বাজার থেকে কলা কেনার আগে দেখুন এই ৬ লক্ষণ
নিজস্ব প্রতিবেদক: কলা পুষ্টিকর ও সহজলভ্য একটি ফল। সকালের নাশতা থেকে শুরু করে দিনের যেকোনো সময় অনেকেই কলা খেতে পছন্দ করেন। কিন্তু বাজার থেকে কেনা কলা স্বাভাবিকভাবে পেকেছে, নাকি দ্রুত পাকানোর জন্য রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়েছে, তা নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন থাকে।
বিশেষ করে বাজারে একই রঙের উজ্জ্বল হলুদ কলা দেখলে অনেকেই সন্দেহ করেন, সেগুলো কৃত্রিমভাবে পাকানো হয়েছে কি না। কিছু লক্ষণ দেখে অস্বাভাবিকভাবে পাকানো কলা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যেতে পারে। তবে মনে রাখতে হবে, শুধু বাহ্যিক চেহারা দেখে রাসায়নিক ব্যবহারের বিষয়টি নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
স্বাস্থ্য ও খাদ্যবিষয়ক বিভিন্ন প্রতিবেদনে কলা কেনার আগে কয়েকটি লক্ষণ খেয়াল রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। চলুন জেনে নেওয়া যাক সেগুলো।
১. খোসায় কোনো বাদামি ছোপ নেই
স্বাভাবিকভাবে পাকা কলার খোসায় অনেক সময় ছোট ছোট বাদামি ছোপ দেখা যায়। এগুলো কলা পাকার স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ হতে পারে।
অন্যদিকে, কোনো কলার খোসা যদি সম্পূর্ণ একরঙা ও অস্বাভাবিকভাবে নিখুঁত দেখায়, তাহলে সেটি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে। তবে সব প্রাকৃতিকভাবে পাকা কলায় বাদামি ছোপ থাকবে, এমন কোনো নিয়ম নেই।
২. অস্বাভাবিক উজ্জ্বল হলুদ রং
পাকা কলার খোসা সাধারণত হলুদ হয়। তবে কলার জাত ও পাকার অবস্থার ওপর নির্ভর করে রঙে পার্থক্য থাকতে পারে।
কোনো কলার খোসা যদি অস্বাভাবিক উজ্জ্বল হলুদ এবং পুরোপুরি একই রঙের হয়, তাহলে সেটি ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করা উচিত। তবে শুধু উজ্জ্বল হলুদ রং দেখেই রাসায়নিক ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়।
৩. কলা হলুদ, কিন্তু বোঁটা সবুজ
কোনো কলার খোসা হলুদ হয়ে গেছে, অথচ বোঁটা সবুজ বা কাঁচা অবস্থায় রয়েছে, এমন হলে সেটি ভালোভাবে পরীক্ষা করে দেখা যেতে পারে।
কখনো কখনো অসমভাবে পাকার কারণে এমন হতে পারে। আবার দ্রুত পাকানোর প্রক্রিয়ায় ফলের বিভিন্ন অংশের রঙের পরিবর্তনও একরকম নাও হতে পারে। তাই এটি সন্দেহের একটি লক্ষণ হতে পারে, নিশ্চিত প্রমাণ নয়।
