| ঢাকা, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩

১ নভেম্বর নতুন পে স্কেলে বেতন, ৩ মাসের বকেয়া পাবেন কি সবাই?  

জাতীয় ডেস্ক . বিনোদন৬৯.কম
২০২৬ অক্টোবর ৩১ ১০:২৬:০৪
১ নভেম্বর নতুন পে স্কেলে বেতন, ৩ মাসের বকেয়া পাবেন কি সবাই?
 

নিজস্ব প্রতিবেদক: নবম জাতীয় পে স্কেল ২০২৬ অনুযায়ী আগামীকাল রোববার (১ নভেম্বর) সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বর্ধিত বেতন ও তিন মাসের বকেয়া পরিশোধের প্রস্তুতি নিয়েছে সরকার। তবে নতুন বেতন নির্ধারণ বা পে ফিক্সেশনের বিভিন্ন জটিলতায় নির্ধারিত সময়ে সবাই বর্ধিত বেতন পাচ্ছেন না। যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন নির্ধারণের কাজ শেষ হয়নি, তাঁদের আপাতত আগের বেতন কাঠামো অনুযায়ী বেতন দেওয়া হতে পারে। পরবর্তী সময়ে বর্ধিত বেতন ও বকেয়া সমন্বয়ের কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

অর্থ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, নতুন বেতন কাঠামো ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর ধরা হয়েছে। ফলে জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসের বর্ধিত বেতনের পার্থক্য বকেয়া হিসেবে পাওয়ার কথা রয়েছে। তবে কার কত টাকা বকেয়া হবে, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর গ্রেড, আগের মূল বেতন, নতুন বেতন নির্ধারণ এবং বাস্তবায়নের ধাপের ওপর।

১ নভেম্বর কারা নতুন বেতন পাবেন, কারা পাবেন না?

নতুন পে স্কেল অনুযায়ী বেতন দেওয়ার প্রস্তুতি থাকলেও সব সরকারি দপ্তরের বেতন নির্ধারণের কাজ একই সময়ে শেষ হয়নি। অর্থ বিভাগ সূত্রে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী, ৮ লাখ পেনশনভোগী এবং ৬ লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষকের মধ্যে অনেকের বেতন ও সুবিধা নির্ধারণের কাজ নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে।

বিশেষ করে গ্রেডের ক্রম, উচ্চতর গ্রেড, বাড়িভাড়া ভাতা এবং পদোন্নতির পর আর্থিক সুবিধা নির্ধারণে অসংগতি দেখা দিয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সরকারের সমন্বিত আর্থিক ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি আইবাস++ (iBAS++)-এর কারিগরি জটিলতা।

ফলে যেসব মন্ত্রণালয় ও বিভাগ নির্ধারিত সময়ে পে ফিক্সেশন শেষ করতে পারেনি, সেসব দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ১ নভেম্বর নতুন কাঠামোর বর্ধিত বেতন নাও পেতে পারেন। তাঁদের পুরোনো কাঠামো অনুযায়ী বেতন দিয়ে পরবর্তী সময়ে বকেয়া সমন্বয়ের ব্যবস্থা করা হতে পারে।

১১তম ও ১২তম গ্রেডের বেতনে কেন তৈরি হয়েছে অসংগতি?

নতুন বেতন কাঠামোতে ১১তম ও ১২তম গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন নির্ধারণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কারণ, প্রারম্ভিক মূল বেতনে ১১তম গ্রেড এগিয়ে থাকলেও পে ফিক্সেশনের পর কোনো কোনো ক্ষেত্রে ১২তম গ্রেডের কর্মচারীরা বেশি মূল বেতন পাচ্ছেন।

জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ অনুযায়ী, ১১তম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন ২৫ হাজার টাকা এবং ১২তম গ্রেডের ২৪ হাজার ৩০০ টাকা। অর্থাৎ প্রারম্ভিক বেতনে ১১তম গ্রেড ৭০০ টাকা এগিয়ে।

কিন্তু কর্মচারীদের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, পুরোনো বেতন কাঠামোর মূল বেতন ও নতুন স্কেলের ধাপ সমন্বয় করতে গিয়ে উল্টো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

উদাহরণ হিসেবে, ১১তম গ্রেডের একজন কর্মচারীর ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে মূল বেতন ছিল ২৩ হাজার ৬৬০ টাকা। পুরোনো স্কেলের প্রারম্ভিক বেতন ১২ হাজার ৫০০ টাকা বাদ দিলে পার্থক্য দাঁড়ায় ১১ হাজার ১৬০ টাকা। নতুন স্কেলের ২৫ হাজার টাকার সঙ্গে এই পার্থক্য যোগ করলে হয় ৩৬ হাজার ১৬০ টাকা। পরবর্তী নির্ধারিত বেতনধাপ অনুযায়ী তাঁর মূল বেতন দাঁড়াচ্ছে ৩৭ হাজার টাকা।

