সুরা ইখলাস পাঠের ফজিলত, কেন একে কুরআনের এক-তৃতীয়াংশ বলা হয়
নিজস্ব প্রতিবেদক: পবিত্র কুরআনের ১১২তম সুরা ইখলাস। মাত্র চার আয়াতের এই ছোট সুরায় তুলে ধরা হয়েছে মহান আল্লাহর একত্ব, তাঁর অমুখাপেক্ষিতা এবং তাঁর সমতুল্য কেউ না থাকার ঘোষণা। ছোট সুরা হলেও এর ফজিলত অনেক। হাদিসে সুরা ইখলাসকে পবিত্র কুরআনের এক-তৃতীয়াংশের সমতুল্য বলা হয়েছে।
মুসলমানদের কাছে সুরা ইখলাস অত্যন্ত পরিচিত। নামাজসহ দৈনন্দিন ইবাদতে অনেকেই নিয়মিত এই সুরা পাঠ করেন। তবে এর অর্থ ও ফজিলত সম্পর্কে জানা থাকলে সুরাটি পাঠের গুরুত্ব আরও ভালোভাবে উপলব্ধি করা যায়।
সুরা ইখলাসের পরিচয়
সুরা ইখলাস পবিত্র কুরআনের ১১২তম সুরা। প্রচলিত শ্রেণিবিভাগ অনুযায়ী এটি মক্কায় অবতীর্ণ। এ সুরায় রয়েছে চারটি আয়াত এবং একটি রুকু।
সুরাটির মূল বক্তব্য হলো তাওহিদ বা আল্লাহর একত্ববাদ। এতে ঘোষণা করা হয়েছে, আল্লাহ এক ও অদ্বিতীয়। তিনি কারও মুখাপেক্ষী নন, তাঁর কোনো সন্তান নেই এবং তিনিও কারও সন্তান নন। তাঁর সমতুল্য বা তুলনীয় কেউ নেই।
সুরা ইখলাস পাঠে কুরআনের এক-তৃতীয়াংশের সওয়াব
সুরা ইখলাসের অন্যতম বিশেষ ফজিলত হলো, হাদিসে একে পবিত্র কুরআনের এক-তৃতীয়াংশের সমতুল্য বলা হয়েছে।
হজরত আবু দারদা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) সাহাবিদের জিজ্ঞেস করেন, ‘তোমাদের কেউ কি এক রাতে কুরআনের এক-তৃতীয়াংশ পড়তে অপারগ হয়ে যাবে?’
সাহাবিরা জানতে চান, কীভাবে এক-তৃতীয়াংশ পড়া সম্ভব? তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘কুল হুয়াল্লাহু আহাদ’ অর্থাৎ সুরা ইখলাস কুরআনের এক-তৃতীয়াংশের সমান। (সহিহ মুসলিম: ৮১৩)
সুরা ইখলাস ভালোবাসলে আল্লাহ ভালোবাসেন
হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে সুরা ইখলাসের প্রতি ভালোবাসার বিশেষ মর্যাদার কথা এসেছে।
একবার রাসুলুল্লাহ (সা.) এক সাহাবিকে একটি অভিযানে দলের নেতা করে পাঠান। ওই সাহাবি নামাজে ইমামতি করার সময় প্রতিটি রাকাতে অন্য সুরা পাঠের পর সুরা ইখলাস দিয়ে কিরাত শেষ করতেন।
অভিযান থেকে ফিরে অন্য সাহাবিরা বিষয়টি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জানান। তিনি ওই সাহাবিকে এর কারণ জিজ্ঞেস করতে বলেন। সাহাবি জানান, সুরাটিতে আল্লাহর গুণাবলি বর্ণিত হয়েছে, তাই তিনি এটি ভালোবাসেন।
তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, তাঁকে জানিয়ে দাও, আল্লাহও তাঁকে ভালোবাসেন। (সহিহ বুখারি: ৭৩৭৫)
সুরা ইখলাসের প্রতি ভালোবাসার প্রতিদান
সুরা ইখলাসের প্রতি ভালোবাসার বিষয়ে আরেকটি বর্ণনা পাওয়া যায় মুসনাদে আহমদে।
এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে এসে জানান, তিনি সুরা ইখলাসকে ভালোবাসেন। তখন নবীজি (সা.) তাকে জানান, এই সুরার প্রতি ভালোবাসা তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে। (মুসনাদে আহমদ: ৩/১৪১)
সুরা ইখলাসের আরবি, বাংলা উচ্চারণ ও অর্থ
আরবি:
قُلْ هُوَ اللّٰهُ أَحَدٌ اللّٰهُ الصَّمَدُ لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ وَلَمْ يَكُن لَّهُ كُفُوًا أَحَدٌ
বাংলা উচ্চারণ:
কুল হুয়াল্লাহু আহাদ। আল্লাহুস সামাদ। লাম ইয়ালিদ। ওয়ালাম ইউলাদ। ওয়ালাম ইয়াকুল্লাহু কুফুওয়ান আহাদ।
অর্থ:
বলুন, তিনি আল্লাহ, এক ও অদ্বিতীয়। আল্লাহ অমুখাপেক্ষী, সবাই তাঁর মুখাপেক্ষী। তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং তাঁকেও জন্ম দেওয়া হয়নি। আর তাঁর সমতুল্য কেউ নেই।
কেন নিয়মিত সুরা ইখলাস পাঠ করবেন?
সুরা ইখলাসের মূল শিক্ষা হলো আল্লাহর একত্বে বিশ্বাস রাখা এবং তাঁর সঙ্গে কাউকে শরিক না করা। হাদিসে এ সুরার বিশেষ ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। তাই শুধু মুখস্থ পাঠ নয়, এর অর্থ বুঝে বিশ্বাস ও আন্তরিকতার সঙ্গে তিলাওয়াত করাও গুরুত্বপূর্ণ।
প্রতিদিনের ইবাদতে সুরা ইখলাস পাঠের পাশাপাশি এর শিক্ষা নিজের জীবনে ধারণ করার চেষ্টা করা উচিত।
আশা/