৪. বাইরে পাকা, ভেতরে কাঁচা
কলা বাইরে থেকে হলুদ দেখালেও ভেতরের অংশ যদি শক্ত থাকে, কষযুক্ত স্বাদ হয় কিংবা কাঁচা কলার মতো মনে হয়, তাহলে সেটি পুরোপুরি না-ও পাকতে পারে।
স্বাভাবিকভাবে পাকা কলার শাঁস সাধারণত নরম ও মিষ্টি হয়। তাই কেনার পর কলা কাটলে ভেতরের অবস্থা খেয়াল করা ভালো।
৫. পাকা কলার স্বাভাবিক মিষ্টি গন্ধ নেই
পাকা কলার সাধারণত একটি পরিচিত মিষ্টি গন্ধ থাকে। তবে কলার জাত, সংরক্ষণের অবস্থা ও পাকার পর্যায় অনুযায়ী এই গন্ধের তীব্রতা ভিন্ন হতে পারে।
কলা পাকা মনে হলেও যদি কোনো স্বাভাবিক গন্ধ না থাকে, অথবা অস্বাভাবিক গন্ধ পাওয়া যায়, তাহলে সেটি না খাওয়াই ভালো। তবে শুধু গন্ধের ভিত্তিতেও রাসায়নিক ব্যবহারের বিষয়টি নিশ্চিত করা যায় না।
৬. থোকার সব কলা একই রকম পাকা
একটি গোটা থোকার সব কলা যদি একই সময়ে একই রকম উজ্জ্বল হলুদ হয়ে যায়, তাহলে অনেকের মনে কৃত্রিমভাবে পাকানোর সন্দেহ তৈরি হতে পারে।
স্বাভাবিকভাবে কলার প্রতিটি ফল একই গতিতে পাকে না। তাই একই থোকার কলায় রঙ ও পাকার অবস্থায় কিছুটা পার্থক্য দেখা যেতে পারে। তবে বাণিজ্যিকভাবে নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে স্বাভাবিকভাবেও অনেক কলা প্রায় একই সময়ে পাকানো সম্ভব।
রাসায়নিক দিয়ে পাকানো কলা খেলে কী ধরনের সমস্যা হতে পারে?
কলা পাকানোর ক্ষেত্রে সব রাসায়নিক বা পদ্ধতি সমান নয়। নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে ইথিলিন গ্যাস ব্যবহার করে ফল পাকানো একটি স্বীকৃত পদ্ধতি। সঠিক নিয়মে ব্যবহার করা ইথিলিনকে ক্যালসিয়াম কার্বাইডের মতো ঝুঁকিপূর্ণ পদার্থের সঙ্গে এক করে দেখা ঠিক নয়।
অন্যদিকে, ফল পাকাতে ক্যালসিয়াম কার্বাইডের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগের বিষয়। নিম্নমানের বা দূষিত কার্বাইডে আর্সেনিক ও ফসফরাসযুক্ত ক্ষতিকর উপাদান থাকতে পারে।
এ ধরনের দূষিত রাসায়নিকের সংস্পর্শে মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা, বমি, পেটব্যথা ও অন্যান্য শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে কোনো ব্যক্তি কলা খাওয়ার পর এসব উপসর্গ অনুভব করলেই যে রাসায়নিক দিয়ে পাকানো কলার কারণেই হয়েছে, তা নিশ্চিত নয়।
কলা কেনার সময় কী করবেন?
