| ঢাকা, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩

ঘরে বসেই অনলাইনে জমির খতিয়ান দেখবেন যেভাবে

জাতীয় ডেস্ক . বিনোদন৬৯.কম
২০২৬ অক্টোবর ২৫ ২২:১৯:৪৭
ঘরে বসেই অনলাইনে জমির খতিয়ান দেখবেন যেভাবে

নিজস্ব প্রতিবেদক: জমির খতিয়ান দেখতে এখন আর সব ক্ষেত্রে ভূমি অফিসে যাওয়ার প্রয়োজন হয় না। বাংলাদেশ সরকারের অনলাইন ভূমি রেকর্ড ও ম্যাপ সেবার মাধ্যমে ঘরে বসেই জমির খতিয়ান অনুসন্ধান করা যায়। জমির জেলা, উপজেলা, মৌজা ও জরিপের ধরন নির্বাচন করে খতিয়ান নম্বর, দাগ নম্বর কিংবা মালিকের নামের মতো তথ্য দিয়ে রেকর্ড খোঁজার সুযোগ রয়েছে।

জমি কেনার আগে, উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া জমির তথ্য যাচাই করতে কিংবা নিজের জমির রেকর্ড সম্পর্কে জানতে এই সেবা কাজে আসতে পারে। তবে অনলাইনে পাওয়া তথ্যের সঙ্গে দলিল ও অন্যান্য কাগজপত্র মিলিয়ে দেখা জরুরি। কারণ, শুধু খতিয়ানে নাম থাকলেই জমির মালিকানা সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিত হয় না।

মোবাইল ফোন বা কম্পিউটার ব্যবহার করে কয়েকটি ধাপে জমির খতিয়ান অনুসন্ধান করা যায়।

প্রথম ধাপ: সরকারি পোর্টালে প্রবেশ করুন

প্রথমে ভূমি রেকর্ড ও ম্যাপ সেবার সরকারি ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন:

https://dlrms.land.gov.bd/

প্রয়োজনে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সরকারি ওয়েবসাইট https://land.gov.bd/ থেকেও সংশ্লিষ্ট সেবায় যেতে পারেন।

দ্বিতীয় ধাপ: জমির অবস্থান নির্বাচন করুন

জমিটি যে বিভাগ, জেলা, উপজেলা বা থানার অধীনে রয়েছে, সেগুলো নির্বাচন করুন। এরপর সংশ্লিষ্ট মৌজা বেছে নিন। মৌজার নাম ও জে এল নম্বর সঠিকভাবে জানা থাকলে অনুসন্ধান সহজ হয়।

তৃতীয় ধাপ: খতিয়ানের ধরন নির্বাচন করুন

জমির রেকর্ড কোন জরিপের অধীনে রয়েছে, তা নির্বাচন করতে হবে। যেমন—

  • সিএস (CS)

  • এসএ (SA)

  • আরএস (RS)

  • বিএস বা বিএআরএস (BS/BRS)

সব এলাকায় সব ধরনের রেকর্ড অনলাইনে পাওয়া যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। তাই জমির সংশ্লিষ্ট জরিপের তথ্য জানা থাকলে সেটি নির্বাচন করুন।

চতুর্থ ধাপ: প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে অনুসন্ধান করুন

খতিয়ান নম্বর জানা থাকলে সেটি দিয়ে খোঁজ করুন। নম্বর জানা না থাকলে পোর্টালে সেই বিকল্প থাকলে দাগ নম্বর বা মালিকের নাম দিয়েও অনুসন্ধান করতে পারেন।

পঞ্চম ধাপ: পাওয়া তথ্য মিলিয়ে দেখুন

অনুসন্ধানের পর পাওয়া রেকর্ডে মালিকের নাম, খতিয়ান নম্বর, দাগ নম্বর ও জমির পরিমাণ নিজের কাছে থাকা দলিল এবং অন্যান্য নথির সঙ্গে মিলিয়ে নিন। একই নামের একাধিক ব্যক্তি থাকতে পারেন। তাই শুধু নামের ওপর ভিত্তি করে জমির পরিচয় নিশ্চিত করা ঠিক নয়।

অনলাইনে খতিয়ান অনুসন্ধানের আগে নিচের তথ্যগুলো সংগ্রহ করে রাখলে সুবিধা হবে।

  • বিভাগ, জেলা ও উপজেলা বা থানার নাম

  • মৌজার নাম ও জানা থাকলে জে এল নম্বর

  • খতিয়ানের ধরন বা জরিপের নাম

  • খতিয়ান নম্বর, যদি জানা থাকে

  • দাগ নম্বর

  • আগের বা বর্তমান মালিকের নাম

সব তথ্য একসঙ্গে জানা না থাকলেও কিছু ক্ষেত্রে অনুসন্ধান করা সম্ভব। তবে সঠিক তথ্য যত বেশি থাকবে, কাঙ্ক্ষিত রেকর্ড খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনা তত বাড়বে।

খতিয়ানের তথ্য অনুসন্ধান এবং খতিয়ানের কপি সংগ্রহের খরচ এক বিষয় নয়। অনলাইনে তথ্য দেখা গেলেও অনলাইন কপি বা সার্টিফায়েড কপি সংগ্রহের জন্য নির্ধারিত সরকারি ফি প্রযোজ্য হতে পারে।

ফি ও আবেদনপ্রক্রিয়া পরিবর্তিত হতে পারে। তাই আবেদন করার সময় সরকারি পোর্টালে প্রদর্শিত সর্বশেষ ফি দেখে অর্থ পরিশোধ করুন। ডাকযোগে সার্টিফায়েড কপি নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ডাক মাশুলও যুক্ত হতে পারে।

