অল্প বয়সে চুল পেকে যাচ্ছে, জেনে নিন ৬টি করণীয়
নিজস্ব প্রতিবেদক: কম বয়সেই চুলে পাক ধরলে অনেকেই দুশ্চিন্তায় পড়েন। কারও ১৫ বছর বয়সে, আবার কারও ২০ থেকে ২৫ বছর বয়সেই চুল ধূসর হতে শুরু করে। অনেকে এ সমস্যা ঢাকতে হেয়ার কালার ব্যবহার করেন। তবে চুল পাকার কারণ বুঝে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
চুল পাকার পেছনে বংশগত বৈশিষ্ট্য, বয়স, কিছু পুষ্টির ঘাটতি এবং নির্দিষ্ট স্বাস্থ্যগত কারণ ভূমিকা রাখতে পারে। পাকা চুল আবার স্বাভাবিকভাবে কালো হয়ে যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। তবে সুষম খাবার, চুলের সঠিক যত্ন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা চুল ও মাথার ত্বকের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করতে পারে।
অল্প বয়সে চুল পাকার ক্ষেত্রে ৬টি করণীয়
১. পেঁয়াজ ব্যবহারে সতর্ক থাকুন
চুলের যত্নে পেঁয়াজের রস ব্যবহারের প্রচলন রয়েছে। তবে পেঁয়াজের রস লাগালে পাকা চুল আবার কালো হয়, এমন নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। বরং সংবেদনশীল ত্বকে এটি জ্বালাপোড়া, চুলকানি বা অ্যালার্জির সমস্যা তৈরি করতে পারে।
ব্যবহার করতে চাইলে আগে ত্বকের ছোট জায়গায় পরীক্ষা করুন। অস্বস্তি হলে ব্যবহার বন্ধ করুন।
২. খাবারের তালিকায় রাখুন আমলকী
আমলকীতে ভিটামিন সি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। এটি সুষম খাদ্যের অংশ হিসেবে খাওয়া যেতে পারে। তবে আমলকীর গুঁড়া বা লেবুর রস মাথার ত্বকে লাগালে পাকা চুল কালো হয়ে যায়, এমন প্রমাণ নেই। বিশেষ করে লেবুর রস মাথার ত্বকে জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করতে পারে।
৩. নিয়মিত বাদাম খান
বাদামে স্বাস্থ্যকর চর্বি, প্রোটিন এবং বিভিন্ন খনিজ উপাদান রয়েছে। পরিমিত বাদাম খাওয়া সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হতে পারে। তবে শুধু বাদাম খেলে পাকা চুলের রং ফিরে আসবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।
৪. চুলের যত্নে নারকেল তেল ব্যবহার করতে পারেন
নারকেল তেল চুলের শুষ্কতা কমাতে এবং চুলের গোছার ক্ষতি কমাতে সাহায্য করতে পারে। তবে নারকেল তেলের সঙ্গে লেবুর রস মিশিয়ে ব্যবহার করলে পাকা চুল আবার কালো হয়, এমন বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।
মাথার ত্বকে জ্বালাপোড়া বা অ্যালার্জি হলে এ ধরনের মিশ্রণ ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন।
৫. খাদ্যতালিকায় রাখুন ছোলা ও পুষ্টিকর খাবার
ছোলা প্রোটিন, ফোলেট ও বিভিন্ন খনিজ উপাদানের উৎস। তবে ছোলায় ভিটামিন বি১২ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে থাকে না। ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতি থাকলে তা চুলের অকালপক্বতার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে, যদিও সব ক্ষেত্রে এটিই কারণ নয়।
সুষম খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি ডিম, দুধ, মাছ, মাংস বা বি১২-সমৃদ্ধ বিকল্প খাবার থেকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
৬. চুলের যত্নে মেহেদি ব্যবহার করতে পারেন
মেহেদি চুলে প্রাকৃতিক রং দিতে পারে। ফলে সাদা বা ধূসর চুলের রং সাময়িকভাবে ঢেকে রাখা সম্ভব। তবে মেহেদি চুল পাকার মূল কারণ দূর করে না এবং চুলের স্বাভাবিক রং ফিরিয়ে আনে না।
মেহেদি ব্যবহারের আগে উপাদান যাচাই করুন। বিশেষ করে ‘ব্ল্যাক হেনা’ নামে বিক্রি হওয়া কিছু পণ্যে ক্ষতিকর রাসায়নিক থাকতে পারে, যা ত্বকে অ্যালার্জি সৃষ্টি করতে পারে।
অল্প বয়সে চুল পাকার কারণ কী?
চুলের ফলিকলে মেলানিন নামের রঞ্জক পদার্থ তৈরি হয়, যা চুলের স্বাভাবিক রং নির্ধারণ করে। মেলানিন উৎপাদন কমে গেলে চুল ধূসর বা সাদা হতে পারে।
অল্প বয়সে চুল পাকার সম্ভাব্য কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে:
-
বংশগত বৈশিষ্ট্য
-
ভিটামিন বি১২ বা নির্দিষ্ট পুষ্টির ঘাটতি
-
কিছু থাইরয়েড-সংক্রান্ত সমস্যা
-
ধূমপানের মতো জীবনযাপনের অভ্যাস
সব ক্ষেত্রে পরীক্ষা বা চিকিৎসার প্রয়োজন হয় না। তবে হঠাৎ অনেক চুল পেকে গেলে, চুল পড়া বেড়ে গেলে বা অন্য কোনো উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। প্রয়োজন অনুযায়ী তিনি রক্ত পরীক্ষা বা অন্যান্য মূল্যায়নের পরামর্শ দিতে পারেন।
কৈশোর বা অল্প বয়সে চুল দ্রুত পেকে গেলে বিষয়টি অবহেলা না করে চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করা ভালো। বিশেষ করে পুষ্টির ঘাটতি বা থাইরয়েডের সমস্যা সন্দেহ হলে সঠিক কারণ নির্ণয় করা জরুরি।
মনে রাখবেন, ঘরোয়া উপায়ে পাকা চুল কালো করার অধিকাংশ প্রচলিত দাবির পক্ষে পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। তাই চুলের যত্নে নিরাপদ পদ্ধতি বেছে নেওয়া, পুষ্টিকর খাবার খাওয়া এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসা নেওয়াই সবচেয়ে যুক্তিযুক্ত পদক্ষেপ।
আশা/
