শিশুদেরও হতে পারে ডায়াবেটিস, অবহেলা করবেন না এই ৫ লক্ষণ
নিজস্ব প্রতিবেদক: ডায়াবেটিসকে সাধারণত বড়দের রোগ মনে করা হলেও শিশুদেরও এই রোগ হতে পারে। বিশেষ করে শিশুদের টাইপ-১ ডায়াবেটিস দেখা দিতে পারে। আবার কিছু শিশুর ক্ষেত্রে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকিও থাকে। তাই শিশুর শরীরে অস্বাভাবিক কিছু পরিবর্তন দেখা দিলে তা অবহেলা করা উচিত নয়।
শিশুদের ডায়াবেটিসের লক্ষণ অনেক সময় সাধারণ অসুস্থতা বা দৈনন্দিন পরিবর্তন বলে মনে হতে পারে। কিন্তু শুরুতেই লক্ষণগুলো শনাক্ত করা গেলে দ্রুত রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা শুরু করা সম্ভব। বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুর মধ্যে কয়েকটি লক্ষণ দেখা দিলে অভিভাবকদের সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।
শিশুদের ডায়াবেটিসের ৫টি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ
১. বারবার পানি পান করা বা অতিরিক্ত পিপাসা
শিশু যদি আগের তুলনায় অনেক বেশি পানি পান করতে চায়, বারবার তৃষ্ণার কথা বলে বা পানি পান করেও পিপাসা না কমে, তাহলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে গেলে অতিরিক্ত পিপাসা দেখা দিতে পারে।
২. ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া
ডায়াবেটিসের অন্যতম পরিচিত লক্ষণ হলো ঘন ঘন প্রস্রাব। রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বেড়ে গেলে কিডনি অতিরিক্ত গ্লুকোজ প্রস্রাবের মাধ্যমে বের করার চেষ্টা করে। ফলে শিশুর প্রস্রাবের পরিমাণ ও ঘনত্ব বেড়ে যেতে পারে।
এমনকি আগে যেসব শিশু রাতে বিছানা ভেজাত না, তাদের মধ্যেও নতুন করে এ সমস্যা দেখা দিতে পারে।
৩. খাবার ঠিকমতো খেলেও ওজন কমে যাওয়া
শিশু স্বাভাবিকভাবে খাওয়াদাওয়া করার পরও যদি অল্প সময়ে ওজন হারাতে থাকে, তাহলে সতর্ক হওয়া জরুরি। ডায়াবেটিসের কারণে শরীর প্রয়োজনীয় শক্তি তৈরির জন্য গ্লুকোজ ঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারে না। তখন শক্তির চাহিদা মেটাতে শরীর চর্বি ও পেশি ভাঙতে শুরু করতে পারে।
৪. স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি ক্ষুধা লাগা
ডায়াবেটিসে আক্রান্ত শিশুর বারবার ক্ষুধা লাগতে পারে। খাবার থেকে পাওয়া গ্লুকোজ শরীরের কোষে ঠিকভাবে ব্যবহার না হওয়ায় শরীর পর্যাপ্ত শক্তি পায় না। ফলে খাবার খাওয়ার পরও শিশুর ক্ষুধা অনুভূত হতে পারে।
৫. অতিরিক্ত ক্লান্তি ও দুর্বলতা
শিশু যদি প্রায়ই ক্লান্ত থাকে, খেলাধুলায় আগ্রহ হারিয়ে ফেলে, ঘুমঘুম ভাব দেখায় বা স্বাভাবিক কাজেও দুর্বলতা অনুভব করে, তাহলে বিষয়টি খেয়াল করা প্রয়োজন। রক্তে শর্করার ভারসাম্য নষ্ট হলে শরীরের শক্তি ব্যবহারে সমস্যা হতে পারে।
এসব লক্ষণ দেখা দিলে কী করবেন?
শিশুর মধ্যে উপরের এক বা একাধিক লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। শিশু বিশেষজ্ঞ বা শিশু হরমোন ও ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞ প্রয়োজন অনুযায়ী রক্তে গ্লুকোজ পরীক্ষা করাতে পারেন। পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে ডায়াবেটিস আছে কি না তা নিশ্চিত করা যায়।
তবে শুধু লক্ষণ দেখে শিশুর ডায়াবেটিস হয়েছে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না। সঠিক রোগ নির্ণয়ের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা জরুরি।
কোন লক্ষণ দেখা দিলে জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন?
শিশুর অতিরিক্ত পিপাসা, ঘন ঘন প্রস্রাব ও ওজন কমার পাশাপাশি বমি, পেটব্যথা, দ্রুত বা গভীর শ্বাস, ফলের মতো গন্ধযুক্ত নিঃশ্বাস কিংবা অস্বাভাবিক ঘুমঘুম ভাব দেখা দিলে জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে। এগুলো ডায়াবেটিক কিটোঅ্যাসিডোসিসের (DKA) লক্ষণ হতে পারে, যা জীবনঝুঁকিপূর্ণ জরুরি অবস্থা।
শিশুদের ডায়াবেটিস সময়মতো শনাক্ত হলে যথাযথ চিকিৎসা ও নিয়মিত পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে সুস্থ জীবনযাপন সম্ভব। তাই শিশুর আচরণ, খাবারের অভ্যাস, ওজন ও শারীরিক পরিবর্তনের দিকে অভিভাবকদের নিয়মিত নজর রাখা জরুরি।
সোহাগ/
