ৪ জিবি র্যাম সীমাবদ্ধতা তৈরি করতে পারে। যারা দীর্ঘ সময় গেম খেলেন বা একসঙ্গে অনেক অ্যাপ ব্যবহার করেন, তাঁদের কেনার আগে পারফরম্যান্সের বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত।
ফোনটির স্টোরেজ ১২৮ জিবি। পাশাপাশি microSDXC কার্ডের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ২ টেরাবাইট পর্যন্ত স্টোরেজ বাড়ানোর সুবিধার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে মেমোরি কার্ডের সামঞ্জস্য ও সমর্থিত সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতা কেনার আগে নির্দিষ্ট সংস্করণের তথ্য থেকে যাচাই করে নেওয়া ভালো।
ছয় বছর সফটওয়্যার আপডেটের সুবিধা
Galaxy A17 5G-এর অন্যতম আকর্ষণ দীর্ঘমেয়াদি সফটওয়্যার সহায়তা। Samsung-এর ঘোষিত নীতি অনুযায়ী, ফোনটি ছয় প্রজন্মের অপারেটিং সিস্টেম আপগ্রেড এবং ছয় বছর পর্যন্ত নিরাপত্তা আপডেট পাওয়ার জন্য নির্ধারিত।
এর ফলে ফোনটি দীর্ঘদিন ব্যবহার করার পরিকল্পনা থাকলে সুবিধা পাওয়া যেতে পারে। নিরাপত্তা আপডেট ফোনের সুরক্ষা বজায় রাখতে সহায়তা করে, আর অপারেটিং সিস্টেম আপগ্রেডে নতুন ফিচার ও সফটওয়্যার পরিবর্তন আসতে পারে। তবে আপডেটের সুনির্দিষ্ট সময়সূচি অঞ্চল ও সফটওয়্যার সংস্করণ অনুযায়ী যাচাই করা উচিত।
ফোনটিতে দ্রুত আনলক করার জন্য সাইড-মাউন্টেড ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সরও রয়েছে।
৫,০০০mAh ব্যাটারি ও চার্জিং
Samsung Galaxy A17 5G-তে রয়েছে ৫,০০০mAh ব্যাটারি এবং সর্বোচ্চ ২৫ ওয়াট তারযুক্ত চার্জিং সমর্থন। প্রস্তুতকারকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ব্যবহারভেদে ব্যাটারি দীর্ঘ সময় চলতে পারে। তবে বাস্তবে স্ক্রিনের উজ্জ্বলতা, মোবাইল নেটওয়ার্ক, গেমিং ও ভিডিও ব্যবহারের ওপর ব্যাটারির স্থায়িত্ব নির্ভর করবে।
ফোনটিতে ৫জি, Wi-Fi, Bluetooth, NFC ও USB-C সংযোগ সুবিধার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এতে ডুয়াল সিম ব্যবহারের সুবিধা রয়েছে। তবে NFC, সিম ও নেটওয়ার্ক-সংক্রান্ত সুবিধা অঞ্চল বা মডেলভেদে আলাদা হতে পারে।
বাংলাদেশে ফোনটি কেনার আগে যা দেখবেন
বাংলাদেশের বাজারে Galaxy A17 5G কেনার কথা ভাবলে শুধু বিদেশের ছাড়ের দাম দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না। কেনার আগে কয়েকটি বিষয় যাচাই করুন—
১. বাংলাদেশের বর্তমান দাম: স্থানীয় বিক্রেতা ও নির্ভরযোগ্য দোকানে দাম মিলিয়ে দেখুন।
২. অফিশিয়াল নাকি অনানুষ্ঠানিক সংস্করণ: ফোনটির স্থানীয় ওয়ারেন্টি এবং বিক্রয়োত্তর সেবা আছে কি না নিশ্চিত হোন।
৩. র্যাম ও স্টোরেজ: একই মডেলের বিভিন্ন সংস্করণ থাকতে পারে। কেনার আগে ৪ জিবি র্যাম ও ১২৮ জিবি স্টোরেজের সংস্করণ কি না দেখুন।
৪. চার্জার ও চার্জিং সুবিধা: বক্সে চার্জার আছে কি না এবং ২৫ ওয়াট চার্জিংয়ের জন্য প্রয়োজনীয় সামঞ্জস্য যাচাই করুন।
৫. নেটওয়ার্ক ও সিম: বাংলাদেশের ব্যবহৃত নেটওয়ার্ক ব্যান্ড এবং প্রয়োজনীয় সিম সুবিধার সঙ্গে ফোনটি সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না নিশ্চিত হোন।
সব মিলিয়ে Samsung Galaxy A17 5G কাদের জন্য?
বড় AMOLED ডিসপ্লে, সাধারণ কাজের উপযোগী পারফরম্যান্স, OIS-সহ প্রধান ক্যামেরা এবং দীর্ঘ সফটওয়্যার সহায়তা যাঁদের অগ্রাধিকার, তাঁদের বিবেচনায় থাকতে পারে Samsung Galaxy A17 5G।
তবে ভারী গেমিং, দ্রুত মাল্টিটাস্কিং বা উন্নত আলট্রা-ওয়াইড ক্যামেরা যাঁদের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ, তাঁদের বিকল্প ফোনের সঙ্গেও তুলনা করা উচিত। আর বাংলাদেশের বাজারে কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে স্থানীয় দাম, ওয়ারেন্টি ও নির্দিষ্ট মডেলের বৈশিষ্ট্য যাচাই করাই হবে সবচেয়ে ভালো পদক্ষেপ।
আশা/
