বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড়ের শঙ্কা, ৪ সমুদ্রবন্দরে সতর্ক সংকেত
নিজস্ব প্রতিবেদক: বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপটি ইতোমধ্যে নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে এবং আরও শক্তিশালী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আবহাওয়ার এই পরিস্থিতিতে দেশের চার সমুদ্রবন্দর—চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রাকে ১ নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
রোববার (২৫ অক্টোবর) আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত নিম্নচাপটি আরও ঘনীভূত হয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। পরবর্তী সময়ে এটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
চার সমুদ্রবন্দর থেকে কত দূরে নিম্নচাপটি?
আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, রোববার সকাল ৬টায় নিম্নচাপটি চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে প্রায় ৭৮৫ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল। একই সময়ে এটি কক্সবাজার থেকে ৭০০ কিলোমিটার, মোংলা থেকে ৮২০ কিলোমিটার এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৬০ কিলোমিটার দক্ষিণে ছিল।
নিম্নচাপটি দক্ষিণ দিকে অগ্রসর হওয়ার পর দিক পরিবর্তন করে পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে এগোতে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।
২৮ অক্টোবর ভারতের উপকূলে আঘাত হানতে পারে
আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, অনুকূল পরিস্থিতি থাকলে নিম্নচাপটি ধাপে ধাপে শক্তি বাড়িয়ে ঘূর্ণিঝড় এবং পরে আরও শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসেও ২৮ অক্টোবরের দিকে অন্ধ্র প্রদেশ উপকূলের কাছে পৌঁছানোর সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে।
তবে ঘূর্ণিঝড়ের চূড়ান্ত গতিপথ, শক্তি ও উপকূলে পৌঁছানোর সময় পরিবর্তিত হতে পারে। তাই এটিকে নিশ্চিত পূর্বাভাস হিসেবে না ধরে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরবর্তী বিজ্ঞপ্তি অনুসরণ করা জরুরি।
বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নিম্নচাপের কেন্দ্রের ৪৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৪০ কিলোমিটার। দমকা বা ঝোড়ো হাওয়ার সময় তা ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়ছে। নিম্নচাপের কেন্দ্রের কাছাকাছি সাগর উত্তাল রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।
বাংলাদেশের জন্য কী সতর্কতা?
এ মুহূর্তে চার সমুদ্রবন্দরে ১ নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। নিম্নচাপটি আরও শক্তিশালী হলে আবহাওয়ার পরিস্থিতি অনুযায়ী সতর্কবার্তায় পরিবর্তন আসতে পারে।
উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দা, জেলে ও সমুদ্রে চলাচলকারী নৌযানকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো যাচাইহীন খবরের পরিবর্তে সরকারি আবহাওয়া বুলেটিনের ওপর নির্ভর করাই নিরাপদ।
সোহাগ/
