সোহাগ আহমদে
সিনিয়র রিপোর্টার
কেন ইরানকে বাঁচাতে আসছে না চীন-রাশিয়া
কেন ইরানকে বাঁচাতে আসছে না চীন-রাশিয়া: বন্ধুত্বের আড়ালে স্বার্থের হিসাব
নিজস্ব প্রতিবেদক: ইরানের সাথে রাশিয়া ও চীনের গভীর বন্ধুত্বের গল্প আন্তর্জাতিক মহলে বহুল আলোচিত। রাশিয়াকে ড্রোন সরবরাহ করা থেকে শুরু করে চীনের কাছে সস্তায় তেল বিক্রি—সব মিলিয়ে এক শক্তিশালী ত্রিপক্ষীয় বলয়ের চিত্র ফুটে ওঠে। তবে যখনই ইসরায়েল বা আমেরিকা ইরানের ওপর সরাসরি আঘাত হানে, তখন এই দুই পরাশক্তিকে কেবল নিন্দা আর প্রতিবাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে দেখা যায়। কিন্তু কেন এই নীরবতা?
চীনের বণিক নীতি ও সাইলেন্ট মোড
বিশ্লেষকদের মতে, চীন মূলত একটি বণিক রাষ্ট্র। তারা লাভ বোঝে, কিন্তু সরাসরি যুদ্ধে জড়ানো তাদের নীতির পরিপন্থী। তারা সস্তায় ইরানের তেল কিনছে এবং বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে ঠিকই, কিন্তু সামরিক সহায়তার প্রয়োজন হলে তারা ‘সাইলেন্ট মোড’-এ চলে যায়। এমনকি ইরানি সরকারের পতন ঘটলেও চীন হয়তো নতুন কোনো সরকারের সাথে তেলের চুক্তির ফাইল আগে থেকেই রেডি করে রাখবে।
রাশিয়ার ইউক্রেন কৌশল ও স্বস্তি
ইউক্রেন যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া রাশিয়ার জন্য মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তেজনা এক ধরনের কৌশলগত স্বস্তি। যদি পশ্চিমা বিশ্বের মনোযোগ এবং সামরিক সরঞ্জাম মধ্যপ্রাচ্যে ব্যয় হয়, তবে ইউক্রেনের ওপর চাপ কমবে। তাই পর্দার আড়ালে এই উত্তেজনা দীর্ঘায়িত হওয়া রাশিয়ার জন্য সামরিকভাবে সুবিধাজনক হতে পারে।
চুক্তির সীমাবদ্ধতা ও আইনি বাধ্যবাধকতা
ইরানকে কৌশলগত অংশীদার বললেও রাশিয়া বা চীনের সাথে ইরানের কোনো ‘মিউচুয়াল ডিফেন্স ট্রিটি’ বা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি নেই। অর্থাৎ, একজন আক্রান্ত হলে অন্যজন লড়তে বাধ্য—এমন কোনো প্রতিশ্রুতি না থাকায় ইরান আক্রান্ত হলে রাশিয়ার নিন্দা বা চীনের উদ্বেগ জানানো কেবল একটি রাজনৈতিক আনুষ্ঠানিকতায় পরিণত হয়।
আমেরিকার সামরিক নেটওয়ার্ক ও অর্থনৈতিক ঝুঁকি
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বজুড়ে মার্কিন সামরিক ঘাঁটির যে বিশাল নেটওয়ার্ক রয়েছে, তার তুলনায় রাশিয়া ও চীনের সক্ষমতা এখনো সীমিত। রাশিয়ার সামরিক শক্তির একটি বড় অংশ এখন ইউক্রেনে ব্যস্ত, ফলে ইরানের জন্য নতুন কোনো ফ্রন্টে আমেরিকার মুখোমুখি হওয়া তাদের জন্য আত্মঘাতী হতে পারে। অন্যদিকে, যুদ্ধের কারণে নিজের বিশাল অর্থনীতিকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে মোটেও আগ্রহী নয় চীন।
ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি
সাদ্দাম হোসেন কিংবা মুয়াম্মার গাদ্দাফির সাথেও চীন ও রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। কিন্তু ন্যাটো বা আমেরিকা যখন আক্রমণ করল, তখন এই বন্ধুদেশগুলো কেবল জাতিসংঘে হাত তোলা আর বিবৃতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। ইতিহাস বলছে, আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে কোনো ‘বড় ভাই’ নেই, আছে কেবল ‘বড় খাদক’। ইরান যদি নিজে নিজেকে রক্ষা করতে না পারে, তবে চীনের ড্রাগন আর রাশিয়ার ভাল্লুক শেষ পর্যন্ত কেবল শোকসভাই পালন করবে।
সোহাগ/
আপনার জন্য নির্বাচিত নিউজ
- আর্সেনাল বনাম পিএসজি চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনাল— লাইভ দেখার উপায়
- রাতে ব্রাজিল বনাম পানামা ম্যাচ: যেভাবে দেখবেন লাইভ
- ১ জুলাই থেকে নতুন পে-স্কেল কার্যকর? ২০ গ্রেডে আসছে যেসব বড় পরিবর্তন
- ৯০ মিনিটের খেলা শেষ, বাংলাদেশ বনাম ভারত ম্যাচ: দেখুন ফলাফল
- বেতন বৈষম্য কমাতে নতুন উদ্যোগ, বাড়তি সুবিধা পাচ্ছেন যেসব চাকরিজীবী
- আজকের সোনার বাজারদর: ৩০ মে ২০২৬
- শুরু হল বাংলাদেশ-ভারত মহারণ, বড় ম্যাচ লাইভ দেখুন এখানে
- আজকের সোনার বাজারদর: ৩১ মে ২০২৬
- নতুন পে স্কেলে সরকারি কর্মচারীদের জন্য আসছে ‘মেগা সুখবর’
- জাতিসংঘকে চ্যালেঞ্জ করে শেখ হাসিনার চিঠি; যা জানা গেল
- পানামার বিপক্ষে রাতে মাঠে নামছে ব্রাজিল, খেলা দেখুন এক ক্লিকে
- আজকের সকল দেশের টাকার রেট: ৩১ মে ২০২৬
- যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ড প্রত্যাশীদের জন্য সুখবর
- আরো বাড়বে গরম যেসব জেলায়; ৭ এলাকায় বজ্রবৃষ্টির আভাস
- সন্ধ্যার মধ্যে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের আশঙ্কা