অন্যদিকে, ১২তম গ্রেডের একজন কর্মচারীর ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে মূল বেতন ছিল ২৩ হাজার ৫৮০ টাকা। পুরোনো স্কেলের প্রারম্ভিক বেতন ১১ হাজার ৩০০ টাকা বাদ দিলে পার্থক্য হয় ১২ হাজার ২৮০ টাকা। নতুন স্কেলের ২৪ হাজার ৩০০ টাকার সঙ্গে যোগ করলে দাঁড়ায় ৩৬ হাজার ৫৮০ টাকা। পরবর্তী বেতনধাপ অনুযায়ী তাঁর মূল বেতন নির্ধারিত হচ্ছে ৩৭ হাজার ৭০০ টাকা।

ফলে প্রারম্ভিক বেতনে এগিয়ে থাকা ১১তম গ্রেডের কর্মচারীর তুলনায় ১২তম গ্রেডের কর্মচারী ৭০০ টাকা বেশি মূল বেতন পাচ্ছেন বলে কর্মচারীদের হিসাব থেকে জানা গেছে।

পদোন্নতি পেলেও কি কমতে পারে মাসিক আয়?

নতুন পে স্কেলে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠেছে বাড়িভাড়া ভাতা নিয়ে। কর্মচারীদের দেওয়া একটি হিসাব অনুযায়ী, দশম গ্রেড থেকে নবম গ্রেডে পদোন্নতি বা উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার পর কোনো কোনো কর্মচারীর মূল বেতন বাড়লেও বাড়িভাড়া ভাতার হার কমে যেতে পারে।

উদাহরণ হিসেবে, দশম গ্রেডের একজন কর্মকর্তার মূল বেতন ৪৯ হাজার ৭০০ টাকা হলে ৫০ শতাংশ হারে বাড়িভাড়া দাঁড়ায় ২৪ হাজার ৮৫০ টাকা।

অন্যদিকে, নবম গ্রেডে পদোন্নতির পর মূল বেতন ৫১ হাজার টাকা হলেও ৪৫ শতাংশ হারে বাড়িভাড়া হয় ২২ হাজার ৯৫০ টাকা।

অর্থাৎ মূল বেতন ১ হাজার ৩০০ টাকা বাড়লেও বাড়িভাড়া কমছে ১ হাজার ৯০০ টাকা। এতে মূল বেতন ও বাড়িভাড়া মিলিয়ে মাসিক আয় ৬০০ টাকা কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

তবে এটি নির্দিষ্ট হিসাবের একটি উদাহরণ। প্রকৃত আর্থিক সুবিধা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর গ্রেড, কর্মস্থল এবং প্রযোজ্য ভাতার নিয়মের ওপর।

উচ্চতর গ্রেড নিয়ে জ্যেষ্ঠ-কনিষ্ঠ কর্মচারীদের মধ্যে প্রশ্ন

নতুন পে স্কেলে উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার যোগ্যতা ও সময় নিয়েও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে।

কর্মচারীদের অভিযোগ, ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে যাঁদের চাকরির বয়স আট বছর পূর্ণ হয়েছে এবং যাঁদের ১০ বছর পূর্ণ হয়েছে, তাঁদের উভয়ের ক্ষেত্রে ১ জুলাই থেকে প্রথম উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার যোগ্যতা তৈরি হতে পারে।

এতে একই পদে কর্মরত জ্যেষ্ঠ ও অপেক্ষাকৃত জুনিয়র কর্মচারীদের মূল বেতন সমান হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আবার বেতন নির্ধারণের ধাপের কারণে কোনো কোনো ক্ষেত্রে জুনিয়র কর্মচারীর মূল বেতন জ্যেষ্ঠ কর্মচারীর চেয়ে বেশি হতে পারে।

কর্মচারীদের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, উচ্চতর গ্রেডের সময় গণনা ও পূর্বে পাওয়া সুবিধা সমন্বয়ের নিয়ম স্পষ্ট না হলে ভবিষ্যতে বেতনবৈষম্য তৈরি হতে পারে। এ কারণে উচ্চতর গ্রেডের বিধান আরও পরিষ্কার করার দাবি উঠেছে।

আইবাস++ জটিলতায় কেন আটকে যাচ্ছে বেতন নির্ধারণ?

