২০২৮ সালে ১৫ দিনের ব্যবধানে দুবার দুর্গাপূজা, কেন এমন হবে?
নিজস্ব প্রতিবেদক: ২০২৮ সালে একই বছরে দুবার শারদীয় দুর্গাপূজা আয়োজনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। পঞ্জিকার তিথি গণনার পদ্ধতিতে পার্থক্যের কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। ভারতের সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত ও সূর্য সিদ্ধান্ত—এই দুই পঞ্জিকা অনুসরণ করে পূজার তারিখ নির্ধারণ করলে দুই আয়োজনের মধ্যে ১৫ দিনেরও বেশি ব্যবধান দেখা যেতে পারে।
তবে বিষয়টি সাধারণভাবে একই পঞ্জিকা অনুসারে দুবার দুর্গাপূজা হওয়ার ঘটনা নয়। বরং তিথি গণনার ভিন্ন পদ্ধতির কারণে বিভিন্ন মঠ, মন্দির ও পূজা আয়োজক সংস্থা আলাদা সময়ে পূজার আয়োজন করতে পারে।
২০২৮ সালে কবে হতে পারে দুর্গাপূজা?
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা অনুসারে ২০২৮ সালের সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে দুর্গাপূজার আয়োজন হতে পারে। অন্যদিকে, সূর্য সিদ্ধান্ত অনুসরণ করলে পূজা হতে পারে অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে।
এই দুই হিসাব অনুসারে পূজার তারিখে ১৫ দিনের বেশি ব্যবধান তৈরি হতে পারে। তবে নির্দিষ্ট তারিখ জানতে সংশ্লিষ্ট বছরের পূর্ণাঙ্গ পঞ্জিকা ও আয়োজক সংস্থার ঘোষণা যাচাই করা প্রয়োজন।
কেন দুই সময়ে দুর্গাপূজা হয়?
বাংলায় দুর্গাপূজার তিথি নির্ধারণে মূলত বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত ও সূর্য সিদ্ধান্ত—এই দুই ধরনের পঞ্জিকা প্রচলিত।
বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত: এই পদ্ধতিতে জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক গণনার ভিত্তিতে তিথি ও অন্যান্য পঞ্জিকাগত বিষয় নির্ধারণ করা হয়।
সূর্য সিদ্ধান্ত: এই পদ্ধতিতেও জ্যোতির্বিদ্যাভিত্তিক গণনার মাধ্যমে তিথি ও নক্ষত্র নির্ধারণ করা হয়, তবে গণনার নিয়মে পার্থক্য থাকায় কোনো কোনো ক্ষেত্রে তারিখের ব্যবধান তৈরি হতে পারে।
ফলে একই বছরের দুর্গাপূজার দিন দুই পঞ্জিকায় এক নাও হতে পারে।
কোন কোন সংস্থা কোন পঞ্জিকা অনুসরণ করে?
আনন্দবাজারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বেলুড় মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশন এবং ভারত সেবাশ্রম সংঘের মতো কিছু প্রতিষ্ঠান বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত অনুসারে দুর্গাপূজার আয়োজন করে। অন্যদিকে, অনেক বনেদি বাড়ি, বারোয়ারি ও সর্বজনীন পূজার আয়োজন সূর্য সিদ্ধান্ত অনুসরণ করে করা হয়।
তবে নির্দিষ্ট কোনো প্রতিষ্ঠান ২০২৮ সালে কোন তারিখে পূজা করবে, তা জানতে তাদের নিজস্ব আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেখা প্রয়োজন।
অতীতেও কি এমন ঘটনা ঘটেছে?
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৮০ সালেও দুই পঞ্জিকার হিসাব অনুসারে আলাদা সময়ে দুর্গাপূজার আয়োজন হয়েছিল। অর্থাৎ, ২০২৮ সালে এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে সেটি একেবারে নজিরবিহীন ঘটনা হবে না।
ধর্মীয় রীতি ও সংশ্লিষ্ট পঞ্জিকার হিসাব অনুযায়ী, আয়োজকেরা নিজেদের অনুসৃত পদ্ধতিতে পূজার তারিখ নির্ধারণ করতে পারেন।
দুবার পূজা হলে কি সরকারি ছুটিও দুবার হবে?
একই বছরে দুই পঞ্জিকা অনুসারে আলাদা সময়ে পূজা অনুষ্ঠিত হলেও সরকারি ছুটি দুবার ঘোষণা করা হবে—এমন নয়। ছুটির বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সরকারের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে।
ভারতের ক্ষেত্রে কোন তারিখে সরকারি ছুটি থাকবে, তা সরকারি ছুটির তালিকা থেকে নিশ্চিত হতে হবে। একইভাবে বাংলাদেশের দুর্গাপূজার ছুটি নির্ধারিত হবে বাংলাদেশ সরকারের ঘোষিত ছুটির তালিকা অনুযায়ী।
সব মিলিয়ে, ২০২৮ সালে দুই পঞ্জিকার পার্থক্যের কারণে আলাদা সময়ে দুর্গাপূজা আয়োজনের সম্ভাবনা আলোচনায় এসেছে। তবে পূজার নির্দিষ্ট তারিখ ও সরকারি ছুটির বিষয়ে নিশ্চিত হতে সংশ্লিষ্ট পঞ্জিকা এবং সরকারি ঘোষণার অপেক্ষা করতে হবে।
সোহাগ/
