৭ ম্যাচে ৯ গোল, বাংলাদেশের সাফ দলে নতুন মুখ মাহি খান
নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের দীর্ঘদিনের স্ট্রাইকার সংকট কাটাতে নতুন মুখের ওপর ভরসা রাখছেন কোচ থমাস ডুলি। সেই ভাবনা থেকেই সাফের দল নির্বাচন নিয়ে আলোচনায় উঠে এসেছেন ইংল্যান্ডে খেলা তরুণ ফরোয়ার্ড মাহি খান। চলতি মৌসুমে মাত্র ৭ ম্যাচে ৯ গোল করে নজর কেড়েছেন তিনি। এবার বাংলাদেশের হয়ে নিজেকে প্রমাণ করার সুযোগ পাচ্ছেন এই স্ট্রাইকার।
ইংল্যান্ডের মল্টন এফসির হয়ে খেলছেন মাহি। তাঁর জন্ম ইংল্যান্ডে হলেও বাংলাদেশের হয়ে খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে। এবার সাফের দলে ডাক পেয়ে জাতীয় দলের আক্রমণভাগে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছেন তিনি। তবে ক্লাব ফুটবলে গোলের ধারাবাহিকতা আন্তর্জাতিক পর্যায়েও ধরে রাখতে পারবেন কি না, সেটিই হবে তাঁর সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।
মাহি খানের উচ্চতা ১ দশমিক ৮৩ মিটার। লম্বা গড়নের কারণে প্রতিপক্ষের পেনাল্টি বক্সে ক্রস থেকে গোলের সুযোগ কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধা পেতে পারেন তিনি। মূলত স্ট্রাইকার হিসেবে খেললেও দুই উইংয়েও খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। ফলে আক্রমণভাগের একাধিক পজিশনে তাঁকে ব্যবহার করার সুযোগ থাকতে পারে কোচের সামনে।
মাহির ফুটবলজীবনের শুরু ইংল্যান্ডের কেটারিং টাউনের যুব দলে। সেখানে প্রায় সাত বছর কাটানোর পর ২০২৪ সালে রাশডেন অ্যান্ড হাইয়াম ইউনাইটেডের হয়ে সিনিয়র ফুটবলে অভিষেক হয় তাঁর। পরে তিনি যোগ দেন মল্টন এফসিতে।
বর্তমানে মল্টন এফসি ইংল্যান্ডের ইউনাইটেড কাউন্টিজ লিগ প্রিমিয়ার ডিভিশন সাউথে খেলে। এটি ইংলিশ ফুটবলের নবম স্তরের লিগ। এই পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় সাত ম্যাচে নয় গোল করেই বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের নজরে এসেছেন মাহি।
বাংলাদেশের জার্সিতে এবারই প্রথম মাঠে নামার সুযোগ পাচ্ছেন না মাহি খান। এর আগে আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপের বাছাইপর্বে বাংলাদেশের হয়ে তিনটি ম্যাচ খেলেছেন তিনি। তবে ওই ম্যাচগুলোতে এখনো গোলের দেখা পাননি এই ফরোয়ার্ড।
এবার সাফের দলে সুযোগ পাওয়ায় তাঁর সামনে নতুন করে নিজেকে প্রমাণ করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। ক্লাব ফুটবলে গোল করার সাম্প্রতিক সাফল্য জাতীয় দলের হয়েও কাজে লাগাতে চাইবেন তিনি।
বাংলাদেশ দলের স্ট্রাইকার সংকট নতুন কিছু নয়। দীর্ঘদিন ধরে আক্রমণভাগে কার্যকর গোলদাতার অভাব নিয়ে আলোচনা চলছে। কোচ থমাস ডুলিও সেই সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছেন। মাহি খানকে দলে নেওয়ার পেছনে এই প্রয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে তাঁর বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
মাহিকে দলে নেওয়া প্রসঙ্গে ডুলি বলেন, “এখনই তাকে দলে নেওয়া অনেকটা ভাগ্যের ওপর ছেড়ে দেওয়ার মতো। আমরা বিশ্বাস করি, আমাদের যে কাজটি দরকার, সে হয়তো তা করতে পারবে। এই মুহূর্তে পরিস্থিতি এমনই।”
কোচের বক্তব্যে স্পষ্ট, মাহিকে নিয়ে প্রত্যাশা থাকলেও তাঁর পারফরম্যান্স সম্পর্কে এখনই নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। ক্লাব ফুটবলে গোল করার সামর্থ্য থাকলেও জাতীয় দলের হয়ে নিয়মিত গোল করতে হলে তাঁকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের প্রতিপক্ষের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে।
সাত ম্যাচে নয় গোল নিঃসন্দেহে মাহি খানের জন্য ইতিবাচক পরিসংখ্যান। তবে ইংল্যান্ডের নিম্ন বিভাগের ক্লাব ফুটবল ও আন্তর্জাতিক ফুটবলের মধ্যে প্রতিযোগিতার পার্থক্য রয়েছে। সাফের মতো আসরে তিনি কতটা কার্যকর হতে পারেন, তা নির্ভর করবে মাঠের পারফরম্যান্সের ওপর।
বাংলাদেশের সমর্থকেরা দীর্ঘদিন ধরেই একজন কার্যকর গোলদাতার অপেক্ষায় রয়েছেন। মাহি খান সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে পারবেন কি না, তা এখনই বলা কঠিন। তবে নতুন এই সুযোগ তাঁর ক্যারিয়ারে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে উঠতে পারে।আয়শা/
