| ঢাকা, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩

পুরুষের বন্ধ্যত্বের পূর্বে শরীরে যে ৬ সংকেত দেয়

স্বাস্থ্য ডেস্ক . বিনোদন৬৯.কম
২০২৬ অক্টোবর ২৪ ১৭:৫৭:০১
পুরুষের বন্ধ্যত্বের পূর্বে শরীরে যে ৬ সংকেত দেয়

নিজস্ব প্রতিবেদক: পুরুষের বন্ধ্যত্ব অনেক সময় নীরবে বিকশিত হয়। বাইরে থেকে শরীরে কোনো সমস্যা বোঝা না গেলেও শুক্রাণুর সংখ্যা, গতি বা গুণগত মানে সমস্যা থাকতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে সন্তান ধারণে সমস্যা হওয়ার পর পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে বিষয়টি শনাক্ত হয়। তবে কিছু শারীরিক পরিবর্তন পুরুষের প্রজননস্বাস্থ্যে সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যৌন ইচ্ছা কমে যাওয়া, উত্থান বা বীর্যপাতের সমস্যা এবং অণ্ডকোষে ব্যথা বা ফোলাভাবের মতো লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। তবে এসব লক্ষণ থাকলেই যে বন্ধ্যত্ব হয়েছে, তা নয়। সঠিক কারণ জানতে প্রয়োজন চিকিৎসা মূল্যায়ন ও উপযুক্ত পরীক্ষা।

পুরুষের বন্ধ্যত্বের ৬টি সম্ভাব্য লক্ষণ

১. যৌন ইচ্ছা কমে যাওয়া

যৌন ইচ্ছা আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেলে এর পেছনে হরমোনের পরিবর্তন, মানসিক চাপ, কিছু ওষুধের প্রভাব বা অন্য শারীরিক কারণ থাকতে পারে। টেস্টোস্টেরন হরমোনের মাত্রা কমে গেলেও এমন সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে শুধু যৌন ইচ্ছা কমে যাওয়াকে বন্ধ্যত্বের নিশ্চিত লক্ষণ বলা যায় না।

২. উত্থানের সমস্যা

যৌনমিলনের জন্য লিঙ্গের উত্থান হওয়া বা তা বজায় রাখতে অসুবিধা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। ডায়াবেটিস, রক্তনালির সমস্যা, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা, মানসিক চাপসহ বিভিন্ন কারণে এ সমস্যা হতে পারে। উত্থানের সমস্যা ও বন্ধ্যত্ব এক বিষয় নয়, তবে কিছু ক্ষেত্রে দুটির পেছনে একই স্বাস্থ্যগত কারণ থাকতে পারে।

৩. বীর্যপাতের সমস্যা

বীর্যপাত হতে দেরি হওয়া, একেবারেই বীর্যপাত না হওয়া কিংবা বীর্য মূত্রথলির দিকে চলে যাওয়ার মতো সমস্যা প্রজননক্ষমতায় প্রভাব ফেলতে পারে। এসব ক্ষেত্রে সমস্যার ধরন ও কারণ নির্ণয় করা জরুরি। প্রয়োজনে চিকিৎসক বীর্য পরীক্ষা ও অন্যান্য পরীক্ষা করাতে পারেন।

৪. অণ্ডকোষে ব্যথা বা ফোলাভাব

অণ্ডকোষে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা, ফোলাভাব বা অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে অবহেলা করা উচিত নয়। সংক্রমণ, ভেরিকোসিলসহ বিভিন্ন কারণে এমন হতে পারে। কিছু সমস্যা শুক্রাণু উৎপাদন বা প্রজননক্ষমতায় প্রভাব ফেলতে পারে।

অণ্ডকোষে হঠাৎ তীব্র ব্যথা হলে জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে। এ ধরনের ব্যথা অণ্ডকোষ পেঁচিয়ে যাওয়ার মতো জরুরি সমস্যার লক্ষণও হতে পারে।

৫. হরমোনজনিত শারীরিক পরিবর্তন

হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হলে যৌন ইচ্ছা কমে যাওয়া, পেশির পরিমাণ কমে যাওয়া, স্তনের টিস্যু বৃদ্ধি বা অন্যান্য শারীরিক পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। কিছু হরমোন শুক্রাণু উৎপাদন নিয়ন্ত্রণ করে। তাই এমন পরিবর্তন দেখা দিলে চিকিৎসক প্রয়োজন অনুযায়ী হরমোন পরীক্ষা করতে পারেন।

৬. মুখ বা শরীরের লোম কমে যাওয়া

মুখে বা শরীরে লোমের ঘনত্ব কমে যাওয়ার সঙ্গে কখনো হরমোনজনিত সমস্যার সম্পর্ক থাকতে পারে। তবে বয়স, বংশগত বৈশিষ্ট্য ও অন্যান্য কারণেও লোমের পরিমাণে পার্থক্য হয়। শুধু লোম কমে যাওয়ার ভিত্তিতে বন্ধ্যত্ব নির্ণয় করা যায় না।

পুরুষের বন্ধ্যত্ব কীভাবে নির্ণয় করা হয়?

