| ঢাকা, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

এবার সয়াবিন তেলে মিলল ভয়াবহ মাত্রায় মাইক্রোপ্লাস্টিক

জাতীয় ডেস্ক . বিনোদন৬৯.কম
২০২৬ জুলাই ২৯ ০৮:৪০:৫৭
এবার সয়াবিন তেলে মিলল ভয়াবহ মাত্রায় মাইক্রোপ্লাস্টিক

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন বাজার থেকে সংগ্রহ করা বোতলজাত ও খোলা সয়াবিন তেলে উদ্বেগজনক মাত্রায় মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এক যৌথ গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি লিটার সয়াবিন তেলে গড়ে ৫৩ হাজার ৯২২টি ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা রয়েছে। গবেষণায় আরও উঠে এসেছে, বোতলজাত তেলের তুলনায় খোলা তেলে দূষণের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) এবং বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) গবেষকদের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এই গবেষণাটি সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী *জার্নাল অব ফুড কম্পোজিশন অ্যান্ড অ্যানালাইসিস*-এ প্রকাশিত হয়েছে।

গবেষণার জন্য ঢাকার তেজগাঁও, উত্তরা ও ক্যান্টনমেন্ট এলাকার বিভিন্ন সুপারশপ ও খোলা বাজার থেকে মোট ৬০টি সয়াবিন তেলের নমুনা সংগ্রহ করে আধুনিক পরীক্ষাগারে বিশ্লেষণ করা হয়। এতে দেখা যায়, খোলা সয়াবিন তেলে প্রতি লিটারে গড়ে ৫৯ হাজার ৭৭৮টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা রয়েছে, যা বোতলজাত তেলের তুলনায় প্রায় ১.২৪ গুণ বেশি। বিশেষ করে তেজগাঁও এলাকার খোলা তেলের নমুনায় দূষণের মাত্রা ছিল সর্বোচ্চ।

গবেষকদের মতে, শিল্পকারখানার ঘনত্ব, প্লাস্টিক ও টেক্সটাইল কারখানার নিকটবর্তী অবস্থান এবং একই পাত্রে বারবার খোলা তেল সংরক্ষণের কারণে এই দূষণ বেড়ে থাকতে পারে।

পরীক্ষায় তেলের নমুনায় ছয় ধরনের প্লাস্টিক পলিমার শনাক্ত হয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে এলডিপিই, এইচডিপিই, পলিপ্রোপিলিন, পিইটিই, পলিইউরেথেন এবং নাইলন। গবেষকদের দাবি, ভোজ্যতেলে পলিইউরেথেন ও নাইলনের উপস্থিতি এই প্রথম কোনো গবেষণায় শনাক্ত হলো। পাওয়া কণাগুলোর প্রায় ৮২.৫ শতাংশই ফাইবারজাতীয়, আর বেশিরভাগের আকার ছিল ১০১ থেকে ৫০০ মাইক্রোমিটারের মধ্যে।

গবেষণায় মানবদেহে সম্ভাব্য ঝুঁকির বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। হিসাব অনুযায়ী, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ প্রতিদিন গড়ে ১৭.৬৫টি এবং বছরে প্রায় ৬ হাজার ৪৪১টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা গ্রহণ করছেন। শিশুদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও বেশি। তারা প্রতিদিন গড়ে ৭৭.২১টি এবং বছরে প্রায় ২৮ হাজার ১৮০টি প্লাস্টিক কণা গ্রহণ করতে পারে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মাইক্রোপ্লাস্টিক দীর্ঘমেয়াদে পরিপাকতন্ত্র, হরমোনের ভারসাম্য, প্রদাহ এবং কোষের ক্ষতির মতো নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে ১৩০ মাইক্রোমিটারের চেয়ে ছোট কণাগুলো রক্তপ্রবাহে প্রবেশের ঝুঁকি বহন করে।

গবেষণা দলের প্রধান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. শফি মুহাম্মদ তারেক বলেন, মাইক্রোপ্লাস্টিক বর্তমানে মানবস্বাস্থ্যের জন্য একটি বড় উদীয়মান হুমকি। তাই প্লাস্টিক বর্জ্যের কার্যকর ব্যবস্থাপনা, পুনর্ব্যবহার বৃদ্ধি এবং খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজারজাতকরণের প্রতিটি ধাপে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করা জরুরি।

এর আগে দেশের বাজারে প্রচলিত বিভিন্ন ব্র্যান্ডের টুথপেস্টেও মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছিল। ফলে বিশেষজ্ঞদের মতে, খাদ্য ও দৈনন্দিন ব্যবহারের পণ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণ রোধে দ্রুত কার্যকর নীতিমালা ও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এখন সময়ের দাবি।

সিদ্দিকা/

আপনার জন্য নির্বাচিত নিউজ

ক্রিকেট

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাড়ছে দলের সংখ্যা, ৩২ দলের লক্ষ্যে এগোচ্ছে আইসিসি

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাড়ছে দলের সংখ্যা, ৩২ দলের লক্ষ্যে এগোচ্ছে আইসিসি

নিজস্ব প্রতিবেদক: টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে আরও বৈশ্বিক ও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলতে বড় পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে আন্তর্জাতিক ...

১৫ ওভারের খেলা শেষ; জিম্বাবুয়ে বনাম বাংলাদেশ ম্যাচ; লাইভ দেখুন এখানে

১৫ ওভারের খেলা শেষ; জিম্বাবুয়ে বনাম বাংলাদেশ ম্যাচ; লাইভ দেখুন এখানে

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের বিপক্ষে চলমান ম্যাচে টসে জিতে আগে ব্যাটিং করছে জিম্বাবুয়ে। ১৫.৬ ওভার শেষে ...

ফুটবল

আরো একটি ফাইনালে বাংলাদেশ

আরো একটি ফাইনালে বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক: কাভা মেনস সেন্ট্রাল ভলিবল চ্যাম্পিয়নশিপে দুর্দান্ত ছন্দ ধরে রেখে ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে ...

ভিনিসিয়ুসের নতুন ঠিকানা কি আর্সেনাল!

ভিনিসিয়ুসের নতুন ঠিকানা কি আর্সেনাল!

নিজস্ব প্রতিবেদক: গ্রীষ্মকালীন দলবদলের বাজারে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের নাম। ব্রাজিলিয়ান এই ...