আবারও কমল স্বর্ণ ও রুপার দাম, ২২ ক্যারেটের ভরি কত
নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের বাজারে স্বর্ণ ও রুপার দাম কমার তথ্য পাওয়া গেছে। সংরক্ষিত মূল্যতালিকা অনুযায়ী, ৩১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে কার্যকর হিসেবে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১৭ হাজার ৫৯২ টাকা। আগের দরের তুলনায় প্রতি ভরিতে কমেছে ৫ হাজার ৪৮২ টাকা।
শুধু ২২ ক্যারেট নয়, ২১ ক্যারেট, ১৮ ক্যারেট ও সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দামও কমেছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন মানের রুপার দরেও নিম্নমুখী পরিবর্তন দেখা গেছে। ফলে নতুন করে স্বর্ণ বা রুপার গয়না কেনার পরিকল্পনা করছেন, এমন ক্রেতাদের কাছে বর্তমান দর গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
তবে উল্লেখিত দামগুলো সরবরাহ করা মূল্যতালিকায় সংরক্ষিত তথ্যের ভিত্তিতে দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাজুস) মূল বিজ্ঞপ্তি স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি। তাই কেনাকাটার আগে সর্বশেষ আনুষ্ঠানিক দর নিশ্চিত করে নেওয়া জরুরি।
২২ ক্যারেট স্বর্ণের ভরি ২ লাখ ১৭ হাজার ৫৯২ টাকা
সংরক্ষিত তথ্য অনুযায়ী, ২২ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরির আগের দাম ছিল ২ লাখ ২৩ হাজার ৭৪ টাকা। নতুন দরে তা কমে হয়েছে ২ লাখ ১৭ হাজার ৫৯২ টাকা। অর্থাৎ প্রতি ভরিতে দাম কমেছে ৫ হাজার ৪৮২ টাকা।
দেশে গয়না তৈরিতে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের ব্যবহার বেশি হওয়ায় এই দর পরিবর্তন ক্রেতাদের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। তবে স্বর্ণের ঘোষিত বাজারদর আর দোকান থেকে গয়না কেনার চূড়ান্ত খরচ এক নয়। গয়নার নকশা, মজুরি এবং বিক্রয়সংক্রান্ত অন্যান্য শর্তের কারণে মোট দাম বাড়তে পারে।
এক নজরে স্বর্ণের নতুন দাম
সংরক্ষিত মূল্যতালিকা অনুযায়ী, বিভিন্ন মানের স্বর্ণের বর্তমান ও আগের দরের তুলনা নিচে দেওয়া হলো।
| স্বর্ণের মান | বর্তমান দাম (প্রতি ভরি) | আগের দাম (প্রতি ভরি) | কমেছে |
|---|---|---|---|
| ২২ ক্যারেট | ২,১৭,৫৯২ টাকা | ২,২৩,০৭৪ টাকা | ৫,৪৮২ টাকা |
| ২১ ক্যারেট | ২,০৭,৭৯৪ টাকা | ২,১৩,০৪৩ টাকা | ৫,২৪৯ টাকা |
| ১৮ ক্যারেট | ১,৭৮,৪৫৯ টাকা | ১,৮২,৯৫০ টাকা | ৪,৪৯১ টাকা |
| সনাতন পদ্ধতি | ১,৪৫,৮০০ টাকা | ১,৪৯,৪৭৪ টাকা | ৩,৬৭৪ টাকা |
তালিকার হিসাবে, চার ধরনের স্বর্ণের দামই কমেছে। এর মধ্যে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ৫ হাজার ৪৮২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণে ৩ হাজার ৬৭৪ টাকা কমেছে।
রুপার দামও কমেছে, কোন মানে কত?