কলা কেনার সময় শুধু উজ্জ্বল রং দেখে সিদ্ধান্ত না নিয়ে কয়েকটি বিষয় খেয়াল রাখুন।
-
অতিরিক্ত নরম, পচা বা ক্ষতিগ্রস্ত কলা এড়িয়ে চলুন।
-
কলার গায়ে অস্বাভাবিক দাগ বা পচনের লক্ষণ থাকলে কিনবেন না।
-
পরিচ্ছন্ন ও নির্ভরযোগ্য বিক্রেতার কাছ থেকে ফল কিনুন।
-
খাওয়ার আগে কলার খোসা পরিষ্কার পানিতে ধুয়ে নিন।
-
অস্বাভাবিক গন্ধ বা স্বাদ পেলে কলা খাওয়া বন্ধ করুন।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কলার রং, বোঁটা বা গন্ধ দেখে রাসায়নিক ব্যবহারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। এর জন্য প্রয়োজন যথাযথ পরীক্ষা। তাই অযথা আতঙ্কিত না হয়ে নিরাপদ উৎস থেকে ফল কেনা এবং খাদ্যনিরাপত্তার নিয়ম মেনে চলাই সবচেয়ে ভালো উপায়।
কলা পুষ্টিকর ও সহজলভ্য একটি ফল। সকালের নাশতা থেকে শুরু করে দিনের যেকোনো সময় অনেকেই কলা খেতে পছন্দ করেন। কিন্তু বাজার থেকে কেনা কলা স্বাভাবিকভাবে পেকেছে, নাকি দ্রুত পাকানোর জন্য রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়েছে, তা নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন থাকে।
বিশেষ করে বাজারে একই রঙের উজ্জ্বল হলুদ কলা দেখলে অনেকেই সন্দেহ করেন, সেগুলো কৃত্রিমভাবে পাকানো হয়েছে কি না। কিছু লক্ষণ দেখে অস্বাভাবিকভাবে পাকানো কলা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যেতে পারে। তবে মনে রাখতে হবে, শুধু বাহ্যিক চেহারা দেখে রাসায়নিক ব্যবহারের বিষয়টি নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
স্বাস্থ্য ও খাদ্যবিষয়ক বিভিন্ন প্রতিবেদনে কলা কেনার আগে কয়েকটি লক্ষণ খেয়াল রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। চলুন জেনে নেওয়া যাক সেগুলো।
১. খোসায় কোনো বাদামি ছোপ নেই
স্বাভাবিকভাবে পাকা কলার খোসায় অনেক সময় ছোট ছোট বাদামি ছোপ দেখা যায়। এগুলো কলা পাকার স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ হতে পারে।
অন্যদিকে, কোনো কলার খোসা যদি সম্পূর্ণ একরঙা ও অস্বাভাবিকভাবে নিখুঁত দেখায়, তাহলে সেটি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে। তবে সব প্রাকৃতিকভাবে পাকা কলায় বাদামি ছোপ থাকবে, এমন কোনো নিয়ম নেই।
২. অস্বাভাবিক উজ্জ্বল হলুদ রং
পাকা কলার খোসা সাধারণত হলুদ হয়। তবে কলার জাত ও পাকার অবস্থার ওপর নির্ভর করে রঙে পার্থক্য থাকতে পারে।
কোনো কলার খোসা যদি অস্বাভাবিক উজ্জ্বল হলুদ এবং পুরোপুরি একই রঙের হয়, তাহলে সেটি ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করা উচিত। তবে শুধু উজ্জ্বল হলুদ রং দেখেই রাসায়নিক ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়।
৩. কলা হলুদ, কিন্তু বোঁটা সবুজ
কোনো কলার খোসা হলুদ হয়ে গেছে, অথচ বোঁটা সবুজ বা কাঁচা অবস্থায় রয়েছে, এমন হলে সেটি ভালোভাবে পরীক্ষা করে দেখা যেতে পারে।
কখনো কখনো অসমভাবে পাকার কারণে এমন হতে পারে। আবার দ্রুত পাকানোর প্রক্রিয়ায় ফলের বিভিন্ন অংশের রঙের পরিবর্তনও একরকম নাও হতে পারে। তাই এটি সন্দেহের একটি লক্ষণ হতে পারে, নিশ্চিত প্রমাণ নয়।
