এইচএসসিতে ফেল করা শিক্ষার্থীদের নতুন পরীক্ষা
নিজস্ব প্রতিবেদক: এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন করে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। এ জন্য শিক্ষার্থীদের আবারও ফরম পূরণ করতে হবে। নতুন পরীক্ষার তারিখ, ফরম পূরণের সময়সূচি ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জানিয়ে আগামী তিন দিনের মধ্যে গাইডলাইন প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে তিনি জানান, এবারের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় যেসব শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছেন, তাঁরা নতুন করে ফরম পূরণ করে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন। তবে কবে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে এবং কীভাবে ফরম পূরণ করতে হবে, তা বিস্তারিতভাবে জানানো হবে শিক্ষা বোর্ডের প্রকাশিত নির্দেশনায়।
আবার ফরম পূরণ করতে হবে শিক্ষার্থীদের
শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, নতুন পরীক্ষায় অংশ নিতে আগ্রহী অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে পুনরায় ফরম পূরণ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে ফরম পূরণের সময়সীমা, ফি এবং পরীক্ষার অন্যান্য শর্ত গাইডলাইনে উল্লেখ থাকবে।
তাই শিক্ষার্থীদের আপাতত শিক্ষা বোর্ডের আনুষ্ঠানিক নির্দেশনার জন্য অপেক্ষা করতে হবে। নির্দেশনা প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট বোর্ডের ওয়েবসাইট ও বিজ্ঞপ্তি থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য জানা যাবে।
এর আগে শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছিলেন, অকৃতকার্য শিক্ষার্থীরা আগামী এক মাসের মধ্যে নতুন করে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। এবার শিক্ষা বোর্ডের পক্ষ থেকেও নতুন পরীক্ষার প্রস্তুতি ও ফরম পূরণের বিষয়ে তথ্য জানানো হয়েছে।
এবার এইচএসসিতে অকৃতকার্য প্রায় ৬ লাখ শিক্ষার্থী
এবার দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নেন মোট ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ জন শিক্ষার্থী। তাঁদের মধ্যে পাস করেছেন ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন। অকৃতকার্য হয়েছেন ৫ লাখ ৯৪ হাজার ১১৩ জন।
এ বছর গড় পাসের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। পাস করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্রীদের পাসের হার ৫৬ দশমিক ৩১ শতাংশ। অন্যদিকে ছাত্রদের পাসের হার ৪৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ।
জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪০ হাজারের বেশি
এবার এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় মোট ৪০ হাজার ৮৪ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ছাত্র ২০ হাজার ৩৬৩ জন এবং ছাত্রী ১৯ হাজার ৭২১ জন।
গত বছরের তুলনায় এবার পাসের হারও কমেছে। ২০২৫ সালে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ। এবার তা কমে হয়েছে ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ পয়েন্ট।
শিক্ষার্থীদের এখন কী করা উচিত?
নতুন পরীক্ষায় অংশ নিতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের শিক্ষা বোর্ডের পরবর্তী বিজ্ঞপ্তির দিকে নজর রাখতে হবে। বিশেষ করে ফরম পূরণের তারিখ, পরীক্ষার সম্ভাব্য সময়, ফি এবং অংশগ্রহণের শর্ত সম্পর্কে নির্দেশনা প্রকাশের পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
বোর্ডের গাইডলাইন প্রকাশিত হলে কোন বিষয়ে বা কী নিয়মে পুনরায় পরীক্ষা দেওয়া যাবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে। তাই অনানুষ্ঠানিক তথ্যের ওপর নির্ভর না করে নিজ নিজ শিক্ষা বোর্ডের বিজ্ঞপ্তি অনুসরণ করাই শিক্ষার্থীদের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ।
সোহাগ/
