এইচএসসিতে ২৯৩ প্রতিষ্ঠানে পাস করেনি কেউ, পাসের হার কত
নিজস্ব প্রতিবেদক: ২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার ৫১ দশমিক ১২ শতাংশ। তবে দেশের ২৯৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল প্রকাশ করা হয়। শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন ফল প্রকাশ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। ফল প্রকাশের মধ্য দিয়ে তাঁদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হয়েছে।
২৯৩ প্রতিষ্ঠানে শূন্য পাস
এবারের ফলাফলে সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলোর একটি হলো, ২৯৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থী পাস করতে পারেনি। অর্থাৎ এসব প্রতিষ্ঠানের পাসের হার শূন্য।
অন্যদিকে, সামগ্রিকভাবে ১১টি শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫১ দশমিক ১২ শতাংশ। ফলাফলে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক সাফল্যের পার্থক্যও স্পষ্ট হয়েছে।
অনলাইন ও এসএমএসে যেভাবে ফল দেখবেন
ফল প্রকাশের পর পরীক্ষার্থীরা নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ফল সংগ্রহ করতে পারবেন। পাশাপাশি শিক্ষা বোর্ডের নির্ধারিত ওয়েবসাইটেও ফলাফল পাওয়া যাচ্ছে।
অনলাইনে ফল দেখতে ওয়েবসাইট দুটি ব্যবহার করা যাবে:
ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে পরীক্ষার নাম, বছর, বোর্ড, রোল নম্বর ও প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে ফলাফল দেখা যাবে।
এ ছাড়া মোবাইল ফোনে এসএমএস পাঠিয়েও ফল জানা যাবে। এ জন্য মেসেজ অপশনে লিখতে হবে:
HSC DHA ROLL 2026
এখানে DHA-এর জায়গায় নিজের শিক্ষা বোর্ডের নামের প্রথম তিন অক্ষর এবং ROLL-এর জায়গায় পরীক্ষার রোল নম্বর বসাতে হবে। এরপর বার্তাটি পাঠাতে হবে ১৬১৪০ নম্বরে।
উদাহরণ হিসেবে, ঢাকা বোর্ডের কোনো পরীক্ষার্থীর রোল নম্বর ১২৩৪৫৬ হলে এসএমএসটি হবে:
HSC DHA 123456 2026
ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন ১ নভেম্বর থেকে
প্রকাশিত ফল নিয়ে কোনো পরীক্ষার্থীর আপত্তি বা অসন্তুষ্টি থাকলে পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির তথ্য অনুযায়ী, আগামী ১ নভেম্বর থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন গ্রহণ করা হবে।
আবেদনপ্রক্রিয়া, ফি এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। আগ্রহী পরীক্ষার্থীদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন সম্পন্ন করতে হবে।
পরীক্ষা শুরু হয়েছিল ২ জুলাই
এবার দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড এবং বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয় ২ জুলাই।
লিখিত পরীক্ষা ৮ আগস্ট শেষ হওয়ার কথা থাকলেও প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বন্যার কারণে চট্টগ্রামসহ কয়েকটি শিক্ষা বোর্ডের কিছু পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। পরে স্থগিত পরীক্ষাগুলো নেওয়া হয়। ১৫ আগস্টের মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষা শেষ হয়।
ফল প্রকাশের পর পরীক্ষার্থীরা অনলাইন, এসএমএস কিংবা নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ফল সংগ্রহ করতে পারবেন।
সোহাগ/