বন্ধ্যত্বের কারণ জানতে চিকিৎসক রোগীর স্বাস্থ্য-ইতিহাস, শারীরিক অবস্থা ও সন্তান ধারণের চেষ্টার সময়কাল বিবেচনা করেন। প্রয়োজন অনুযায়ী কয়েক ধরনের পরীক্ষা করা হতে পারে।

বীর্য পরীক্ষা: শুক্রাণুর সংখ্যা, চলাচল, আকৃতি এবং বীর্যের অন্যান্য বৈশিষ্ট্য যাচাই করা হয়। পুরুষের প্রজননক্ষমতা মূল্যায়নে এটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।

রক্ত পরীক্ষা: টেস্টোস্টেরনসহ প্রয়োজনীয় হরমোনের মাত্রা পরীক্ষা করে সম্ভাব্য হরমোনজনিত সমস্যা শনাক্ত করা হয়।

আলট্রাসনোগ্রাফি: অণ্ডকোষ বা প্রজননতন্ত্রের নির্দিষ্ট সমস্যা সন্দেহ হলে আলট্রাসনোগ্রাফি করা হতে পারে। ভেরিকোসিলের মতো সমস্যাও মূল্যায়ন করা যায়।

জিনগত পরীক্ষা: শুক্রাণুর সংখ্যা অত্যন্ত কম থাকা বা নির্দিষ্ট জিনগত সমস্যার সন্দেহ হলে চিকিৎসক বিশেষ পরিস্থিতিতে এই পরীক্ষা দিতে পারেন।

সব রোগীর সব পরীক্ষা প্রয়োজন হয় না। লক্ষণ, শারীরিক পরীক্ষা ও প্রাথমিক ফলাফলের ভিত্তিতে চিকিৎসক সিদ্ধান্ত নেন।

কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?

নিচের পরিস্থিতিগুলোতে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত:

নিয়মিত অসুরক্ষিত যৌনসম্পর্কের পরও এক বছর সন্তান না এলে।

সঙ্গীর বয়স ৩৫ বছর বা তার বেশি হলে ছয় মাস চেষ্টা করেও সন্তান না এলে মূল্যায়ন শুরু করা ভালো।

অণ্ডকোষে ব্যথা, ফোলাভাব বা অন্য অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে।

উত্থান বা বীর্যপাতের সমস্যা হলে।

আগে অণ্ডকোষে আঘাত, অস্ত্রোপচার বা ক্যানসারের চিকিৎসা হয়ে থাকলে এবং প্রজননক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ থাকলে।

কিছু ক্ষেত্রে অপেক্ষা না করে আগেই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন হতে পারে।

পুরুষের বন্ধ্যত্ব মানেই কি সন্তান হওয়া অসম্ভব?

না। বন্ধ্যত্বের কারণ ও মাত্রা অনুযায়ী চিকিৎসার সুযোগ ভিন্ন হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে জীবনযাপনে পরিবর্তন, নির্দিষ্ট রোগের চিকিৎসা বা ওষুধের মাধ্যমে উপকার পাওয়া যায়। আবার কিছু ক্ষেত্রে প্রজনন-সহায়ক চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নিজে থেকে রোগ নির্ণয় না করে সঠিক পরীক্ষা করানো। প্রয়োজন হলে ইউরোলজিস্ট বা পুরুষের প্রজননস্বাস্থ্য বিষয়ে অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। সন্তান ধারণে সমস্যা হলে নারী ও পুরুষ—দুজনেরই মূল্যায়ন করা গুরুত্বপূর্ণ।

আশা/

আপনার জন্য নির্বাচিত নিউজ

ক্রিকেট

১৬ ডিসেম্বর হতে পারে আইপিএলের নিলাম, কোথায় হবে আয়োজন

১৬ ডিসেম্বর হতে পারে আইপিএলের নিলাম, কোথায় হবে আয়োজন

নিজস্ব প্রতিবেদক: ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) ২০২৭ মৌসুমের মিনি নিলাম আগামী ১৬ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হতে ...

লিটন-মিরাজের শতরানের জুটিতে লাঞ্চের আগে বাংলাদেশের লিড ৪৪৩

লিটন-মিরাজের শতরানের জুটিতে লাঞ্চের আগে বাংলাদেশের লিড ৪৪৩

নিজস্ব প্রতিবেদক: আবুধাবিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে ব্যাট হাতে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন বাংলাদেশের লিটন দাস। ...

ফুটবল

রোনান সুলিভানকে নিয়ে সাফের প্রাথমিক দল বাংলাদেশের

রোনান সুলিভানকে নিয়ে সাফের প্রাথমিক দল বাংলাদেশের

নিজস্ব প্রতিবেদক: সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ সামনে রেখে ২৮ সদস্যের প্রাথমিক দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ফুটবল ...

হ্যারি কেইনের ৭৩ গোল, প্রথম ব্যালন ডি’অর জয়ের পথে কতটা এগিয়ে

হ্যারি কেইনের ৭৩ গোল, প্রথম ব্যালন ডি’অর জয়ের পথে কতটা এগিয়ে

নিজস্ব প্রতিবেদক: ব্যালন ডি’অর জয়ের দৌড়ে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন ইংল্যান্ডের অধিনায়ক ও বায়ার্ন মিউনিখের ফরোয়ার্ড ...