রেকর্ডে ভারতেরও ওপর উগান্ডা, ধারেকাছে নেই বাংলাদেশ
নিজস্ব প্রতিবেদক: আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে মোট জয়ের সংখ্যায় সবার আগে ভারত। তবে জয়-হারের অনুপাতের হিসাবে দেশটিকেও পেছনে ফেলেছে উগান্ডা। আফ্রিকার এই দলটির এমন সাফল্য ক্রিকেটবিশ্বে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অন্যদিকে, এই পরিসংখ্যানে বাংলাদেশের অবস্থান উগান্ডা ও ভারতের তুলনায় অনেক পিছিয়ে।
২০০ জয়ের মাইলফলকে ভারত
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে প্রথম দল হিসেবে ২০০ জয়ের মাইলফলক স্পর্শ করেছে ভারত। শনিবার (২৪ অক্টোবর) নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে জয়ের মাধ্যমে এই কীর্তি গড়ে দলটি। ২০০ জয় পেতে ভারতকে খেলতে হয়েছে ৩০০টি ম্যাচ। প্রদত্ত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে তাদের জয়ের হার ৭১.২০ শতাংশ।
জয়-হারের অনুপাতে সবার ওপরে উগান্ডা
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে অন্তত ১০০টি জয় পাওয়া দলের তালিকায় রয়েছে মাত্র নয়টি দেশ। এর মধ্যে উগান্ডার জয় ১০১টি। মোট ১৩১টি ম্যাচ খেলে আফ্রিকার দেশটি পেয়েছে এই সাফল্য।
প্রদত্ত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, উগান্ডার জয়-হারের অনুপাত ৩.৭৪। অর্থাৎ হারের তুলনায় তাদের জয়ের সংখ্যা অনেক বেশি। এই হিসাবে ভারতের অনুপাত ২.৪০৯, যা উগান্ডার চেয়ে কম।
তবে জয়-হারের অনুপাত বুঝতে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি—এটি মোট জয়ের সংখ্যা নয়; বরং জয় ও হারের তুলনামূলক হিসাব। তাই বেশি ম্যাচ জেতা দলই এই তালিকায় সবার ওপরে থাকবে, এমন নয়।
বাংলাদেশের জয়-হারের হিসাব কী বলছে?
বাংলাদেশের পরিসংখ্যান উগান্ডা ও ভারতের তুলনায় বেশ পিছিয়ে। দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২২২টি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচে বাংলাদেশের জয় ৮৯টি। এতে জয়-হারের অনুপাত দাঁড়িয়েছে ০.৬৯৫।
অর্থাৎ এই হিসাব অনুসারে, বাংলাদেশের হারের সংখ্যা জয়ের চেয়ে বেশি। তবে দলগুলোর পারফরম্যান্স তুলনা করার সময় ম্যাচের সংখ্যা, প্রতিপক্ষের শক্তি এবং খেলার সুযোগের মতো বিষয়ও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।
মোজাম্বিককে ১০ উইকেটে হারিয়ে উগান্ডার দাপট
শনিবার (২৪ অক্টোবর) আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আফ্রিকা সাব-রিজিওনাল বাছাইপর্বে মোজাম্বিকের মুখোমুখি হয় উগান্ডা। ম্যাচে মোজাম্বিককে মাত্র ১৯ রানে অলআউট করে দেয় তারা। এরপর কোনো উইকেট না হারিয়ে মাত্র পাঁচ বলেই জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় উগান্ডা।
দ্রুত রান তাড়া করে জেতার এই কীর্তি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সবচেয়ে বেশি বল হাতে রেখে জয়ের তালিকায় যৌথভাবে দ্বিতীয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তালিকার শীর্ষে রয়েছে স্পেন। ২০২৩ সালে আইল অব ম্যানের বিপক্ষে ১১৮ বল হাতে রেখে জয় পেয়েছিল দলটি।
শক্তিশালী দলের বিপক্ষে খেলার সুযোগ কম
উগান্ডার সামনে বড় দলগুলোর বিপক্ষে খেলার সুযোগ তুলনামূলকভাবে কম আসে। ২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মুখোমুখি হয়েছিল তারা। এ ছাড়া আফগানিস্তানের বিপক্ষে একটি এবং জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দুটি ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে দলটির।
সব মিলিয়ে, আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে মোট জয়ের হিসাবে ভারত এগিয়ে থাকলেও জয়-হারের অনুপাতে উগান্ডার অবস্থান উল্লেখযোগ্য। তবে এই পরিসংখ্যান দিয়ে দলগুলোর সামগ্রিক শক্তি নির্ধারণ করা যায় না; প্রতিপক্ষের মান ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলার সুযোগও তুলনায় গুরুত্বপূর্ণ।
সম্পাদনা নোট: প্রকাশের আগে ম্যাচের তারিখ, ভারতের ২০০ জয়ের তথ্য এবং তিন দলের জয়-হারের অনুপাত নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যানভিত্তিক সূত্র থেকে যাচাই করে নিন।
আয়শা/