কোনো ব্যক্তি বা মধ্যস্থতাকারীর কথায় অতিরিক্ত টাকা দেওয়ার আগে সরকারি নির্দেশনা যাচাই করুন।

অনলাইনে দেখা তথ্য বা সাধারণ কপি জমির রেকর্ড সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা পেতে এবং নিজের প্রয়োজনে তথ্য সংরক্ষণ করতে কাজে লাগে।

অন্যদিকে, সার্টিফায়েড কপি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রত্যয়িত অনুলিপি। আদালত, জমিসংক্রান্ত বিরোধ বা অন্য কোনো আনুষ্ঠানিক কাজে নথি জমা দেওয়ার প্রয়োজন হলে কোন ধরনের কপি গ্রহণযোগ্য, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে নিশ্চিত হওয়া উচিত।

অর্থাৎ, সাধারণ অনলাইন কপি এবং প্রত্যয়িত কপিকে একই ধরনের নথি ধরে নেওয়া ঠিক নয়।

সব তথ্য সঠিকভাবে দেওয়ার পরও কখনো কখনো কাঙ্ক্ষিত খতিয়ান পাওয়া যায় না। এমন হলে কয়েকটি বিষয় যাচাই করুন।

১. মৌজার নাম ও জে এল নম্বর সঠিকভাবে নির্বাচন করেছেন কি না দেখুন।

২. খতিয়ানের ধরন বা জরিপের নাম ঠিক আছে কি না যাচাই করুন।

৩. খতিয়ান নম্বর বা দাগ নম্বর লিখতে কোনো ভুল হয়েছে কি না দেখুন।

৪. পুরোনো ও পরবর্তী জরিপের রেকর্ডে পার্থক্য আছে কি না যাচাই করুন।

এরপরও রেকর্ড না পাওয়া গেলে জমিসংক্রান্ত দলিল ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক কাগজপত্র নিয়ে সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসে যোগাযোগ করুন। অনলাইনে তথ্য না পাওয়া মানেই জমির কোনো রেকর্ড নেই—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত নয়।

না। খতিয়ান জমির রেকর্ড যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ নথি হলেও শুধু খতিয়ানে নাম থাকাকে মালিকানার চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক নয়।

জমি কেনার আগে নিবন্ধিত দলিল, আগের মালিকদের কাছ থেকে মালিকানা হস্তান্তরের ধারাবাহিকতা, নামজারি, ভূমি উন্নয়ন করের তথ্য, প্রকৃত দখল এবং জমিসংক্রান্ত কোনো মামলা বা বিরোধ রয়েছে কি না—এসব বিষয়ও যাচাই করা প্রয়োজন।

একইভাবে, খসড়া রেকর্ড বা অসম্পূর্ণ তথ্যের ভিত্তিতে জমির মালিকানা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিস বা আইনজীবীর সহায়তা নিন।

জমির রেকর্ড অনুসন্ধান বা কপি সংগ্রহের সময় শুধু সরকারি ওয়েবসাইট ব্যবহার করুন। অচেনা লিংকে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য, আর্থিক তথ্য বা ব্যক্তিগত নথি জমা দেবেন না। কোনো ফি দেওয়ার আগে পোর্টালে প্রদর্শিত নির্দেশনা যাচাই করুন।

ভূমিসেবা সম্পর্কে সহায়তার জন্য সরকারি ভূমিসেবা হটলাইন ১৬১২২-এ যোগাযোগ করা যেতে পারে।

সব মিলিয়ে, ঘরে বসেই অনলাইনে জমির খতিয়ান দেখা সম্ভব হলেও রেকর্ডের তথ্য যাচাই করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী প্রত্যয়িত কপি সংগ্রহ করা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে জমি কেনাবেচার আগে খতিয়ানের পাশাপাশি দলিল ও মালিকানাসংক্রান্ত অন্যান্য নথিও পরীক্ষা করে নেওয়া উচিত।

সোহাগ/

আপনার জন্য নির্বাচিত নিউজ

ক্রিকেট

রেকর্ডে ভারতেরও ওপর উগান্ডা, ধারেকাছে নেই বাংলাদেশ

রেকর্ডে ভারতেরও ওপর উগান্ডা, ধারেকাছে নেই বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক: আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে মোট জয়ের সংখ্যায় সবার আগে ভারত। তবে জয়-হারের অনুপাতের হিসাবে দেশটিকেও ...

লিটন-মিরাজের শতরানের জুটিতে লাঞ্চের আগে বাংলাদেশের লিড ৪৪৩

লিটন-মিরাজের শতরানের জুটিতে লাঞ্চের আগে বাংলাদেশের লিড ৪৪৩

নিজস্ব প্রতিবেদক: আবুধাবিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে ব্যাট হাতে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন বাংলাদেশের লিটন দাস। ...

ফুটবল

ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে হঠাৎ বদলে গেল হিসাব, এগিয়ে হ্যারি কেইন

ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে হঠাৎ বদলে গেল হিসাব, এগিয়ে হ্যারি কেইন

নিজস্ব প্রতিবেদক: ব্যালন ডি’অর জয়ের দৌড়ে শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে উত্তেজনা। পুরস্কারটির সম্ভাব্য বিজয়ী নিয়ে ...

হ্যারি কেইনের ৭৩ গোল, প্রথম ব্যালন ডি’অর জয়ের পথে কতটা এগিয়ে

হ্যারি কেইনের ৭৩ গোল, প্রথম ব্যালন ডি’অর জয়ের পথে কতটা এগিয়ে

নিজস্ব প্রতিবেদক: ব্যালন ডি’অর জয়ের দৌড়ে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন ইংল্যান্ডের অধিনায়ক ও বায়ার্ন মিউনিখের ফরোয়ার্ড ...