নতুন পে-স্কেলের বকেয়া থেকে বাদ পড়ছেন অনেকে, কারণ কী
নিজস্ব প্রতিবেদক: নতুন পে-স্কেল অনুযায়ী বর্ধিত বেতন ও তিন মাসের বকেয়া পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন সরকারি চাকরিজীবীরা। ১ নভেম্বর থেকে নতুন কাঠামো অনুযায়ী বেতন পরিশোধের প্রস্তুতি থাকলেও নির্ধারিত সময়ে সবাই এই সুবিধা পাবেন কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। কারণ, অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীর নতুন বেতন নির্ধারণ বা পে ফিক্সেশনের কাজ এখনো শেষ হয়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, যেসব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন নির্ধারণের কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন হবে না, তারা আপাতত আগের নিয়মেই বেতন পেতে পারেন। পরে পে ফিক্সেশন চূড়ান্ত হলে নতুন কাঠামো অনুযায়ী বর্ধিত বেতন ও প্রাপ্য বকেয়া সমন্বয় করে পরিশোধ করা হবে।
কেন আটকে যাচ্ছে নতুন বেতন ও বকেয়ার হিসাব?
নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে বিভিন্ন গ্রেডের অবস্থান, উচ্চতর গ্রেড, বাড়িভাড়া ভাতা এবং পদোন্নতির পর বেতন নির্ধারণ নিয়ে অসংগতি তৈরি হয়েছে।
এ ছাড়া আগের বেতনকাঠামোয় যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারী টাইম স্কেল, সিলেকশন গ্রেড বা উচ্চতর গ্রেড পেয়েছেন, তাদের নতুন বেতন কীভাবে নির্ধারণ করা হবে, তা নিয়েও হিসাবের প্রয়োজন হচ্ছে।
এসব তথ্য যাচাই ও সমন্বয়ের কাজ শেষ না হওয়ায় অনেকের পে ফিক্সেশন আটকে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
iBAS++ ব্যবস্থার জটিলতাও বাধা
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন নির্ধারণের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে সরকারের সমন্বিত আর্থিক ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি iBAS++। এই ব্যবস্থার পে ফিক্সেশন প্রক্রিয়ায় তথ্য যাচাই ও হিসাবের কিছু জটিলতা দেখা দিয়েছে।
কর্মচারীদের চাকরিসংক্রান্ত তথ্য, বর্তমান পদ, গ্রেড, মূল বেতন এবং আগের বেতন নির্ধারণের হিসাব সঠিকভাবে মিলিয়ে নিতে হচ্ছে। কোনো তথ্যের অসংগতি থাকলে নতুন বেতন নির্ধারণে সমস্যা তৈরি হতে পারে।
এসব জটিলতা সমাধানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অর্থসচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদারের কাছে আবেদন জানিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
কতজন সরকারি চাকরিজীবী ও পেনশনভোগী রয়েছেন?
প্রতিবেদনে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী, ৮ লাখ পেনশনভোগী এবং ৬ লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যকের বেতন নির্ধারণের কাজ এখনো শেষ হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।
তবে নতুন পে-স্কেলের বর্ধিত বেতন ও বকেয়া পাওয়ার বিষয়টি সবার ক্ষেত্রে একইভাবে কার্যকর হবে না। ব্যক্তির গ্রেড, আগের মূল বেতন, নতুন কাঠামোয় নির্ধারিত বেতন এবং প্রযোজ্য নিয়মের ওপর পাওনার হিসাব নির্ভর করবে।
কবে মিলবে বর্ধিত বেতন ও তিন মাসের বকেয়া?
যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারীর পে ফিক্সেশন সম্পন্ন হবে, তাঁদের নতুন কাঠামো অনুযায়ী বেতন ও প্রাপ্য বকেয়া সমন্বয় করে দেওয়ার কথা। আর যাঁদের হিসাব চূড়ান্ত হয়নি, তাঁদের ক্ষেত্রে আগের নিয়মে বেতন দেওয়ার পর পরবর্তী সময়ে পাওনা সমন্বয়ের কথা জানানো হয়েছে।
অর্থ বিভাগের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, নতুন বেতনকাঠামোর প্রজ্ঞাপন তৈরি ও বাস্তবায়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের অভিজ্ঞতার ঘাটতির কারণে বিভিন্ন জটিলতা তৈরি হয়েছে। এসব অসংগতি দূর করতে কাজ চলছে এবং এ বিষয়ে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে।
ফলে ১ নভেম্বর থেকেই সব সরকারি চাকরিজীবী নতুন বেতন ও তিন মাসের বকেয়া পাবেন, এমন নিশ্চয়তা এখনো পাওয়া যাচ্ছে না। যাঁদের বেতন নির্ধারণের কাজ শেষ হয়নি, তাঁদের নতুন বেতন ও বকেয়া পেতে আরও অপেক্ষা করতে হতে পারে।
সোহাগ/
