| ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩

যেভাবে অজান্তেই আপনার বয়স বেড়ে যাচ্ছে

লাইফ স্টাইল ডেস্ক . বিনোদন৬৯.কম
২০২৬ এপ্রিল ১৫ ১০:০৭:০৪
যেভাবে অজান্তেই আপনার বয়স বেড়ে যাচ্ছে

লাইফস্টাইল ডেস্ক: বর্তমান যুগে আমাদের দিনের একটি বড় অংশ কাটে স্মার্টফোনের স্ক্রিনে। রিলস দেখা, পডকাস্ট শোনা কিংবা প্রিয়জনের সাথে চ্যাটিং—সবই বিনোদন মনে হলেও এর আড়ালে লুকিয়ে আছে এক ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকি। সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম কেবল চোখের ক্ষতিই করছে না, বরং আপনার মস্তিষ্কের বয়স বাড়িয়ে দিচ্ছে এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে।

নীল আলোর মরণকামড়:

স্মার্টফোন বা ল্যাপটপের এলইডি স্ক্রিন থেকে নির্গত নীল আলো আমাদের শরীরে মেলানিন হরমোন উৎপাদনে বাধা দেয়, যা মূলত ঘুমের সংকেত পাঠায়। এই আলো মস্তিষ্কের নিউরনের ডেনড্রাইটিক স্পাইন বা স্মৃতি জমানোর কোষগুলোকে শুকিয়ে ফেলে। ফলে মানুষের শেখার ও মনে রাখার ক্ষমতা দ্রুত হ্রাস পায়। রাতে দীর্ঘসময় ফোন ব্যবহারের ফলে শরীরে প্রদাহ বা ইনফ্লামেশন বেড়ে যায়, যা মেজাজ খিটখিটে হওয়া এবং বিষণ্ণতার অন্যতম কারণ।

পাকস্থলী ও মানসিক স্বাস্থ্যের যোগসূত্র:

২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও আয়ারল্যান্ডের গবেষকদের পৃথক গবেষণায় এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। অতিরিক্ত ফোন আসক্তির ফলে পাকস্থলীর উপকারী ব্যাকটেরিয়া বা মাইক্রোবায়োম ধ্বংস হয়ে যায়। আমাদের শরীরের ৯০ শতাংশ ‘সুখ হরমোন’ বা সেরোটোনিন পাকস্থলীতে তৈরি হয়। ফোনের কারণে ঘুমের অভাব হলে পাকস্থলীর এই ভারসাম্য নষ্ট হয়, যা সরাসরি মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটায়। বিশেষজ্ঞরা এই অবস্থাকে ডিজিটাল ওবেসিটি বা ডিজিটাল স্থূলতা বলছেন।

প্রদাহজনিত বার্ধক্য ও ডিমেনশিয়া:

স্ক্রিন স্ট্রেসের কারণে মস্তিষ্কে দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহ তৈরি হয়, যাকে বিজ্ঞানীরা প্রদাহজনিত বার্ধক্য বলছেন। কৃত্রিম আলোর প্রভাবে পাকস্থলীর দেয়াল পাতলা হয়ে ক্ষতিকর প্রোটিন রক্তে মিশে মস্তিষ্কে পৌঁছায়। এটি ভবিষ্যতে আলঝেইমারস বা ডিমেনশিয়ার মতো কঠিন রোগের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। এছাড়া ফোনের প্রতিটি নোটিফিকেশন আমাদের মস্তিষ্কে মাদকের মতো ডোপামিন আসক্তি তৈরি করে।

মুক্তির উপায় কী?

বিজ্ঞানীরা বলছেন, জীবনযাত্রায় সামান্য পরিবর্তন আনলে এই ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। এ জন্য যা করা জরুরি:

১. ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে সব ধরনের ডিজিটাল স্ক্রিন থেকে দূরে থাকতে হবে।

২. বেলা ৩টার পর চা বা কফি এড়িয়ে চলা ভালো।

৩. প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানোর এবং ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস করতে হবে।

৪. দিনের বেলা পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক আলোতে সময় কাটানো এবং স্ক্রিন ব্রেক নেওয়া জরুরি।

মনে রাখবেন, প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার যেমন জীবনকে সহজ করে, তেমনি এর অতিরিক্ত আসক্তি আমাদের জৈবিক ঘড়িকে অকেজো করে অকাল বার্ধক্যের পথে নিয়ে যায়।

আশা/

আপনার জন্য নির্বাচিত নিউজ

ক্রিকেট

যেভাবে না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন শাপুর জাদরান

যেভাবে না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন শাপুর জাদরান

স্পোর্টস ডেস্ক: আফগানিস্তান ক্রিকেটের অন্যতম পথিকৃৎ ও সাবেক তারকা পেসার শাপুর জাদরান আর নেই। দীর্ঘদিন ...

১৫ ওভারের খেলা শেষ; জিম্বাবুয়ে বনাম বাংলাদেশ ম্যাচ; লাইভ দেখুন এখানে

১৫ ওভারের খেলা শেষ; জিম্বাবুয়ে বনাম বাংলাদেশ ম্যাচ; লাইভ দেখুন এখানে

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের বিপক্ষে চলমান ম্যাচে টসে জিতে আগে ব্যাটিং করছে জিম্বাবুয়ে। ১৫.৬ ওভার শেষে ...

ফুটবল

আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড সেমিফাইনাল নিয়ে জ্যোতিষীর ভবিষ্যদ্বাণী

আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড সেমিফাইনাল নিয়ে জ্যোতিষীর ভবিষ্যদ্বাণী

নিজস্ব প্রতিবেদক: ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের বহুল প্রতীক্ষিত লড়াইকে ঘিরে উত্তেজনা এখন ...

আর্জেন্টিনা নয়, ভিএআরের সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাচ্ছে যে দল

আর্জেন্টিনা নয়, ভিএআরের সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাচ্ছে যে দল

নিজস্ব প্রতিবেদক: ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা কি রেফারিং ও ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) থেকে বিশেষ ...