বডিবিল্ডিং কি ইসলামে জায়েজ
নিজস্ব প্রতিবেদক: শরীর সুস্থ রাখা, পেশি গঠন ও শারীরিক সক্ষমতা বাড়াতে অনেকেই নিয়মিত জিম করেন। পেশিবহুল শরীর তৈরির জন্য কেউ কেউ স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি খাবারও গ্রহণ করেন, যা বডিবিল্ডিংয়ের ভাষায় ‘বাল্কিং’ নামে পরিচিত। তবে জিমে ব্যায়াম করা, পেশি বাড়াতে অতিরিক্ত খাবার খাওয়া কিংবা শরীর প্রদর্শনের বিষয়ে ইসলামের বিধান কী?
এ বিষয়ে ইসলামি আলোচক শায়খ আসিম আল হাকিমের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, পেশিবহুল শরীর গঠনের উদ্দেশ্যে অতিরিক্ত খাবার গ্রহণ এবং জিমে শরীরচর্চা করার বিধান কী।
শায়খ আসিম আল হাকিমের বক্তব্য অনুযায়ী, খাবার গ্রহণের ক্ষেত্রে ইসলামের মূল শিক্ষার একটি হলো পরিমিতিবোধ বজায় রাখা। এ প্রসঙ্গে তিনি পেটের একাংশ খাবার, একাংশ পানীয় এবং বাকি অংশ শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য খালি রাখার নীতির কথা উল্লেখ করেন।
তবে এর অর্থ এই নয় যে, কোনো ব্যক্তি মাঝেমধ্যে পেট ভরে খেতে পারবেন না। তাঁর ব্যাখ্যায়, বিশেষ পরিস্থিতিতে তৃপ্তি সহকারে খাবার গ্রহণ করা বৈধ হতে পারে। এ প্রসঙ্গে তিনি হজরত আবু হুরায়রা (রা.)-এর দুধ পানসংক্রান্ত একটি প্রসিদ্ধ হাদিসের উদাহরণ তুলে ধরেন।
বডিবিল্ডিংয়ের ক্ষেত্রে পেশি বাড়াতে পরিকল্পিতভাবে খাবার গ্রহণ করা হয়। এ বিষয়ে শায়খ আসিম আল হাকিমের বক্তব্য হলো, ক্ষতিকর স্টেরয়েড, নিষিদ্ধ হরমোনজাতীয় ওষুধ কিংবা হারাম উপাদান ব্যবহার না করে শরীরচর্চা ও জিমে ব্যায়াম করা মূলত জায়েজ।
অর্থাৎ, শুধু পেশি গঠন বা শারীরিক সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে ব্যায়াম করাকে তিনি নিষিদ্ধ বলেননি। তবে অতিরিক্ত খাবার গ্রহণের ক্ষেত্রেও পরিমিতিবোধ, স্বাস্থ্যের প্রতি দায়িত্বশীলতা এবং শরীরের ক্ষতি এড়িয়ে চলার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।
শায়খ আসিম আল হাকিমের ব্যাখ্যায়, শরীরচর্চা যদি চরম আসক্তি, অহংকার কিংবা লোকদেখানোর মাধ্যম হয়ে ওঠে, তাহলে তা ধর্মীয়ভাবে আপত্তিকর হতে পারে।
বিশেষ করে সতর অনাবৃত করে শরীর প্রদর্শন, অনুচিত উদ্দেশ্যে পেশি দেখানো কিংবা অন্যকে প্রভাবিত করার জন্য অহংকারপূর্ণ আচরণের বিষয়ে তিনি সতর্ক করেছেন। তাঁর মতে, নিয়ত ও আচরণ গুরুত্বপূর্ণ; শরীরচর্চার উদ্দেশ্য যদি অসৎ হয়, তাহলে সেই কাজের ধর্মীয় মূল্যায়নও বদলে যেতে পারে।
শায়খ আসিম আল হাকিমের বক্তব্যের আলোকে কয়েকটি বিষয় বিবেচনায় রাখা যায়—
-
শরীর সুস্থ রাখা ও শারীরিক সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে ব্যায়াম করা।
-
ক্ষতিকর স্টেরয়েড, নিষিদ্ধ ওষুধ বা হারাম উপাদান এড়িয়ে চলা।
-
খাবার গ্রহণে পরিমিতিবোধ বজায় রাখা এবং স্বাস্থ্যের ক্ষতি হয় এমন অভ্যাস পরিহার করা।
-
সতর, শালীনতা ও ধর্মীয় সীমারেখা রক্ষা করা।
-
অহংকার, লোকদেখানো মানসিকতা ও অনুচিত উদ্দেশ্য থেকে দূরে থাকা।
সব মিলিয়ে, শায়খ আসিম আল হাকিমের বক্তব্যে বডিবিল্ডিংয়ের ক্ষেত্রে শরীরচর্চার পাশাপাশি নিয়ত, খাবারের পরিমিতি, ব্যবহৃত উপাদান এবং আচরণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে কোনো কাজের শরয়ি বিধান জানতে হলে যোগ্য আলেমের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
আশা/