স্বর্ণের পাশাপাশি রুপার বাজারদরেও কমতির তথ্য পাওয়া গেছে। সংরক্ষিত মূল্যতালিকা অনুযায়ী, ২২ ক্যারেট রুপার প্রতি ভরির দাম কমে হয়েছে ৩ হাজার ৪৯৯ টাকা।
বিভিন্ন মানের রুপার নতুন ও আগের দাম নিচে দেওয়া হলো।
| রুপার মান | বর্তমান দাম (প্রতি ভরি) | আগের দাম (প্রতি ভরি) | কমেছে |
|---|---|---|---|
| ২২ ক্যারেট | ৩,৪৯৯ টাকা | ৩,৬৭৪ টাকা | ১৭৫ টাকা |
| ২১ ক্যারেট | ৩,৩৮৩ টাকা | ৩,৫০০ টাকা | ১১৭ টাকা |
| ১৮ ক্যারেট | ২,৯১৬ টাকা | ৩,০৩৩ টাকা | ১১৭ টাকা |
| সনাতন পদ্ধতি | ২,২১৬ টাকা | ২,২৭৪ টাকা | ৫৮ টাকা |
হিসাব অনুযায়ী, ২২ ক্যারেট রুপার প্রতি ভরিতে দাম কমেছে ১৭৫ টাকা। ২১ ও ১৮ ক্যারেট রুপায় কমেছে ১১৭ টাকা করে। আর সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম কমেছে ৫৮ টাকা।
রুপার গয়না কেনার সময়ও বিশুদ্ধতা, ওজন, মজুরি এবং দোকানের চূড়ান্ত মূল্য যাচাই করা উচিত।
প্রতি গ্রাম ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম কত?
অনেক ক্রেতা ভরির পাশাপাশি গ্রাম হিসাবেও স্বর্ণের দাম জানতে চান। বাংলাদেশের প্রচলিত ওজনের হিসাবে এক ভরি সমান ১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম।
এই হিসাবে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি গ্রামের দাম দাঁড়ায় প্রায় ১৮ হাজার ৬৫২ টাকা। এটি প্রতি ভরির ২ লাখ ১৭ হাজার ৫৯২ টাকা থেকে করা গাণিতিক হিসাব।
স্বর্ণের প্রচলিত ওজনের এককগুলো হলো:
-
১ ভরি = ১১.৬৬৪ গ্রাম
-
১ আনা = ০.৭২৯ গ্রাম
-
১ রতি = ০.১২১৫ গ্রাম
-
১ পয়েন্ট = ০.০১২১৫ গ্রাম
এসব হিসাব জানা থাকলে অল্প ওজনের গয়নার দামও সহজে বের করা যায়।
পাঁচ আনা স্বর্ণের গয়না কিনতে কত টাকা লাগবে?
স্বর্ণের বর্তমান দরের প্রভাব বোঝার জন্য পাঁচ আনা ওজনের একটি গয়নার হিসাব করা যেতে পারে।
এক ভরি সমান ১৬ আনা। সে হিসাবে পাঁচ আনা স্বর্ণের ওজন ০.৩১২৫ ভরি। ২২ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৭ হাজার ৫৯২ টাকা ধরে পাঁচ আনা স্বর্ণের ধাতুমূল্য দাঁড়ায় প্রায় ৬৭ হাজার ৯৯৮ টাকা।
উদাহরণ হিসেবে ধাতুমূল্যের ওপর ৬ শতাংশ মজুরি যোগ করলে হিসাব হবে:
| বিবরণ | আনুমানিক দাম |
|---|---|
| পাঁচ আনা স্বর্ণের ধাতুমূল্য | ৬৭,৯৯৮ টাকা |
| ৬ শতাংশ মজুরি | ৪,০৮০ টাকা |
| মোট | ৭২,০৭৮ টাকা |
অর্থাৎ এই উদাহরণে পাঁচ আনা স্বর্ণের গয়না কিনতে মজুরিসহ প্রায় ৭২ হাজার ৭৮ টাকা লাগতে পারে।
এটি কেবল গাণিতিক উদাহরণ। বাস্তবে গয়নার নকশা, দোকানের মজুরি এবং প্রযোজ্য অন্যান্য শর্ত অনুযায়ী চূড়ান্ত দাম কমবেশি হতে পারে।
পুরোনো স্বর্ণ বিক্রি করলে কত টাকা পাওয়া যায়?
