যে ভিটামিনের অভাবে সারাদিন অতিরিক্ত ঘুম পায়
নিজস্ব প্রতিবেদক: সারারাত ঘুমানোর পরও সকালে ঘুম ঘুম ভাব, সারাদিন ক্লান্তি কিংবা কাজের ফাঁকে বারবার চোখ বন্ধ হয়ে আসা, এমন সমস্যায় ভোগেন অনেকে। পর্যাপ্ত বিশ্রামের পরও যদি শরীরে শক্তি না পাওয়া যায়, তাহলে এর পেছনে পুষ্টির ঘাটতিসহ বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। এর মধ্যে অন্যতম হলো ভিটামিন বি১২-এর অভাব।
ভিটামিন বি১২ শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি পুষ্টি উপাদান। এটি লোহিত রক্তকণিকা তৈরি, ডিএনএ সংশ্লেষণ এবং স্নায়ুতন্ত্রের সুস্থতা বজায় রাখতে ভূমিকা রাখে। শরীরে এই ভিটামিনের ঘাটতি হলে ক্লান্তি, দুর্বলতা এবং কিছু ক্ষেত্রে মনোযোগের সমস্যাও দেখা দিতে পারে।
তবে অতিরিক্ত ঘুম পেলেই যে শরীরে ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতি রয়েছে, এমন নয়। ঘুমের সমস্যা, রক্তস্বল্পতা, থাইরয়েডের সমস্যা কিংবা অন্যান্য শারীরিক কারণেও এমন হতে পারে।
শরীরে দীর্ঘদিন ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতি থাকলে বিভিন্ন ধরনের উপসর্গ দেখা দিতে পারে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
- পর্যাপ্ত ঘুমের পরও ক্লান্তি ও দুর্বলতা অনুভব করা।
- দৈনন্দিন কাজে শক্তি কম পাওয়া।
- মাথা ঘোরা বা শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা দেওয়া, বিশেষ করে রক্তস্বল্পতা থাকলে।
- মনোযোগ ধরে রাখতে অসুবিধা হওয়া।
- হাত-পায়ে ঝিনঝিন করা বা অবশ ভাব অনুভব করা।
সবার ক্ষেত্রে একই লক্ষণ দেখা যায় না। কারও কারও ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ঘাটতি থাকার পরও প্রাথমিক উপসর্গ স্পষ্ট নাও হতে পারে।
ভিটামিন বি১২ শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজে অংশ নেয়। লোহিত রক্তকণিকা তৈরিতে এর ভূমিকা রয়েছে। এই রক্তকণিকাগুলো শরীরের বিভিন্ন অংশে অক্সিজেন পৌঁছে দিতে সাহায্য করে।
ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতি হলে এক ধরনের রক্তস্বল্পতা দেখা দিতে পারে। এর ফলে দুর্বলতা, ক্লান্তি এবং শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যা হতে পারে। একই সঙ্গে স্নায়ুতন্ত্রেও প্রভাব পড়তে পারে।
এ কারণে দীর্ঘদিন ধরে অস্বাভাবিক ক্লান্তি বা দুর্বলতা থাকলে বিষয়টি অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
ভিটামিন বি১২ প্রাকৃতিকভাবে প্রধানত প্রাণিজ খাবারে পাওয়া যায়। নিয়মিত খাদ্যতালিকায় এসব খাবার রাখা যেতে পারে।
ভিটামিন বি১২-এর উল্লেখযোগ্য খাদ্য উৎস হলো:
- মাছ, বিশেষ করে সামুদ্রিক মাছ।
- মাংস ও কলিজা।
- ডিম।
- দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার।
- ভিটামিন বি১২ সমৃদ্ধ কিছু ফোর্টিফায়েড খাবার।
যারা নিরামিষ খাবার খান, তাদের খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত বি১২ নিশ্চিত করা কঠিন হতে পারে। সে ক্ষেত্রে ভিটামিন বি১২ সমৃদ্ধ খাবার বা প্রয়োজন অনুযায়ী সাপ্লিমেন্ট সম্পর্কে চিকিৎসক কিংবা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।
সারাদিন ঘুম ঘুম ভাবের কারণ শুধু ভিটামিনের ঘাটতি নয়। পর্যাপ্ত ও মানসম্মত ঘুম না হওয়া, স্লিপ অ্যাপনিয়া, রক্তস্বল্পতা, থাইরয়েডের সমস্যা, কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এবং অন্যান্য শারীরিক সমস্যাও এর সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।
তাই নিজের উপসর্গ দেখে নিজে থেকেই ভিটামিনের ঘাটতি নির্ধারণ করা ঠিক নয়। প্রয়োজনে চিকিৎসক উপসর্গ ও শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে রক্ত পরীক্ষার পরামর্শ দিতে পারেন।
পর্যাপ্ত ঘুমানোর পরও যদি দীর্ঘদিন ক্লান্তি থাকে, দিনের বেলায় বারবার ঘুমিয়ে পড়েন কিংবা দুর্বলতার কারণে স্বাভাবিক কাজ ব্যাহত হয়, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। হাত-পায়ে ঝিনঝিন করা, অস্বাভাবিক ফ্যাকাশে ভাব বা শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ থাকলেও পরীক্ষা করানো গুরুত্বপূর্ণ।
মনে রাখবেন, অতিরিক্ত ঘুম বা ক্লান্তি কোনো একটি ভিটামিনের ঘাটতির নিশ্চিত প্রমাণ নয়। সঠিক কারণ শনাক্ত করে প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা নেওয়া এবং সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখাই সুস্থ থাকার ভালো উপায়।
সোহাগ/
