পঞ্চগড়ে তাপমাত্রা ১৭.৪ ডিগ্রি
নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের উত্তরাঞ্চলে ধীরে ধীরে বদলাতে শুরু করেছে আবহাওয়া। ভোরের হালকা কুয়াশা, ঘাসের ডগায় জমে থাকা শিশির আর উত্তরের হিমেল বাতাস জানান দিচ্ছে শীতের আগমনী বার্তা। এরই মধ্যে পঞ্চগড়ে তাপমাত্রা নেমে এসেছে ১৭ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।
রোববার (২৫ অক্টোবর) ভোরে পঞ্চগড়ে এই সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় বলে জানিয়েছে তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র। তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায়ও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, আগের দিন পঞ্চগড়ে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩১ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ফলে দিনের গরম আর রাত-ভোরের ঠান্ডার মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। দিনের বেলায় রোদ থাকলেও মধ্যরাতের পর তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় ভোরে শীতের অনুভূতি বাড়ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, রাতের দিকে আবহাওয়া আগের তুলনায় ঠান্ডা হয়ে উঠছে। অনেকের আর রাতে ফ্যান চালানোর প্রয়োজন হচ্ছে না। মধ্যরাতের পর হালকা কাঁথা বা পাতলা কম্বল গায়ে দিতে হচ্ছে। ভোরে উত্তরের বাতাসে ঠান্ডা আরও বেশি অনুভূত হচ্ছে।
শীতের এই পরিবর্তন চোখে পড়ছে কর্মজীবী মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও। ভোরে কুয়াশা ও শিশিরের মধ্যে পাথরশ্রমিকদের নদীতে কাজে নামতে দেখা যাচ্ছে। চা-শ্রমিকেরাও শিশিরভেজা চা-পাতা সংগ্রহ করছেন হালকা গরম কাপড় গায়ে জড়িয়ে।
রংপুর আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মোস্তাফিজুর রহমানের ভাষ্য অনুযায়ী, মৌসুমি বায়ুর নিষ্ক্রিয়তার কারণে উত্তরাঞ্চলে শীতের আবহ তৈরি হচ্ছে। ভোরে কুয়াশা দেখা দিলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা কেটে যাচ্ছে।
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সামনে তাপমাত্রা ধীরে ধীরে কমতে পারে। তবে কোথায় কতটা তাপমাত্রা কমবে, তা জানতে নিয়মিত আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুসরণ করা প্রয়োজন।
উত্তরাঞ্চলের চরাঞ্চলেও শীতের আগমনী প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এই অঞ্চলের ৭৮০টি চরের বাসিন্দারা শীত মোকাবিলার প্রস্তুতি নিয়ে চিন্তিত। তাঁদের আশঙ্কা, শীতের তীব্রতা বাড়লে দরিদ্র পরিবারগুলোর দুর্ভোগও বাড়তে পারে।
চর ইচলির বাসিন্দা ওমর ফারুক জানান, সন্ধ্যা থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত ঠান্ডা বেশি অনুভূত হচ্ছে। রাতে কম্বল ব্যবহার করতে হচ্ছে। লালমনিরহাটের চরাঞ্চলের বাসিন্দারাও মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত ঠান্ডা বাড়ার কথা জানিয়েছেন।
লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক রাশেদুল হক প্রধান জানিয়েছেন, শীত মোকাবিলায় প্রশাসনের প্রস্তুতি রয়েছে। এ জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় তালিকা তৈরি করতে বলা হয়েছে।
পঞ্চগড়ে তাপমাত্রা ১৭ দশমিক ৪ ডিগ্রিতে নেমে আসা উত্তরাঞ্চলে শীতের আগমনী ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা এখনো ৩০ ডিগ্রির ওপরে থাকায় দিন ও রাতের আবহাওয়ায় পার্থক্য রয়ে গেছে।
তাই আপাতত ভোর ও রাতের ঠান্ডা বাড়লেও পুরোপুরি শীত জেঁকে বসেছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে পরবর্তী কয়েক দিনের তাপমাত্রা ও আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেখা জরুরি। বিশেষ করে চরাঞ্চলের বাসিন্দা, শিশু, বয়স্ক মানুষ ও বাইরে কাজ করা শ্রমজীবীদের রাত-ভোরের ঠান্ডায় সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
সোহাগ/