পুরোনো স্বর্ণের গয়না বিক্রির সময় নতুন গয়না কেনার হিসাবের মতো দাম পাওয়া যায় না। এ ক্ষেত্রে গয়নার বিশুদ্ধতা, প্রকৃত স্বর্ণের পরিমাণ, ওজন, ক্ষয় এবং দোকানের মূল্যায়ন পদ্ধতি বিবেচনা করা হয়।
সরবরাহ করা ক্যালকুলেটরে পুরোনো গয়না বিক্রির ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ কর্তনের একটি উদাহরণ দেওয়া হয়েছে। তবে এই হার সব দোকান বা সব ধরনের গয়নার জন্য প্রযোজ্য নয়।
পুরোনো গয়না বিক্রির আগে কয়েকটি দোকান থেকে দাম জেনে তুলনা করা ভালো। কী কারণে কত টাকা কর্তন করা হচ্ছে, সেটিও পরিষ্কারভাবে জেনে নেওয়া উচিত। কেনার সময় দেওয়া মজুরি ও অন্যান্য খরচ সাধারণত বিক্রির সময় পুরোপুরি ফেরত পাওয়া যায় না।
স্বর্ণের দাম কমার কারণ কী?
আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের মূল্য, ডলারের বিনিময় হার, স্থানীয় বাজারের সরবরাহ ও চাহিদাসহ বিভিন্ন বিষয় স্বর্ণের দরে প্রভাব ফেলতে পারে। দেশের বাজারে বাজুসের মূল্য সমন্বয়ও ঘোষিত দরের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।
তবে সরবরাহ করা মূল্যতালিকায় সাম্প্রতিক দাম কমার নির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করা হয়নি। তাই আন্তর্জাতিক বাজারের কোনো নির্দিষ্ট ঘটনা বা ডলারের দরের পরিবর্তনকে এই মূল্যহ্রাসের নিশ্চিত কারণ বলা যাচ্ছে না।
দাম পরিবর্তনের কারণ জানতে বাজুসের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ও সংশ্লিষ্ট বাজারতথ্য যাচাই করা প্রয়োজন।
স্বর্ণের গয়না কেনার আগে যে ৫টি বিষয় দেখবেন
স্বর্ণের দাম কমেছে বলে তাড়াহুড়ো করে গয়না কেনার সিদ্ধান্ত না নিয়ে কয়েকটি বিষয় যাচাই করা জরুরি।
১. ক্যারেট ও বিশুদ্ধতা: গয়নার ক্যারেট এবং হলমার্ক সম্পর্কে নিশ্চিত হোন।
২. সঠিক ওজন: নিজের সামনে গয়নার ওজন মাপিয়ে নিন। পাথর বা অন্য উপাদান থাকলে সেগুলোর ওজন কীভাবে হিসাব করা হচ্ছে, তা জেনে নিন।
৩. মজুরি: মজুরি শতকরা হারে নাকি নির্দিষ্ট টাকায় নেওয়া হচ্ছে, তা আগেই জেনে নিন।
৪. ক্যাশমেমো: গয়নার ওজন, মান, দাম ও মজুরির বিবরণসহ রসিদ সংগ্রহ করুন।
৫. বিক্রি ও বদলির শর্ত: ভবিষ্যতে গয়না বিক্রি বা বদল করতে চাইলে কী পরিমাণ কর্তন হতে পারে, তা আগে থেকে জেনে রাখুন।
কেনার আগে সর্বশেষ বাজারদর যাচাই করুন
স্বর্ণ ও রুপার দাম নিয়মিত পরিবর্তিত হতে পারে। তাই পুরোনো সংবাদ, অনলাইন ক্যালকুলেটর বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাওয়া দাম দেখে সরাসরি কেনাকাটা করা ঠিক নয়।
সংরক্ষিত তথ্য অনুযায়ী, ৩১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে কার্যকর হিসেবে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরির দাম ২ লাখ ১৭ হাজার ৫৯২ টাকা। আগের দরের তুলনায় কমেছে ৫ হাজার ৪৮২ টাকা। একই সময়ে বিভিন্ন মানের স্বর্ণ ও রুপার দামেও কমতির হিসাব দেখা যাচ্ছে।
তবে কেনাবেচার আগে বাজুসের সর্বশেষ আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি এবং সংশ্লিষ্ট জুয়েলারি দোকানের দর মিলিয়ে নেওয়া উচিত। এতে ঘোষিত দাম, গয়নার ওজন, বিশুদ্ধতা ও মজুরি সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে।
রাকিব/