নতুন পে স্কেলের বেতন নির্ধারণের পুরো প্রক্রিয়ায় আইবাস++ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। সরকারের এই সমন্বিত আর্থিক ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির মাধ্যমে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন নির্ধারণ, বিল তৈরি, অর্থ পরিশোধ এবং সরকারি আয়-ব্যয়ের হিসাব সংরক্ষণ করা হয়।

তবে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের সময় এই ব্যবস্থায় বিভিন্ন জটিলতার অভিযোগ উঠেছে।

কর্মচারীদের দাবি, গ্রেড, ইনক্রিমেন্ট, পদোন্নতি এবং উচ্চতর গ্রেডের তথ্য সঠিকভাবে সমন্বয় করতে গিয়ে সমস্যা দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি অভিজ্ঞ জনবলের ঘাটতি ও কারিগরি জটিলতার কারণে কিছু দপ্তরের পে ফিক্সেশন শেষ করতে দেরি হচ্ছে।

এসব সমস্যা সমাধানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অর্থসচিবের কাছে আবেদন করেছেন বলে জানা গেছে। অর্থ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সমস্যাগুলো সমাধানে কাজ করছেন বলে জানিয়েছেন।

তিন মাসের বকেয়া কীভাবে হিসাব হবে?

নতুন বেতন কাঠামো ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর হওয়ায় জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসের বর্ধিত বেতনের পার্থক্য বকেয়া হিসেবে পাওয়ার কথা।

তবে সবার বকেয়া একই পরিমাণ হবে না। কয়েকটি বিষয়ের ওপর এই হিসাব নির্ভর করবে:

১. কর্মচারীর বর্তমান গ্রেড ও মূল বেতন।

২. নতুন পে স্কেলে নির্ধারিত মূল বেতন।

৩. পুরোনো ও নতুন বেতনের পার্থক্য।

৪. নতুন বেতন বাস্তবায়নের প্রযোজ্য ধাপ।

৫. আগে পাওয়া বিশেষ সুবিধা ও অন্যান্য ভাতার সমন্বয়।

অর্থাৎ নতুন পে স্কেলে মূল বেতন বাড়লেও হাতে পাওয়া মোট বেতন এবং বকেয়ার পরিমাণ কর্মচারীভেদে আলাদা হতে পারে।

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কী?

নতুন পে স্কেলে বর্ধিত বেতন ও বকেয়া পেতে সরকারি কর্মচারীদের নিজেদের পে ফিক্সেশনের তথ্য যাচাই করা জরুরি। বিশেষ করে গ্রেড, বর্তমান মূল বেতন, চাকরির ইতিহাস, ইনক্রিমেন্ট এবং উচ্চতর গ্রেডের তথ্য সঠিক আছে কি না, তা দেখতে হবে।

যাঁদের পে ফিক্সেশন সম্পন্ন হয়েছে, তাঁদের বর্ধিত বেতন ও বকেয়া পাওয়ার প্রক্রিয়া এগোবে। অন্যদিকে যাঁদের তথ্য বা বেতন নির্ধারণে সমস্যা রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে সংশোধন ও সমন্বয়ের পর অর্থ পরিশোধ করা হতে পারে।

সব মিলিয়ে, আগামী ১ নভেম্বর নতুন পে স্কেলের বেতন ও তিন মাসের বকেয়া দেওয়ার প্রস্তুতি থাকলেও সব সরকারি চাকরিজীবী একই দিনে বর্ধিত বেতন পাবেন কি না, তা নির্ভর করছে পে ফিক্সেশন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রস্তুতির ওপর।

সোহাগ/

আপনার জন্য নির্বাচিত নিউজ

ক্রিকেট

বিগ ব্যাশে দল পাচ্ছেন মুস্তাফিজ, খেলবেন যে দলে

বিগ ব্যাশে দল পাচ্ছেন মুস্তাফিজ, খেলবেন যে দলে

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের বাঁহাতি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে ঘিরে অস্ট্রেলিয়ার ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে নতুন খবর সামনে এসেছে। ...

লিটন-মিরাজের শতরানের জুটিতে লাঞ্চের আগে বাংলাদেশের লিড ৪৪৩

লিটন-মিরাজের শতরানের জুটিতে লাঞ্চের আগে বাংলাদেশের লিড ৪৪৩

নিজস্ব প্রতিবেদক: আবুধাবিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে ব্যাট হাতে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন বাংলাদেশের লিটন দাস। ...

ফুটবল

ফাইনাল নিয়ে ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব উড়িয়ে দিলেন রোমেরো

ফাইনাল নিয়ে ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব উড়িয়ে দিলেন রোমেরো

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচ ঘিরে ছড়িয়ে পড়া ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব সরাসরি নাকচ করে ...

ব্যালন ডি’অর জিতে কত টাকা পান হ্যারি কেইন

ব্যালন ডি’অর জিতে কত টাকা পান হ্যারি কেইন

নিজস্ব প্রতিবেদক: ব্যালন ডি’অর ফুটবলের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কার। এই ট্রফি জেতা মানে শুধু মাঠের ...