৪. বাইরে পাকা, ভেতরে কাঁচা
কলা বাইরে থেকে হলুদ দেখালেও ভেতরের অংশ যদি শক্ত থাকে, কষযুক্ত স্বাদ হয় কিংবা কাঁচা কলার মতো মনে হয়, তাহলে সেটি পুরোপুরি না-ও পাকতে পারে।
স্বাভাবিকভাবে পাকা কলার শাঁস সাধারণত নরম ও মিষ্টি হয়। তাই কেনার পর কলা কাটলে ভেতরের অবস্থা খেয়াল করা ভালো।
৫. পাকা কলার স্বাভাবিক মিষ্টি গন্ধ নেই
পাকা কলার সাধারণত একটি পরিচিত মিষ্টি গন্ধ থাকে। তবে কলার জাত, সংরক্ষণের অবস্থা ও পাকার পর্যায় অনুযায়ী এই গন্ধের তীব্রতা ভিন্ন হতে পারে।
কলা পাকা মনে হলেও যদি কোনো স্বাভাবিক গন্ধ না থাকে, অথবা অস্বাভাবিক গন্ধ পাওয়া যায়, তাহলে সেটি না খাওয়াই ভালো। তবে শুধু গন্ধের ভিত্তিতেও রাসায়নিক ব্যবহারের বিষয়টি নিশ্চিত করা যায় না।
৬. থোকার সব কলা একই রকম পাকা
একটি গোটা থোকার সব কলা যদি একই সময়ে একই রকম উজ্জ্বল হলুদ হয়ে যায়, তাহলে অনেকের মনে কৃত্রিমভাবে পাকানোর সন্দেহ তৈরি হতে পারে।
স্বাভাবিকভাবে কলার প্রতিটি ফল একই গতিতে পাকে না। তাই একই থোকার কলায় রঙ ও পাকার অবস্থায় কিছুটা পার্থক্য দেখা যেতে পারে। তবে বাণিজ্যিকভাবে নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে স্বাভাবিকভাবেও অনেক কলা প্রায় একই সময়ে পাকানো সম্ভব।
রাসায়নিক দিয়ে পাকানো কলা খেলে কী ধরনের সমস্যা হতে পারে?
কলা পাকানোর ক্ষেত্রে সব রাসায়নিক বা পদ্ধতি সমান নয়। নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে ইথিলিন গ্যাস ব্যবহার করে ফল পাকানো একটি স্বীকৃত পদ্ধতি। সঠিক নিয়মে ব্যবহার করা ইথিলিনকে ক্যালসিয়াম কার্বাইডের মতো ঝুঁকিপূর্ণ পদার্থের সঙ্গে এক করে দেখা ঠিক নয়।
অন্যদিকে, ফল পাকাতে ক্যালসিয়াম কার্বাইডের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগের বিষয়। নিম্নমানের বা দূষিত কার্বাইডে আর্সেনিক ও ফসফরাসযুক্ত ক্ষতিকর উপাদান থাকতে পারে।
এ ধরনের দূষিত রাসায়নিকের সংস্পর্শে মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা, বমি, পেটব্যথা ও অন্যান্য শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে কোনো ব্যক্তি কলা খাওয়ার পর এসব উপসর্গ অনুভব করলেই যে রাসায়নিক দিয়ে পাকানো কলার কারণেই হয়েছে, তা নিশ্চিত নয়।
কলা কেনার সময় কী করবেন?
কলা কেনার সময় শুধু উজ্জ্বল রং দেখে সিদ্ধান্ত না নিয়ে কয়েকটি বিষয় খেয়াল রাখুন।
-
অতিরিক্ত নরম, পচা বা ক্ষতিগ্রস্ত কলা এড়িয়ে চলুন।
-
কলার গায়ে অস্বাভাবিক দাগ বা পচনের লক্ষণ থাকলে কিনবেন না।
-
পরিচ্ছন্ন ও নির্ভরযোগ্য বিক্রেতার কাছ থেকে ফল কিনুন।
-
খাওয়ার আগে কলার খোসা পরিষ্কার পানিতে ধুয়ে নিন।
-
অস্বাভাবিক গন্ধ বা স্বাদ পেলে কলা খাওয়া বন্ধ করুন।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কলার রং, বোঁটা বা গন্ধ দেখে রাসায়নিক ব্যবহারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। এর জন্য প্রয়োজন যথাযথ পরীক্ষা। তাই অযথা আতঙ্কিত না হয়ে নিরাপদ উৎস থেকে ফল কেনা এবং খাদ্যনিরাপত্তার নিয়ম মেনে চলাই সবচেয়ে ভালো উপায়।
সিদ্দিকা/
