শিশুর রাগ ও জেদ সামলানোর ৫টি কার্যকর উপায়
নিজস্ব প্রতিবেদক: শিশুর হঠাৎ রেগে যাওয়া, কান্না বা জেদ করা অনেক মা-বাবার জন্যই দুশ্চিন্তার কারণ। তবে সব সময় এসব আচরণ ইচ্ছাকৃত অবাধ্যতার প্রকাশ নয়। ক্ষুধা, ঘুমের অভাব, ক্লান্তি কিংবা নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে না পারার কারণেও শিশু রেগে যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আবেগ নিয়ন্ত্রণ একটি শেখার প্রক্রিয়া। বয়স ও মস্তিষ্কের বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে শিশুরা ধীরে ধীরে নিজের রাগ ও হতাশা সামলাতে শেখে। এ ক্ষেত্রে মা-বাবার ধৈর্যশীল আচরণ গুরুত্বপূর্ণ।
শিশুর রাগ সামলাতে ৫টি করণীয়
১. নিজে শান্ত থাকুন: শিশু চিৎকার করলে পাল্টা চিৎকার না করে গলার স্বর নিচু রাখুন। আপনার শান্ত আচরণ তাকে নিরাপদ বোধ করতে সাহায্য করতে পারে।
২. রাগের কারণ বোঝার চেষ্টা করুন: শিশুর ক্ষুধা, ঘুম, ক্লান্তি কিংবা হতাশা আছে কি না খেয়াল করুন। তার অনুভূতিকে গুরুত্ব দিন।
৩. নিয়মে দৃঢ় থাকুন: শিশুর সব দাবি মেনে নেওয়া জরুরি নয়। তবে বকাঝকা, অপমান বা শারীরিক শাস্তি না দিয়ে কোমলভাবে নিয়ম বোঝান।
৪. শান্ত হওয়ার সময় দিন: শিশু খুব উত্তেজিত থাকলে দীর্ঘ উপদেশ না দিয়ে তাকে কিছুটা সময় দিন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে কী ঘটেছে, তা নিয়ে কথা বলুন।
৫. ভালো আচরণের প্রশংসা করুন: রেগে গিয়েও শিশু যখন মারামারি না করে নিজের কথা বলতে পারে, তখন তার প্রশংসা করুন। এতে আত্মনিয়ন্ত্রণের দক্ষতা বাড়াতে উৎসাহ পাবে।
কখন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেবেন?
শিশুর রাগ বা কান্না খুব ঘন ঘন হলে, দীর্ঘ সময় ধরে চললে, দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত করলে কিংবা নিজের বা অন্যের নিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরি করলে শিশুবিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া ভালো। ঘুম, খাওয়া, মনোযোগ বা আচরণে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা দিলেও বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
শুধু রাগ বা জেদ দেখে কোনো রোগ নির্ণয় করা যায় না। প্রয়োজন হলে চিকিৎসক শিশুর শারীরিক ও বিকাশগত অবস্থা মূল্যায়ন করে পরবর্তী করণীয় জানাতে পারেন।
শিশুর রাগ জোর করে বন্ধ করানোর চেয়ে তাকে নিজের অনুভূতি বুঝতে ও নিরাপদভাবে প্রকাশ করতে শেখানো বেশি জরুরি। ধৈর্য, নিয়মিত অনুশীলন এবং ভালোবাসাপূর্ণ যত্ন শিশুকে ধীরে ধীরে আবেগ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে।
সিদ্দিকা/
