ব্রাজিল-উরুগুয়ের ম্যাচের পারিশ্রমিক দিতে পারছে না ভারত
নিজস্ব প্রতিবেদক: বিশ্ব ফুটবলের দুই শক্তিশালী দল ব্রাজিল ও উরুগুয়েকে ভারতে আমন্ত্রণ জানিয়ে প্রীতি ম্যাচ আয়োজন করেছিল অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশন (এআইএফএফ)। কিন্তু ম্যাচ শেষ হওয়ার পরও দুই দলের পুরো পারিশ্রমিক পরিশোধ করতে পারেনি ভারতীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। এখনো বকেয়া রয়েছে বিপুল পরিমাণ অর্থ। তা পরিশোধ করতে গিয়ে আর্থিক জটিলতায় পড়েছে এআইএফএফ।
গত ৩ ও ৬ অক্টোবর ব্রাজিল ও উরুগুয়ের বিপক্ষে দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলে ভারত। কলকাতায় অনুষ্ঠিত ম্যাচ দুটিতে স্বাগতিকদের পারফরম্যান্সও ছিল হতাশাজনক। ব্রাজিলের কাছে ৩-০ গোলে এবং উরুগুয়ের কাছে ৬-১ গোলে হারে ভারত। এর বাইরে বেঙ্গালুরুতে পানামার বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করে দলটি।
তবে ম্যাচ আয়োজনের পর নতুন করে আলোচনায় এসেছে দুই অতিথি দলের পাওনা অর্থ। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্রাজিল ও উরুগুয়ে এখন পর্যন্ত তাদের নির্ধারিত ম্যাচ ফির মাত্র অর্ধেক পেয়েছে। অন্যদিকে পানামা তাদের পুরো পারিশ্রমিক বুঝে পেয়েছে।
বকেয়া পরিশোধে এফডিআর ভাঙানোর উদ্যোগ
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার সাংবাদিক মার্কাস মারগুলহাওর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্রাজিল ও উরুগুয়ের বকেয়া অর্থ পরিশোধের জন্য এআইএফএফের সভাপতি কল্যাণ চৌবে ২০ কোটি রুপির একটি নির্দিষ্ট মেয়াদি আমানত (এফডিআর) ভাঙানোর প্রস্তাব দিয়েছিলেন।
তবে ফেডারেশনের সাধারণ পরিষদের সদস্যদের আপত্তিতে সেই উদ্যোগ আটকে যায়। তাঁদের যুক্তি, এফডিআরে রাখা অর্থ জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ব্যবহার করা উচিত নয়।
সভায় এআইএফএফের সহসভাপতি এনএ হারিসও আগের একটি সিদ্ধান্তের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এর আগে নির্বাহী কমিটি এফডিআর থেকে অর্থ না তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।
ব্রাজিলের কাছে প্রায় ১৯ কোটি, উরুগুয়ের পাওনা ৪ কোটি ৭০ লাখ রুপি
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্রাজিলের কাছে এআইএফএফের বকেয়া রয়েছে প্রায় ১৯ কোটি রুপি। আর উরুগুয়ের পাওনা প্রায় ৪ কোটি ৭০ লাখ রুপি। দুই দলের পাওনা পরিশোধের জন্য ফেডারেশন সময় বাড়ানোর আবেদন করেছে বলে জানা গেছে।
দুই দলের বকেয়া অর্থের পরিমাণই ভারতীয় ফুটবল সংস্থার ওপর বড় আর্থিক চাপ তৈরি করেছে। ম্যাচ আয়োজনের আগে যে পরিমাণ আয় হবে বলে আশা করা হয়েছিল, বাস্তবে তা পূরণ হয়নি।
টিকিট বিক্রি কম হওয়ায় বাড়ে আর্থিক চাপ
ব্রাজিল ও উরুগুয়ের মতো বিশ্বকাপজয়ী দলকে সামনে পেয়ে টিকিট বিক্রি থেকে বড় অঙ্কের আয় আশা করেছিল এআইএফএফ। ফেডারেশনের লক্ষ্য ছিল টিকিট বিক্রি করে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ কোটি রুপি আয় করা। কিন্তু প্রত্যাশা অনুযায়ী টিকিট বিক্রি হয়নি।
টিকিটের দাম বেশি হওয়ায় দর্শকদের আগ্রহে ভাটা পড়ে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে কলকাতার তিন ক্লাব মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট, ইস্টবেঙ্গল ও মোহামেডান স্পোর্টিংয়ের সমর্থকদের জন্য ছাড়ে টিকিট বিক্রি করা হয়।
এমনকি ব্রাজিলের ম্যাচের টিকিট বিক্রিতে ‘একটি কিনলে একটি বিনামূল্যে’ প্রচারণাও চালানো হয়েছিল। তারপরও প্রত্যাশিত আয় করতে পারেনি ফেডারেশন।
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে টিকিট বিক্রির অংশীদারের কাছ থেকে অগ্রিম হিসেবে পাওয়া ২৫ কোটি রুপির অর্থের বিষয়টি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই অর্থের একটি অংশ ফেরত দিতে হতে পারে এআইএফএফকে।
ব্রাজিলের দলে ছিলেন ভিনিসিয়ুস, মারকিনিয়োস ও এস্তেভাও
ভারতে ব্রাজিলের সফর ঘিরে দর্শকদের আগ্রহের অন্যতম কারণ ছিল দলটির তারকাসমৃদ্ধ স্কোয়াড। দলে ছিলেন রিয়াল মাদ্রিদের ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, আর্সেনালের গ্যাব্রিয়েল মাগালহায়েস, পিএসজির মারকিনিয়োস এবং চেলসির এস্তেভাওয়ের মতো পরিচিত ফুটবলাররা।
এত বড় তারকাদের উপস্থিতি সত্ত্বেও টিকিট বিক্রি থেকে প্রত্যাশিত আয় করতে পারেনি আয়োজক সংস্থা। ফলে ম্যাচ আয়োজনের পর এখন ব্রাজিল ও উরুগুয়ের বকেয়া পারিশ্রমিক পরিশোধ করাই এআইএফএফের বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্ব ফুটবলের দুই শক্তিশালী দলকে আমন্ত্রণ জানিয়ে ম্যাচ আয়োজন করলেও আর্থিক পরিকল্পনায় ঘাটতির কারণে এখন বকেয়া পরিশোধ নিয়ে সংকটে পড়েছে ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন।
আয়শা/
